দুবাইয়ের তীব্র গরম সামলাতে ইবাদতের বিশেষ পরামর্শ
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দুবাইয়ের প্রচণ্ড গরমে ক্রিকেট খেলা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাপমাত্রা প্রায় ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকায় দিনের বেলায় পাঁচ দিনের টেস্টে শরীরকে মানিয়ে নেওয়াই হবে অন্যতম কঠিন পরীক্ষা। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথমবার টেস্ট খেলতে যাওয়ার আগে তাই সতীর্থদের গরম মোকাবিলার কিছু কৌশল জানিয়েছেন পেসার ইবাদত হোসেন।
ইবাদতের মতে, ম্যাচের অন্তত দুই দিন আগে থেকেই শরীরকে প্রস্তুত করতে হবে। এ সময় পর্যাপ্ত পানি ও অন্যান্য তরল পান করার পাশাপাশি বেশি করে ফল খেতে হবে। ডাবের পানি ও তরমুজও রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়।
বিসিবির প্রকাশিত এক ভিডিওতে ইবাদত বলেন, তিনি ম্যাচের দুই দিন আগে থেকেই হাইড্রেশনের দিকে বিশেষ নজর দেন। শরীরে পানির ঘাটতি না রাখতে প্রচুর পানি ও তরল পান করেন, পাশাপাশি ডাবের পানি ও ফল বেশি খান।
আমিরাতে বাংলাদেশ আগে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেললেও সেগুলো ছিল দিবারাত্রির ম্যাচ। এবার দিনের আলোয় পাঁচ দিনের টেস্ট হওয়ায় গরমের প্রভাব অনেক বেশি পড়বে ক্রিকেটারদের ওপর। বিশেষ করে দিনের সবচেয়ে উষ্ণ সময়ে দীর্ঘক্ষণ মাঠে থাকতে হবে তাদের।
ইবাদত মনে করেন, দেশটিতে পৌঁছানোর পর থেকেই আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। অনুশীলনের প্রথম দিন তিনি প্রায় ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা খালি পায়ে মাঠে হাঁটার অভ্যাস করেন।
তার ভাষায়, খালি পায়ে মাটিতে হাঁটলে শরীর ও মাটির মধ্যে এক ধরনের সংযোগ তৈরি হয়, যা শরীরকে দ্রুত পরিবেশ ও তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে।
শুধু অনুশীলন বা ম্যাচের সময় নয়, সারাদিনই শরীরে পানির ঘাটতি হতে দেওয়া যাবে না বলে মনে করেন ইবাদত। সকালের নাশতায় ফল, ডাবের পানি ও তরমুজ খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত প্রচুর পানি পান করাকে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
দুবাইয়ে প্রস্তুতি হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুই দিনের ম্যাচও খেলেছে বাংলাদেশ। ম্যাচটি ড্র হলেও ফলাফলের চেয়ে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে দল।
প্রথম ইনিংসে ২৩৪ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশের হয়ে সৌম্য সরকার অপরাজিত ৫৭, সাদমান ইসলাম ৪৬, নাঈম হাসান ৩৬ ও মুমিনুল হক ৩৩ রান করেন। ব্যাটিংয়ে ধস নামলেও বোলিংয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ইকবাল হোসেন ইমন ৬ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। তাইজুল ইসলাম পান ৩ উইকেট, আর ইবাদত ও খালেদ আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।
আমিরাত ২২২ রানে গুটিয়ে গেলে প্রথম ইনিংসে ১২ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে ৩ উইকেটে ১১৪ রান করে তারা। ইবাদত ৯ ওভার বল করে ৩৮ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন।
প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিংয়ের কিছু দুর্বলতা সামনে এলেও বোলারদের পারফরম্যান্স এবং প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় মাঠে থাকার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক হয়ে এসেছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের আগে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাইবে বাংলাদেশ।

