|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরাসি সাহিত্যের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এমিল জোলার মৃত্যুদিবস আজ ২৯ সেপ্টেম্বর। তিনি কেবল একজন ঔপন্যাসিকই ছিলেন না, একাধারে সাংবাদিক, নাট্যকার এবং সাহিত্য অঙ্গনে ‘ন্যাচারালিজম’ বা স্বাভাবিকতাবাদের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। সাহিত্যের মাধ্যমে সমাজের অবহেলিত ও শোষিত শ্রেণির বাস্তব ছবি আঁকতে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। এমিল জোলা ১৮৪০ সালের ২ এপ্রিল প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই পিতাকে হারিয়ে তিনি ও তার পরিবার কঠিন আর্থিক অনটনের মুখোমুখি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হতে না পারলেও তিনি ফ্রাঙ্কো-প্রুশিয়ান যুদ্ধের পটভূমিতে সাংবাদিক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। সাংবাদিকতার এই অভিজ্ঞতা তাকে ফরাসি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা অন্যায় ও অসামঞ্জস্য খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দেয়।
এমিল জোলার শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক কীর্তি হলো ২০টি উপন্যাসের সিরিজ ‘লে রুগন-ম্যাকার’। এ সিরিজের মাধ্যমে তিনি ফরাসি দ্বিতীয় সাম্রাজ্যের একটি পরিবারের বংশানুক্রমিক ও সামাজিক বিবর্তন ফুটিয়ে তোলেন। বিজ্ঞানের নীতিকে সাহিত্যে প্রয়োগ করে তিনি দেখান কীভাবে বংশগতি ও পরিবেশ মানব চরিত্রকে পরিচালিত করে। খনিশ্রমিকদের করুণ জীবন ও ধর্মঘটের ওপর ভিত্তি করে লেখা তার এক্সপেরিমেন্টাল নভেল বিশ্বসাহিত্যের এক অনন্য সম্পদ। লা নাসোয়া, নানা এবং তেরেস রাকেঁও তার বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম । সাহিত্য সৃষ্টির পাশাপাশি জোলার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকা তাকে ইতিহাসে অমর করে রেখেছে। ১৮৯৮ সালে ইহুদি বংশোদ্ভূত ফরাসি সেনা কর্মকর্তা আলফ্রেড ড্রেইফাসকে অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দণ্ডিত করা হয়। এর প্রতিবাদে জোলা ফরাসি পত্রিকার প্রথম পাতায় তৎকালীন ফরাসি প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে ‘জাক্যুজ...!’ (আমি অভিযুক্ত করছি...!) শিরোনামে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন। এই ঐতিহাসিক নিবন্ধের মাধ্যমে তিনি ফরাসি সামরিক বাহিনীর মধ্যকার দুর্নীতি ও ইহুদিবিদ্বেষ উন্মোচন করেন। এর খেসারত হিসাবে তাকে ইংল্যান্ডে নির্বাসনে যেতে হলেও শেষ পর্যন্ত তার কারণে ড্রেইফাস মুক্তি পান এবং সত্যের জয় হয়। ১৯০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়ায় রহস্যজনকভাবে এমিল জোলা মৃত্যুবরণ করেন। সাহিত্যে বাস্ততার নির্মোহ চিত্রায়ন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার সোচ্চার অবস্থান আজও বিশ্বের শিল্প-সাহিত্যপ্রেমীদের অনুপ্রেরণা জোগায়। সত্য ও ন্যায়বিচারের জন্য তার লড়াই তাকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
