অপটা বলছে নরওয়ের বিপক্ষে এগিয়ে ব্রাজিল। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শেষ আটের টিকিট কাটবে কারা—ব্রাজিল নাকি নরওয়ে? এ প্রশ্নই ঘুরছে প্রায় সব ক্রীড়াপ্রেমির মনে। বিশেষ করে ব্রাজিল ভক্তদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে অপটা সুপার কম্পিউটার। তবে ইতিহাস এবং নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত ফর্ম ম্যাচটিকে করে তুলেছে অনিশ্চয়তায় ভরা।
অপটার ২৫ হাজার ম্যাচ
সিমুলেশনের ফল বলছে, নির্ধারিত
৯০ মিনিটে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৩.৬ শতাংশ। নরওয়ের
জয়ের সম্ভাবনা ২২.৪ শতাংশ,
আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা
২৪ শতাংশ। সব মিলিয়ে কোয়ার্টার
ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ব্রাজিলের
৬৫.৬ শতাংশ, যেখানে
নরওয়ের সম্ভাবনা ৩৪.৫ শতাংশ।
রাউন্ড অব ৩২-এ
জাপানকে ২-১ গোলে
হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত
করে ব্রাজিল। অন্যদিকে আর্লিং হালান্ডের শেষ মুহূর্তের গোলে
আইভরি কোস্টকে একই ব্যবধানে হারিয়ে
নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় নরওয়ে।
তবে কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে
এই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করা কঠিন। নরওয়ের
সবচেয়ে বড় শক্তি হালান্ড।
টানা ১৩টি প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক
ম্যাচে গোল করেছেন এই
তারকা ফরোয়ার্ড। এই সময়ে তার
গোলসংখ্যা ২৫, আর চলতি
বিশ্বকাপেও তিনি আছেন দুর্দান্ত
ছন্দে।
অন্যদিকে ব্রাজিলের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ব্রুনো গিমারায়েসও খেলছেন ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ফুটবল। এবারের
বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। ১৯৭০ সালে পেলের
ছয় অ্যাসিস্টের পর এক আসরে
ব্রাজিলের হয়ে এটিই সর্বোচ্চ
অ্যাসিস্টের রেকর্ড।
ইতিহাস বলছে ভিন্ন
অপটার পূর্বাভাসে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও অতীতের পরিসংখ্যান নরওয়ের পক্ষেই কথা বলছে। দুই
দলের চারটি মুখোমুখি লড়াইয়ে এখনো একবারও জয়ের
দেখা পায়নি সেলেসাও। নরওয়ে জিতেছে দুটি ম্যাচ, বাকি
দুটি ড্র হয়েছে। ১৯৯৮
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেও ব্রাজিলকে ২-১ গোলে
হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল নরওয়ে।
শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের
নকআউট পর্বে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ব্রাজিলের সাম্প্রতিক রেকর্ডও খুব একটা স্বস্তিদায়ক
নয়। ২০০২ সালের ফাইনালে
জয়ের পর ইউরোপের দলের
বিপক্ষে টানা ছয়বার নকআউট
থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।
তাই অপটার সুপারকম্পিউটার ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখলেও, ইতিহাস, নরওয়ের আত্মবিশ্বাস এবং হলান্ডের দুর্দান্ত ফর্ম ইঙ্গিত দিচ্ছে—এই লড়াইয়ে শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনো দলকেই নিশ্চিতভাবে এগিয়ে বলা যাচ্ছে না। পরিসংখ্যান ব্রাজিলের পক্ষে, কিন্তু মাঠের ফুটবল সেই হিসাব বদলে দিতেই পারে।
