শিল্পকলা একাডেমির বিশেষ সম্মাননায় সিক্ত সৈয়দ আব্দুল হাদী
সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের জীবন্ত কিংবদন্তি, কালজয়ী কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও লালনে অসামান্য অবদান রাখা গুণীজনদের যথাযথ মূল্যায়নের লক্ষ্যে এ আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি। অনুষ্ঠানের শুরুতে সৈয়দ আব্দুল হাদীর জীবন, কর্ম ও সংগীতজীবন নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বরণ করে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ডা. জাহেদ উর রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর আহ্বায়ক হেলাল খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘আমাদের সংগীতের জগতকে তিনি এমনভাবে সমৃদ্ধ করেছেন যে বাংলা গানের উচ্চতা এখন নির্ণিত হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর কণ্ঠস্বরকে ঘিরে। একজন তরুণ শিল্পীর গান কতটা ভালো হয়েছে, তা অনেক সময় তার গানের সঙ্গে তুলনা করেই মূল্যায়ন করা হয়। এমন সংগীতপ্রেমী মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন, যিনি অন্তত একবারও সৈয়দ আব্দুল হাদীর কোনো গান গেয়ে ওঠেননি।’
আলোচনায় বক্তারা সৈয়দ আব্দুল হাদীর দীর্ঘ সংগীতজীবন, শিল্পনিষ্ঠা এবং বাংলা গানের বিকাশে তার অনন্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘বিগত সময়ে আমাদের সংস্কৃতির অনেক ক্ষতি হয়েছে। কোথাও যেন যত্ন নেই, আধুনিক পরিকল্পনা নেই। সেখান থেকে সংস্কৃতিকে তুলে আনতে আমরা সংস্কৃতি অঙ্গনকে ঢেলে সাজাতে চাই। রবীন্দ্রনাথ-নজরুল থেকে শুরু করে সব সাংস্কৃতিক ধারাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে চাই।’
সম্মাননা গ্রহণ করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন সৈয়দ আব্দুল হাদী। তিনি বলেন, ‘আমি সকলের প্রশংসায় আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়েছি। আমি সকলের প্রতি অনুরোধ জানাই, আমরা যেন আমাদের ভারে দেশটাকে ভারাক্রান্ত না করে ফেলি। সবাই যেন দেশটাকে ভালোবাসি।’
সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় ‘গীতসন্ধ্যা’। এ পর্বে নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা সৈয়দ আব্দুল হাদীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান পরিবেশন করেন। এতে অংশ নেন আব্দুল্লাহহেল রাফি তালুকদার, স্মরণ, নোলক বাবু, অনন্যা আচার্য, পিয়াল হাসান, নুজহাত সাবিহা পুষ্পিতা, অপু আমান, সোহানুর রহমান, স্বরলিপি, রাশেদ, রাকা পপি, আজিজুল বারী (সিপু), মুহাম্মদ আনিসুর রহমান ও আতিকসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘আছেন আমার মোক্তার’ ও ‘সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি’ গান দুটি।
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে নিজস্ব কণ্ঠমাধুর্য, শিল্পসত্তা ও অনবদ্য পরিবেশনার মাধ্যমে বাংলা গানকে সমৃদ্ধ করে আসছেন সৈয়দ আব্দুল হাদী। তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বরেণ্য এ কণ্ঠশিল্পীকে এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে।
