৫৬ ম্যাচে ৬৪ গোল, হালান্ডকে থামাবে কে?
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ এএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আর্লিং হালান্ডকে থামাবে কে? এই প্রশ্নটা এখন যেন গোটা ফুটবলেরই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই প্রশ্নটা আরও ভালোভাবে শোনা যায়। কেনই বা যাবে না? ৫৬ ম্যাচ খেলেছেন, তাতেই করে ফেলেছেন ৬৪ গোল। শেষ দুটো এসেছে সবশেষ ম্যাচে।
অসলোতে অনুষ্ঠিত নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর এক উদ্বোধনী ম্যাচে ডেনমার্ককে ৩-২ গোলে হারায় নরওয়ে। এই ম্যাচে জোড়া গোল করেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার।
এর আগে দুর্দান্ত এক বিশ্বকাপ কাটিয়েছেন হালান্ড। সাতটি গোল করে নরওয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয় দলটি। বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে খুব একটা সময় নেননি এই ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ড। নিজের অসাধারণ গোলদাতা সক্ষমতার কথা আবারও সবাইকে মনে করিয়ে দিলেন তিনি।
নরওয়ের হয়ে সবশেষ ১৬টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের মধ্যে ১৫টিতেই গোল করেছেন হালান্ড, এই সময়ে করেছেন ২৯টি গোল। কেবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারের ম্যাচেই গোল পাননি তিনি।
সিটির এই তারকা সবশেষ ১০টি প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে আটটিতেই একাধিক গোল করেছেন। নরওয়ের হয়ে ৫৬ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ৬৪, সঙ্গে আছে সাতটি অ্যাসিস্টও।
দারুণ শুরু করে নরওয়ে, অস্কার ববের গোলে এগিয়ে যায় তারা। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের পাস থেকে বল পেয়ে দূরের কোণে চমৎকার এক শটে গোল করেন এই ফুলহাম ফরোয়ার্ড।
এর চার মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হালান্ড। বক্সের ভেতর দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রবেশ করে বল বাড়ান আন্তোনিও নুসা। হালান্ডের কাছে পৌঁছে যাওয়া সেই বলে কোনো ভুল করেননি এই স্ট্রাইকার। ডেনমার্কের গোলরক্ষক ফিলিপ ইয়র্গেনসেনকে পরাস্ত করে প্রথম টাচেই বল জালে জড়ান তিনি।
তবে ঘুরে দাঁড়ায় ডেনমার্ক। ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে ব্যবধান কমান মিকেল ডামসগার্ড। এর কিছুক্ষণ পরই ঘণ্টাখানেক পার হতেই হেড করে সমতা ফেরান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক স্ট্রাইকার রাসমুস হয়লুন্ড।
ম্যাচ যখন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরিণত হয়, ঠিক তখনই আবার জ্বলে ওঠেন হালান্ড। ৭৪ মিনিটে একটি সুপরিকল্পিত কর্নার থেকে বক্সের ভেতর বল পান তিনি। শক্তিশালী এক শটে রাতের নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে নরওয়েকে আবার এগিয়ে দেন তিনি।
এবার আর কোনো জবাব দিতে পারেনি ডেনমার্ক।
মাত্র ৫৬ ম্যাচে হালান্ডের এই জয়সূচক গোলটি ছিল তার ৬৪তম আন্তর্জাতিক গোল, যা তার অসাধারণ গোল করার হারকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
নেশনস লিগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও নিজের শীর্ষ অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন হালান্ড। এই সিটি স্ট্রাইকারের গোলসংখ্যা এখন ২১টি, যা সার্বিয়ার আলেক্সান্দার মিত্রোভিচ এবং পর্তুগিজ কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়ে ছয়টি বেশি। এই দুজনেরই গোলসংখ্যা ১৫টি করে।
ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে হোক বা নরওয়ের জার্সিতে, গল্পটা একই থাকছে। হালান্ড যেন অপ্রতিরোধ্য!
