ক্রিকেটে বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালানোর জন্যই পরিচিত ক্রিস গেইল।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ক্রিকেটে বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালানোর জন্যই পরিচিত ক্রিস গেইল। কিন্তু টি-টোয়েন্টির এই বিধ্বংসী ব্যাটারকেও যে কোনো বোলার অসহায় করে তুলতে পেরেছিলেন, তিনি লাসিথ মালিঙ্গা। শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি পেসারকে টি-টোয়েন্টিতে নিজের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে কঠিন বোলার হিসেবে বেছে নিয়েছেন ‘ইউনিভার্স বস’।
টি-টোয়েন্টিতে গেইলের ব্যাটিং পরিসংখ্যানই তার ভয়ংকর সামর্থ্যের প্রমাণ। আইপিএলে ৪ হাজার ৯৬৫ রান করেছেন তিনি, যেখানে রয়েছে ছয়টি সেঞ্চুরি-যা এখনো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড। ৩৫৭টি ছক্কাও আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় ইনিংসগুলোর একটি খেলেছিলেন ২০১৩ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে। পুনে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে মাত্র ৬৬ বলে অপরাজিত ১৭৫ রান করেছিলেন গেইল, যা এখনো আইপিএলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। মাত্র ৩০ বলে সেঞ্চুরি করে গড়া রেকর্ডটিও এখনো অক্ষত।
অন্যদিকে মালিঙ্গা ছিলেন টি-টোয়েন্টির অন্যতম ভয়ংকর বোলার। আইপিএলে ১২২ ম্যাচে ১৭০ উইকেট নিয়েছেন তিনি। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে জিতেছেন চারটি শিরোপা। ২০১১ সালে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপক্ষে ১৩ রানে ৫ উইকেট ছিল আইপিএলে তার সেরা বোলিং। অদ্ভুত স্লিং অ্যাকশন, দুর্দান্ত ইয়র্কার ও ডেথ ওভারের বোলিংয়ে ব্যাটারদের জন্য নিয়মিতই আতঙ্ক ছিলেন মালিঙ্গা।
মালিঙ্গার বিপক্ষে কেন এতটা সমস্যায় পড়তেন, সেটিও খোলাসা করেছেন গেইল। ‘মিডউইকেট স্টোরিজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কঠিন বোলারের নাম জানতে চাওয়া হলে কোনো দ্বিধা না করে মালিঙ্গার নাম বলেন তিনি।
গেইল বলেন, ‘সেই সময় মালিঙ্গা। তার অ্যাকশনটা এমন ছিল যে, তার বিপক্ষে ব্যাট করা খুব কঠিন ছিল। সে আমাকে আউট করতে পারেনি, কিন্তু তার বিপক্ষে ব্যাট করা ভীষণ কঠিন ছিল। আমি নিজের পজিশন এমন জায়গায় রাখতে পারতাম না, যাতে তাকে ঠিকমতো মারতে পারি।’
মালিঙ্গার স্লোয়ার বলও গেইলের জন্য ছিল বড় সমস্যা। তার ভাষায়, ‘তার স্লোয়ার বলও আমি কোনোভাবেই বুঝতে পারতাম না। সেটা ছিল ভীষণ ধোঁকাবাজির মতো। টি-টোয়েন্টি ব্যাটার হিসেবে সে আমার জন্য সত্যিই খুব কঠিন ছিল।’
মালিঙ্গার বিপক্ষে নিজের কৌশলও বদলে ফেলেছিলেন গেইল। সাধারণত যিনি বোলারকে আক্রমণ করতে ভালোবাসতেন, সেই গেইলই মালিঙ্গার ক্ষেত্রে উইকেট বাঁচিয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিতেন।
গেইল বলেন, ‘তখন আমি ভাবতাম, ঠিক আছে, আগে টিকে থাকি। আমি চেষ্টা করতাম বল ঠেকাতে, ইউনিভার্সাল বসের জন্য যেটা খুবই বেমানান। কিন্তু আমি তার বেলায় চেষ্টা করতাম স্ট্রাইক থেকে সরে যেতে এবং অন্য বোলারদের আক্রমণ করতে। কোনো বোলারকে যদি বুঝতে না পারি, তাহলে একটু বুদ্ধি খাটিয়ে নিরাপদে খেলাই ছিল আমার পরিকল্পনা।’
পরিসংখ্যানও গেইলের কথার সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে মালিঙ্গার বিপক্ষে ৭২ বল খেলে গেইল করেছেন মাত্র ৫৭ রান। স্ট্রাইক রেট ৭৯.২। মেরেছেন আটটি চার, কিন্তু একটি ছক্কাও নেই।
৭২ বলের মধ্যে ৪২টিই ছিল ডট বল। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি ডেলিভারিতে গেইলকে রান করতে দেননি মালিঙ্গা। যদিও মাত্র একবার গেইলকে আউট করতে পেরেছিলেন শ্রীলঙ্কান পেসার, ২০১৫ সালে। ফলে ‘মালিঙ্গা আমাকে আউট করতে পারেনি’, গেইলের কথাটিও পুরোপুরি ভুল নয়।

