Logo
Logo
×

Advertisement

সাহিত্য

বাংলা একাডেমিতে আবেদন

ঈদের পর বইমেলার দাবি প্রকাশকদের

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০১ পিএম

ঈদের পর বইমেলার দাবি প্রকাশকদের

বইমেলা। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

পবিত্র রমজান মাসের মধ্যে নয়। ঈদুল ফিতরের পর ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন দেশের প্রায় তিন শতাধিক সৃজনশীল প্রকাশক। তারা বলছেন, বর্তমান বাস্তবতায় ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ এবং প্রকাশনা শিল্পকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে। রোববার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বরাবর এক লিখিত আবেদনে এই দাবি জানানো হয়। 

আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, সর্বস্তরের সৃজনশীল প্রকাশকদের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করে অমর একুশে বইমেলা আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যা প্রকাশনা শিল্পের জন্য ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্ত হতে পারে।

প্রকাশকরা জানান, বইমেলা কোনো সরকারি রুটিন ওয়ার্ক বা আমলাতান্ত্রিক আয়োজন নয়। এটি লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের মিলনমেলা। জাতীয় নির্বাচনের পরপরই এবং রোজার মধ্যে মেলা আয়োজন করলে তার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে বলে তারা মনে করেন।

ঈদের পর মেলা চাওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তারা বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হলে পবিত্র মাহে রমজান মাসে পাঠক শূন্যতার সম্ভবনা রয়েছে । রোজার দিনে তীব্র গরম ও যানজট উপেক্ষা করে পাঠকেরা মেলায় আসবেন না। এমন আশঙ্কা প্রকাশকদের। তাদের মতে, পাঠকহীন মেলা প্রকাশক ও আয়োজক উভয়ের জন্যই বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে। এছাড়া মেলার স্টলে সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাজ করেন। সারা দিন রোজা রেখে, ইফতার ও তারাবির সময় দায়িত্ব পালন করানোকে প্রকাশকরা অমানবিক বলে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন, কর্মীদের এমন কষ্টের মধ্যে ফেলতে তারা রাজি নন। গত দেড় বছরে প্রকাশনা শিল্প চরম মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন প্রকাশকরা। এই পরিস্থিতিতে আরেকটি সম্ভাব্য অসফল মেলায় অংশ নিয়ে অবশিষ্ট পুঁজি হারানোর ঝুঁকি নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

এদিকে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে এপ্রিল মাসে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হলেও প্রকাশকরা জানিয়েছেন, ঈদের পরে মেলা হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি তারা নিতে প্রস্তুত। তবে রমজানের মধ্যে নিশ্চিত ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা জেনেশুনে তারা মেনে নিতে পারবেন না। তারা আরও স্মরণ করিয়ে দেন, করোনাকালেও এপ্রিল মাসে বইমেলা আয়োজনের নজির রয়েছে।

প্রকাশকরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনপরবর্তী বাস্তবতা ও পবিত্র রমজান মাসের কারণে ফেব্রুয়ারিতে মেলা আয়োজন করা হলে ব্যবসায়িক ও মানবিক ঝুঁকি বিবেচনায় তারা এতে অংশগ্রহণ করবেন না। তবে ঈদুল ফিতরের পর মেলা হলে তারা স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে অংশ নেবেন এবং আয়োজন সফল করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

সরকারের নীতিনির্ধারক মহল ও বাংলা একাডেমির প্রতি প্রকাশকদের আহ্বান-জনস্বার্থ ও শিল্পের টিকে থাকার প্রশ্ন বিবেচনায় নিয়ে বইমেলা ঈদের পর আয়োজন করা হোক, যখন উৎসবমুখর পরিবেশে পাঠকেরা বই কিনতে আগ্রহী থাকবেন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র বিক্রি বন্ধ করবে না ইউপিএল

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র বিক্রি বন্ধ করবে না ইউপিএল

শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬ পেল ‘মাত্রাপ্রকাশ’

শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬ পেল ‘মাত্রাপ্রকাশ’

অমর একুশে বইমেলার পর্দা নামছে আজ

অমর একুশে বইমেলার পর্দা নামছে আজ

এম এম বাদশাহ’র নতুন বই ‘গোপন স্বপ্নের খোঁজে’

এম এম বাদশাহ’র নতুন বই ‘গোপন স্বপ্নের খোঁজে’

আজ ও কাল শিশুদের, পরশু ভাঙছে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির মেলা

অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ আজ ও কাল শিশুদের, পরশু ভাঙছে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির মেলা

তৌহিদুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ ‘হৃদয় পোড়া গন্ধ’

তৌহিদুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ ‘হৃদয় পোড়া গন্ধ’

আরও পড়ুন

সৃজন পাঠচক্রে ‘সাড়া দাও প্রাচীন পাথর’ ও ‘বৈষম্যের ধারণা’

সৃজন পাঠচক্রে ‘সাড়া দাও প্রাচীন পাথর’ ও ‘বৈষম্যের ধারণা’

সহস্র বছরের দূরত্ব

সহস্র বছরের দূরত্ব

ছন্দে ছন্দে গণহত্যার ইতিহাস

ছন্দে ছন্দে গণহত্যার ইতিহাস

ঐতিহ্য প্রকাশ করবে কবি ও সম্পাদক ‘আবদুল হাই শিকদার-রচনাবলী’

ঐতিহ্য প্রকাশ করবে কবি ও সম্পাদক ‘আবদুল হাই শিকদার-রচনাবলী’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম