মিয়া গোলাম পরওয়ার
অন্যায়-অসত্য-জুলুমের বিরুদ্ধে আদর্শিক জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে
Advertisement
কুমিল্লা ব্যুরো
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের বাছাইকৃত রোকনদের এক শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, অন্যায়, অসত্য ও জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে বিজয়ী করতে হলে আদর্শিক জনশক্তি গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এজন্য দলটির রোকনদের নিয়মিত অধ্যয়ন, প্রশিক্ষণ, আত্মসমালোচনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।
শুক্রবার বিকালে কুমিল্লা নগরীর আইটি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের বাছাইকৃত রোকনদের এক শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়, ইনসাফ, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের দক্ষ, সৎ, জ্ঞানী, যোগ্য ও আদর্শিক কর্মী হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। ইমানি শক্তিতে বলীয়ান কোনো জনশক্তিকে কোনো অপশক্তি নস্যাৎ করতে পারবে না। সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের শুধু সাংগঠনিক কর্মী হলেই চলবে না; বরং কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান, তাকওয়া, আমল-আখলাক, নৈতিকতা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। প্রতিটি রোকনকে নিজের জীবন ইসলামী আদর্শের বাস্তব নমুনা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তিজীবনে আল্লাহভীতি, সততা, আমানতদারি ও দায়িত্বশীলতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সমাজের কল্যাণে নিবেদিত হতে হবে।
কর্মীদের করণীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথম দায়িত্ব হলো নিজেদের সংশোধন করা। আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে যোগ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের মানুষের কাছে ইসলামের কল্যাণকর বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাই আন্দোলনের মূল কর্মসূচি।
প্রতিকূল পরিস্থিতির বিষয়ে অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার বলেন, আদর্শের পথে চলতে গিয়ে নানা বাধা ও পরীক্ষা আসা স্বাভাবিক। এসব পরিস্থিতিতে হতাশ বা বিচলিত না হয়ে ইমান, ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ঐক্য শক্তিশালী করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা শক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করতে হবে।
কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা এটিএম মাসুমের সভাপতিত্বে এবং কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের পরিচালনায় শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এএইচএম আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যক্ষ ড. শফিকুল আলম হেলাল এবং বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মুহাদ্দিস আবু নাছর আশরাফী।
শিবিরে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লা অঞ্চলের টিম সদস্য ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মো. আব্দুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল মতিন, কুমিল্লা মহানগরীর নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুন এবং কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান।
শিক্ষা শিবিরে কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের বাছাইকৃত রোকনরা অংশগ্রহণ করেন।
