বেবিচকে পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন, বিধি মানার দাবি কর্মকর্তাদের
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার অভিযোগনামা দাখিল, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় চার্জশিট দাখিল কিংবা ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার না হলে শুধু মামলা বা তদন্ত চলমান থাকার কারণে তার পদোন্নতি আটকে রাখার সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তারা।
এ দাবিতে রোববার বেবিচকের সদর দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা থাকা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী কোনো আইনগত বাধা নেই।
স্মারকলিপিতে বেবিচক কর্মকর্তারা ২০১১ সালের ৪ মে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের সংশ্লিষ্ট বিধানের কথা তুলে ধরেছেন।
তাদের মতে, বিচারাধীন ও দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতির বিষয়ে ওই গেজেটে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ফলে বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি স্থগিত রাখার মতো নির্দিষ্ট কোনো আইনগত কারণ না থাকলে কোনো কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে রাখা হলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ গেজেটের ৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার অভিযোগনামা দাখিল, দুদক কর্তৃক দায়ের করা মামলায় চার্জশিট দাখিল, ফৌজদারি মামলা দায়েরের সরকারি অনুমোদন অথবা এ ধরনের মামলায় গ্রেফতার হলে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা যাবে না।
তিনি বলেন, দুদক বা পুলিশের তদন্ত কিংবা অনুসন্ধান চলমান থাকলেই কোনো কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে রাখার কথা ওই বিধানে বলা হয়নি। অর্থাৎ শুধু তদন্ত বা অনুসন্ধান চলমান থাকার কারণে পদোন্নতি বন্ধ রাখার আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই।
বেবিচকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিধানটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার অভিযোগনামা দাখিল হয়নি, দুদকের মামলায় চার্জশিট হয়নি কিংবা সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হননি, তাদের পদোন্নতি আটকে রাখার সুযোগ সীমিত। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা ও পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে তাঁদের পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে।
গেজেটের ৫(২) ধারায় দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ওপর দণ্ড আরোপ করা হলে দণ্ড ভোগের মেয়াদ শেষে লঘুদণ্ডের ক্ষেত্রে এক বছর এবং গুরুদণ্ডের ক্ষেত্রে দুই বছর তিনি পদোন্নতির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না। আর দণ্ডের মেয়াদ নির্দিষ্ট থাকলে ওই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই নির্ধারিত সময় গণনা হবে।
অন্যদিকে, গেজেটের ৫(৪) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা বিভাগীয় মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলে, দোষী সাব্যস্ত না হলে অথবা দুদক কিংবা ফৌজদারি মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলে পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে তাকে পরবর্তী পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা যাবে। একই সঙ্গে তিনি ধারণাগত জ্যেষ্ঠতাও পাওয়ার যোগ্য হবেন।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, চাকরিবিধিতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে মামলা, অভিযোগ, তদন্ত ও দণ্ডের বিষয়গুলো আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে কোনো কর্মকর্তা কেবল তদন্ত বা অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছেন—এমন কারণ দেখিয়ে তার পদোন্নতি অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখা বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
কর্মকর্তাদের দাবি, যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার অভিযোগনামা নেই, দুদকের মামলায় চার্জশিট হয়নি কিংবা ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার বা অভিযুক্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই এবং যারা পদোন্নতির অন্যান্য শর্ত পূরণ করেন, তাদের পদোন্নতি বিলম্বিত করার যৌক্তিকতা নেই। বিধি অনুযায়ী যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তারা আহ্বান জানিয়েছেন।
