বন্ধের ঝুঁকিতে ২১২ নগর মাতৃসদন ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বড় সংকটে পড়বেন নগরের দরিদ্র মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে স্বল্পমূল্য ও বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশু টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনাসহ জরুরি সেবার ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। একই সঙ্গে এসব কেন্দ্রে কর্মরত ৩ হাজার ৪৭২ জন দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর চাকরি অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে নগর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ না করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এই কথা বলেন তারা। কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পূওর’র (কাপ) সহযোগিতায় এর আয়োজন করে বিওএসসি নগর দরিদ্র বস্তিবাসীদের কেন্দ্রীয় ফেডারেশন ও সেফ হেল্প গ্রুপ নেটওয়ার্ক পথবাসী ও ঝুঁপড়িবাসীদের ফেডারেশন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর অধীনে বর্তমানে ১২ সিটি করপোরেশন এবং ২১ পৌরসভায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। ৩ হাজার ৪৭২ দক্ষ জনবল ১৭ মিলিয়নের বেশি নাগরিককে নিয়মিত মানসম্মত সেবা দিচ্ছে। নগর মাতৃসদন ও নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে ১৬টির বেশি স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হয়। অতি দরিদ্র জনগণের জন্য রেড কার্ডের মাধ্যমে ৩০ শতাংশ সেবা গ্রহীতাকে বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হয়, যা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২২ এপ্রিল সরকারের ক্যাবিনেট ডিভিশনের সভায় নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার থেকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান বন্ধ করা হয়েছে। তবে গত ১ জুলাইয়ের পর সংশ্লিষ্টরা মানবিক কারণে সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা চলতি মাসের পর এই স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। কারণ স্থানীয় সরকার বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সেবা পরিচালনাকারীদের কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠিপত্র, নির্দেশনা অথবা চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হয়নি।
তারা জানান, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো বন্ধ হলে হাজার হাজার শিশু রোগ-প্রতিরোধক টিকা ও সেবা পাবে না, ফলে হামের চেয়েও বড় দুর্যোগ দেখা দিতে পারে, গর্ভবতী মা ও কিশোরীর রোগ প্রতিরোধক টিকা ও সেবা অনিশ্চতায় পড়বে। সক্ষম দম্পতিরা জন্মনিয়ন্ত্রণ সেবা না পেলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, দরিদ্র গর্ভবতী নারীরা ডেলিভারি সেবা না পাওয়ায় হোম ডেলিভারিসহ মা ও শিশু মৃত্যুহার বাড়বে, নগর দরিদ্ররা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং স্যাটালাইট ক্লিনিকের মাধ্যমে দোরগোড়ায় সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে, অতি দরিদ্র রেড কার্ড অর্ন্তভুক্ত পরিবারগুলো বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। দরিদ্র নারীরা জরায়ু মুখের ক্যানসার স্ক্রিনিং পরীক্ষা করা থেকে বঞ্চিত হবে, যার কারণে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়বে এবং ৩ হাজার ৪৭২ জন দক্ষ কর্মী চাকরি হারাবে। এ অবস্থায় সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা প্রস্তাবনা ও দাবি তুলে ধরেন তারা।
