ধূমপানে কেন কালো হয় ঠোঁট? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এ কথা আমরা সবাই জানি। তবে এর ক্ষতিকর প্রভাব শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের মুখে ও ঠোঁটেও। অনেক ধূমপায়ীই লক্ষ্য করেন যে ধীরে ধীরে তাদের ঠোঁটের স্বাভাবিক গোলাপি বা লালচে ভাব হারিয়ে গিয়ে তা কালো বা কালচে হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ধূমপান কীভাবে ঠোঁটের রঙ বদলে দেয়?
ঠোঁট কালো হওয়ার পেছনের কারণগুলো কী?
অতিরিক্ত রঞ্জক পদার্থ (মেলানিন): সিগারেটের ধোঁয়া ও নিকোটিনে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ত্বকের মেলানোসাইট নামক কোষকে উদ্দীপিত করে। এই কোষগুলো অতিরিক্ত মেলানিন তৈরি করে, যা ত্বকে ও ঠোঁটে কালো দাগ ফেলে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ‘স্মোকার্স মেলানোসিস’ বলা হয়।
বারবার জ্বালাপোড়া: সিগারেটের তাপ এবং ধোঁয়া ঠোঁটের খুব পাতলা ও সংবেদনশীল ত্বকে বারবার জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ তৈরি করে। ক্ষত সেরে ওঠার সময় সেখানে কালো দাগ বসে যায়, যাকে পোস্ট-ইনফ্ল্যামেটরি হাইপারপিগমেন্টেশন বলা হয়।
রক্তপ্রবাহে ঘাটতি: ধূমপান ঠোঁটকে শুষ্ক করে তোলে এবং ছোট রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে। এর ফলে ঠোঁটে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ হয় না এবং কোষের নিরাময় প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।
সূর্যের আলোর ক্ষতিকর প্রভাব: ঠোঁটের ত্বকে প্রাকৃতিক সুরক্ষামূলক মেলানিন ও তেল গ্রন্থি খুব কম থাকে। ফলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ধূমপানের কারণে তৈরি হওয়া কালো দাগগুলোকে আরও গভীর করে তোলে।
গবেষণা কী বলছে?
২০২২ সালে ‘গ্লোবাল মেডিকেল অ্যান্ড হেলথ কমিউনিকেশন’-এ প্রকাশিত একটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপানের সঙ্গে ঠোঁট, মাড়ি ও দাঁতের বিবর্ণতার একটি জোরালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে সবার ঠোঁট সমানভাবে কালো হয় না। জিনগত বৈশিষ্ট্য, ত্বকের ধরন, রোদে সময় কাটানো এবং কতদিন ধরে ও কী পরিমাণে ধূমপান করা হচ্ছে—এসব বিষয়ের ওপরও বিষয়টি নির্ভর করে।
অন্যান্য কারণেও কি ঠোঁট কালো হতে পারে?
অবশ্যই। সব সময় ধূমপানই এর জন্য দায়ী নয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, নিম্নমানের প্রসাধনী বা লিপস্টিক ব্যবহার, অ্যালার্জি, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ, শরীরে আয়রন বা ভিটামিনের ঘাটতি এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণেও ঠোঁট কালো হতে পারে।
ধূমপান ছাড়লে কি ঠোঁটের রং আগের মতো ফিরে আসে?
ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পর সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে ঠোঁটের রং আবার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে যারা দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মাত্রায় ধূমপান করে আসছেন, তাদের ঠোঁটের রঙ পুরোপুরি আগের মতো নাও ফিরতে পারে।
প্রসঙ্গত, সাধারণত স্মোকার্স মেলানোসিস ক্ষতিকারক নয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, ঠোঁটের যেকোনো কালো ছোপকে সবসময় পুরোপুরি নিরীহ ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
২০২৩ সালে ‘নাইজেরিয়ান ডেন্টাল জার্নাল’-এর একটি পর্যালোচনায় চিকিৎসকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, মুখের যেকোনো অস্বাভাবিক কালো দাগ বা পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনে বায়োপসি করার কথা বিবেচনায় রাখা হয়। তাই ঠোঁটের যেকোনো পরিবর্তন নিয়ে নিজে নিজে কোনো ধারণা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

