ঠান্ডা লাগলে হঠাৎ কেন বদলে যায় কণ্ঠস্বর?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সকালে ঘুম থেকে উঠে কথা বলতে গিয়ে মনে হয়, আমার গলার স্বর স্বাভাবিক না। আওয়াজ যেন হারিয়ে গেছে। এটা শুধু আমার না, এরকম কণ্ঠস্বর অনেকেরই হয়। কারও হয়ে যায় কর্কশ, আবার কারও কথা বলতেই কষ্ট হয়। কিন্তু ঠান্ডা লাগলে কেন এমন হয়?
এর পেছনে রয়েছে অনেক কারণ। আমাদের স্বরযন্ত্রের বিশেষ একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। ঠান্ডা লাগলে স্বরযন্ত্রে হঠাৎ গলা বসে যাওয়া এবং কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছি— ল্যারিঞ্জাইটিস বা স্বরযন্ত্রের প্রদাহ। আমাদের গলার ভেতরে থাকা ল্যারিন্স বা স্বরযন্ত্রের মধ্যে দুটি পেশিবহুল পর্দা থাকে, যাদের ভোকাল কর্ড বা স্বরতন্ত্রী বলা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় আমরা যখন কথা বলি, তখন ফুসফুস থেকে বাতাস বের হওয়ার সময় এই ভোকাল কর্ডগুলো কাঁপে বা কম্পিত হয়, যার ফলে কণ্ঠস্বর তৈরি হয়।
ঠান্ডা লাগলে কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়ার পেছনের মূল শারীরিক প্রক্রিয়াগুলো নিচে আলোচনা করা হলো—
স্বরাঙ্গ বা ভোকাল কর্ডের ফোলাভাব। আর সর্দি-কাশি বা ভাইরাল সংক্রমণের কারণে স্বরযন্ত্রে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন তৈরি হয়। এতে ভোকাল কর্ড বা স্বরতন্ত্রীগুলো ফুলে ভারি হয়ে যায়।
১. স্বাভাবিক কম্পনে বাধা
কর্ডগুলো ফুলে যাওয়ার ফলে বাতাস চলাচলের সময় সেগুলো স্বাভাবিকভাবে কাঁপতে বা ভাইব্রেট করতে পারে না। ফলে গলার আওয়াজ কর্কশ, ফিসফিসে বা ফ্যাসফ্যাসে হয়ে যায়, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হোর্সনেস নামে পরিচিত।
২. শ্লেষ্মা বা মিউকাসের প্রভাব
ঠান্ডা লাগলে গলার পেছনে অতিরিক্ত শ্লেষ্মা বা কফ জমা হয়। এর ফলে স্বরযন্ত্রের পিচ্ছিলভাব বা লুব্রিকেশন কমে যায় এবং কথা বলার সময় ঘষা লেগে স্বর আরও খসখসে হয়ে ওঠে।
৩. অতিরিক্ত চাপ
নাক বন্ধ থাকার কারণে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া এবং অনবরত কাশির ফলে ভোকাল কর্ডের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, যা গলার স্বরকে সাময়িকভাবে পুরোপুরি থামিয়ে দিতে পারে।
গলা বসে গেলে দ্রুত সুস্থ হওয়ার ঘরোয়া উপায়
সাধারণত ঠান্ডা জনিত কারণে গলা বসলে তা ১-২ সপ্তাহের মধ্যে ভয়েস রেস্ট ও সাধারণ যত্নে ঠিক হয়ে যায়—
১. কণ্ঠস্বরের সম্পূর্ণ বিশ্রাম
জোরে কথা বলা, চিৎকার করা— এমনকি ফিসফিস করে কথা বলা থেকেও বিরত থাকুন। ফিসফিস করে কথা বললে ভোকাল কর্ডে আরও বেশি চাপ পড়ে।
২. লবণপানির গড়গড়া
হালকা গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে দিনে অন্তত ৪ বার কুলকুচি বা গড়গড়া (গার্গল) করুন। এটি গলার ফোলাভাব ও অস্বস্তি কমায়।
৩. গরম পানির ভাপ (স্টিম ইনহেলেশন)
ফুটন্ত গরম পানির বাষ্প মুখ ও গলা দিয়ে দিনে ১০ মিনিট টেনে নিন। এতে স্বরতন্ত্রীর শুষ্কতা দূর হয়।
৪. পর্যাপ্ত তরল ও আদা-লেবু চা
সারাদিন কুসুম গরম পানি পান করুন। লেবু ও আদা চা গলার ইনফেকশন কমাতে দারুণ সাহায্য করে।
কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?
গলার স্বর পরিবর্তন হওয়া সাধারণ মনে হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ গলার স্বর যদি তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বসে থাকে। তবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। আর কথা বলার সময় বা গিলতে তীব্র ব্যথা হলে কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে। আবার কাশির সঙ্গে রক্ত এলে কিংবা ঘাড় বা গলায় কোনো চাকা বা পিণ্ড দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণপন্ন হওয়া উচিত।

-6ae70c5272f8a.jpg)