প্যান্টের পকেটে স্মার্টফোন রাখেন? শুক্রাণুর ক্ষতি নিয়ে যা বলছে গবেষণা
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্মার্টফোন এখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চাকরি, যোগাযোগ, ইন্টারনেট ব্যবহার কিংবা ব্যাংকিং—প্রায় সব কাজেই এর প্রয়োজন হয়। পুরুষদের অনেকেই প্যান্টের সামনের পকেটে মুঠোফোন রাখেন। তবে এই অভ্যাস শুক্রাণুর গুণমান ও পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন গবেষকেরা। যদিও মুঠোফোন ব্যবহার সরাসরি বন্ধ্যত্বের কারণ—এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
ভারতের ডেম হেলথের প্রতিষ্ঠাতা এবং রিনিউ হেলথ কেয়ারের স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যত্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. রাজীব আগরওয়াল এ বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, বিষয়টি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে গবেষণায় উঠে আসা সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলোও উপেক্ষা করা উচিত নয়।
শুক্রাণুর ওপর মুঠোফোনের প্রভাব নিয়ে একাধিক গবেষণা ও বিশ্লেষণ হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি গবেষণা এবং চার হাজারের বেশি বীর্যের নমুনা নিয়ে করা একটি বিশ্লেষণে মুঠোফোনের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বিকিরণের সংস্পর্শের সঙ্গে শুক্রাণুর গতিশীলতা ও কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
বিশেষ করে প্যান্টের সামনের পকেটে ফোন রাখলে সেটি অণ্ডকোষের কাছাকাছি অবস্থান করে। কিছু গবেষণায় এ ধরনের অভ্যাসের সঙ্গে শুক্রাণুর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবের ইঙ্গিত মিলেছে। গবেষকেরা এর পেছনে দুটি সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করেছেন।
প্রথমত, মুঠোফোন থেকে নির্গত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বিকিরণ শুক্রাণুর কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করতে পারে। শরীরে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেল এবং সেগুলো নিষ্ক্রিয় করতে কাজ করা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে শুক্রাণুর কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
দ্বিতীয়ত, মুঠোফোন থেকে উৎপন্ন তাপ অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। সুস্থ শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য অণ্ডকোষের তাপমাত্রা শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম থাকা প্রয়োজন। তাপমাত্রা বেড়ে গেলে শুক্রাণুর উৎপাদন ও স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এসব তথ্যের বড় অংশই গবেষণাগারে পরিচালিত পরীক্ষার ফলাফল থেকে পাওয়া। বাস্তব জীবনে মুঠোফোন ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে করা গবেষণায় ভিন্ন চিত্রও উঠে এসেছে।
ডা. রাজীব আগরওয়াল জানান, সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছেন এমন দম্পতিদের নিয়ে পরিচালিত একটি সুপরিকল্পিত গবেষণায় পকেটে মুঠোফোন রাখার অভ্যাসের সঙ্গে শুক্রাণুর গুণমান কিংবা গর্ভধারণে প্রয়োজনীয় সময়ের কোনো সুস্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। ফলে মুঠোফোন ব্যবহারকে বন্ধ্যত্বের প্রমাণিত কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
শুক্রাণুর গুণমান ও স্বাস্থ্যের অবনতিতে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে কো-এনজাইম কিউ টেন সাপ্লিমেন্ট নিয়ে গবেষণায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এটি গ্রহণ করলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাত্রা কমতে পারে এবং শুক্রাণুর গতিশীলতা বাড়তে পারে।
চিকিৎসকের মতে, মুঠোফোনের বিকিরণের কারণে শুক্রাণুর কোষে যে অক্সিডেটিভ ক্ষতি হতে পারে, কো-এনজাইম কিউ টেন সেই জৈবিক প্রক্রিয়ার ওপর কাজ করে। তবে এটি মুঠোফোনের বিকিরণজনিত ক্ষতি প্রতিরোধের প্রমাণিত প্রতিষেধক নয়। সামগ্রিকভাবে শুক্রাণুর স্বাস্থ্য উন্নয়নে এর সম্ভাব্য কার্যকারিতার পক্ষে গবেষণায় কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই ও লাইকোপেনের মতো উপাদান শুক্রাণুর স্বাস্থ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিভিন্ন র্যান্ডমাইজড ট্রায়ালে উঠে এসেছে। জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম শুক্রাণুর ঘনত্ব ও গঠনগত বৈশিষ্ট্য উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, লাইকোপেন অক্সিডেটিভ কারণে ডিএনএর ক্ষতি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
পুরুষের প্রজননক্ষমতা-সংক্রান্ত চিকিৎসায়ও এসব উপাদান ব্যবহৃত হয়। তবে শুক্রাণুর সংখ্যা বা গুণমান কমে গেলে শুধু মুঠোফোন ব্যবহারকেই এর কারণ মনে করা ঠিক নয়। বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণেও এমনটি হতে পারে। তাই এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে, পকেটে মুঠোফোন রাখলেই বন্ধ্যত্ব হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে ফোন দীর্ঘ সময় শরীরের খুব কাছাকাছি না রাখার মতো সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
