বিপিসি চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে ‘চুক্তি’, স্বাক্ষর জালের অভিযোগে বেবিচক সদস্যের মামলা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (প্রশাসন) এসএম লাবলুর রহমানের স্বাক্ষর জাল করে ‘ভুয়া চুক্তিনামা’ ও ‘সম্মতিপত্র’ তৈরির অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গত সোমবার (২২ জুন) তিনি নিজেই মামলাটি করেছেন।
বুধবার (২৪ জুন) বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বেবিচক সদস্য লাবলুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আমার স্বাক্ষর জাল করে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য-সংবলিত নথি তৈরি করা হয়েছে। আমি কখনোই এ ধরনের গর্হিত, অনৈতিক কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারি না। তিনি দাবি করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন এবং বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি দায়িত্বে থেকে আমি সবসময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করেছি। তাই এ ধরনের জালিয়াতির ঘটনা শুধু আমার ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আমি আশা করছি।
বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সত্যতা যাচাই, স্বাক্ষর পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এসএম লাবলুর রহমানকে প্রথম পক্ষ এবং ফাহাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে দ্বিতীয় পক্ষ দেখিয়ে একটি চুক্তিনামা তৈরি করা হয়। ওই চুক্তিনামায় উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ লাভের ক্ষেত্রে ফাহাদ হোসেনকে অর্থ প্রদান করা হবে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নথিতে এসএম লাবলুর রহমানের স্বাক্ষর সম্পূর্ণ ‘জাল’ করা হয়েছে।
এছাড়া তার নামে একটি পৃথক সম্মতিপত্রও তৈরি করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওই নথিতেও তার স্বাক্ষর ‘জাল’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে নিজের ব্যক্তিগত সুনাম, পেশাগত মর্যাদা এবং সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে আইনের আশ্রয় নেন তিনি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগে উল্লিখিত নথিগুলোর উৎস, প্রস্তুতকারক এবং এগুলো কার মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে, সে বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
