অকারণে বারবার মোবাইল দেখার অভ্যাসের নেপথ্যে কী?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নতুন কোনো বার্তা বা নোটিফিকেশন আসেনি, তবু কিছুক্ষণ পরপর মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে স্ক্রিন দেখা—অনেকের দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত অভ্যাস। কখনো অকারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোরাঘুরি, আবার কখনো একই অ্যাপ বারবার খুলে দেখা। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে মস্তিষ্কের পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা, একঘেয়েমি ও মানসিক উদ্দীপনার চাহিদা।
বারবার ফোন দেখার কারণ কী?
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কোনো নোটিফিকেশন না থাকলেও ফোন দেখার প্রবণতা মূলত মস্তিষ্কের পুরস্কার পাওয়ার ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি শেখা আচরণ। প্রতিবার ফোন আনলক করার সময় নতুন কোনো বার্তা, আকর্ষণীয় খবর কিংবা আনন্দদায়ক কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই অনিশ্চয়তাই মানুষকে বারবার ফোন দেখতে উৎসাহিত করে।
তারা জানান, নতুন কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হলেও বাস্তবে সব সময় কোনো নোটিফিকেশন আসে না। তারপরও মস্তিষ্ক সম্ভাব্য পুরস্কারের অপেক্ষায় থাকে। ধীরে ধীরে ফোন পরীক্ষা করার বিষয়টি সচেতন সিদ্ধান্তের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় অভ্যাসে পরিণত হয়।
একঘেয়েমি ও উদ্বেগের প্রভাব
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একঘেয়েমি, উদ্বেগ এবং অবসর সময় কাটাতে অস্বস্তিও এই অভ্যাসের অন্যতম কারণ। অনেকেই একাকিত্ব, অনিশ্চয়তা কিংবা মানসিক অস্বস্তির মুহূর্তে ফোনের আশ্রয় নেন। বার্তা দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কিংবা বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে সাময়িক বিনোদন খোঁজেন।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কোনো বার্তা, সামাজিক আপডেট কিংবা সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থেকেও বারবার ফোন দেখার প্রবণতা তৈরি হয়। মনোবিজ্ঞানে একে ‘ফিয়ার অব মিসিং আউট’ বা ফোমো বলা হয়। আশপাশের মানুষকে ফোন ব্যবহার করতে দেখা কিংবা হাতের কাছেই ফোন রেখে দেওয়াও এ অভ্যাসকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
কখন বুঝবেন অভ্যাসটি সমস্যা হয়ে উঠছে?
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মাঝেমধ্যে ফোন দেখা এবং এমনভাবে ফোন ব্যবহার করা, যা দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটায়—দুটি বিষয় এক নয়। ফোন থেকে দূরে থাকলে অস্থিরতা অনুভব করা, কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা কিংবা বন্ধ করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বারবার ফোন পরীক্ষা করা অভ্যাসটি গভীর হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
যেভাবে কমাবেন ফোন দেখার প্রবণতা
এ অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য ফোন পুরোপুরি ব্যবহার বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং কোন পরিস্থিতিতে ফোন দেখার তাগিদ তৈরি হচ্ছে, তা বোঝা জরুরি। অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় ফোন হাতের নাগালের বাইরে রাখা এবং কিছুক্ষণ কোনো ডিজিটাল উদ্দীপনা ছাড়াই সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ।
তার মতে, নিজের আচরণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে পারলে অপ্রয়োজনীয় ফোন ব্যবহারের প্রবণতা কমানো এবং দৈনন্দিন কাজে মনোযোগ বাড়ানো সম্ভব।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

-6ae7344d45096.jpg)