দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে তরুণ স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হারলেন বিএনপির প্রবীণ প্রার্থী
চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
আতিকুল আলম শাওন ও ড. রেদোয়ান আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে ভোটের মাঠে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটযুদ্ধের শঙ্কা থাকলেও তা উড়িয়ে দিয়ে চমক দেখালেন তরুণ রাজনৈতিক নেতা আতিকুল আলম শাওন। চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করেন তিনি। তার এ বিজয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ফিরে এসেছে প্রাণের সঞ্চার। আতিকুল আলম শাওন বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ১০৫টি কেন্দ্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীন ভাবে চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল আসতে থাকে উপজেলা কন্ট্রোল রুমে।
বিজয়ী প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন পোস্টাল ভোট ছাড়াই তার নিটকতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৪৩ হাজার ১৮১ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন।
ঘোষিত ওই ফলাফলে কলস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন ১০৫টি কেন্দ্রে ভোট পেয়েছেন ৯০ হাজার ৮১৯ ভোট ও পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ৮৭১ ভোট। তিনি সর্বমোট ভোট পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯২৫ ভোট। পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ৫৮৪ ভোট। তিনি সর্বমোট ভোট পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট।
পোস্টাল ভোটসহ ‘কলস’ প্রতীকে ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী পয়ত্রিশ বছর বয়সি তরুণ নেতা আতিকুল আলম শাওন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ পোস্টাল ভোটসহ পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট। ওই নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বির প্রাপ্ত ভোট থেকে প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন শাওন।
আতিকুল আলম শাওন ২০১৮ সাল থেকে চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ৩দিন আগে হঠাৎ দল পরিবর্তন করে বিএনপিতে যোগদান করেন রেদোয়ান আহমেদ। তিনি বিএনপিতে যোগদানের সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র পেয়ে যান। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে হয় আতিকুল আলম শাওনকে। প্রার্থী হওয়ার কারণে দলীয় পদও হারান শাওন। কিন্তু তাতেও বিচলিত হননি তিনি ও তার নেতাকর্মীরা। কঠিন মনোবল ধারণ করে ভোটযুদ্ধে নামেন তিনি। পিতা মরহুম খোরশেদ আলম ও তার নিজ হাতে গড়া উপজেলা বিএনপি থেকে শুরু করে ওয়ার্ড কমিটির কোনো নেতাকর্মী ছেড়ে যায়নি শাওনকে। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় চারবারের সাবেক সংসদ সদস্যকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয় নিশ্চিত করেছেন আতিকুল আলম শাওন।

