ম্যারাডোনার মৃত্যু কি চিকিৎসকদের অবহেলায় হয়েছিল? জানা গেল মামলার রায়ের দিনক্ষণ
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর মামলার রায় আসছে ২২ ডিসেম্বর। বৃহস্পতিবার আদালত এ কথা জানিয়েছে। ছয় মাস ধরে এই মামলার শুনানি চলেছে।
মামলায় সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিচার হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ম্যারাডোনার চিকিৎসায় তারা অবহেলা করেছেন। বৃহস্পতিবার বিচার শেষ হয়। শেষ দিনে ম্যারাডোনার মেয়ে ও কয়েকজন আসামি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
ম্যারাডোনার মেয়ে দালমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আশা করি আমার বাবা ন্যায়বিচার পাবেন, যা তার প্রাপ্য। অন্য যেকোনো মানুষের মতোই।’
মামলার প্রধান আসামি লেওপোলদো লুকে। তিনি ম্যারাডোনার প্রধান চিকিৎসক ছিলেন। আদালতে তিনি বলেন, ‘আমি নির্দোষ।’
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ম্যারাডোনা মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। মৃত্যুর কারণ হৃদ্যন্ত্র বিকল হয়ে যাওয়া ও ফুসফুসে পানি জমা।
মৃত্যুকালে বুয়েনস আইরেসের উত্তরের তিগ্রে শহরে একটি বাড়িতে ছিলেন। ছোট একটি মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার জন্য বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তার মৃত্যুতে পুরো দেশ শোকে ডুবে যায়। তখন কোভিড-১৯ মহামারি চলছিল।
বিচার শুরু হয়েছিল এপ্রিলে। ৭০ জনের বেশি সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাতজনের মধ্যে ছয়জনের জন্য চার থেকে ১২ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। সবচেয়ে বেশি, ১২ বছর, চাওয়া হয়েছে লুকের জন্য।
বুধবার শেষ যুক্তিতর্কে লুকের আইনজীবীরা কৌঁসুলিদের একটি বক্তব্য নাকচ করেন। কৌঁসুলিরা বলেছিলেন, ম্যারাডোনার মৃত্যু আগে থেকেই আঁচ করা যেত। আইনজীবীরা তা মানেননি। তারা লুকেকে এই মামলার ‘বলির পাঁঠা’ বলে উল্লেখ করেন।
পুরো বিচারে আসামিদের মধ্যে লুকেই ছিলেন সবচেয়ে আক্রমণাত্মক। নিজেকে জড়ানো হচ্ছে মনে হলে তিনি বারবার কথা বলেছেন। তার আইনজীবীরা অডিও রেকর্ডিং বাজিয়েছেন। বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ দেখিয়েছেন। এমনকি ম্যারাডোনার ময়নাতদন্তের ভিডিও দেখিয়েছেন। এতে ম্যারাডোনার মেয়েরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
আদালতে লুকে বলেন, ‘আমাকে আক্রমণ করা সহজ, কারণ ম্যারাডোনার সবচেয়ে কাছে আমিই ছিলাম। আমার পক্ষে কথা বলার মতো একজনই আছেন, দিয়েগো। আমি তাকে অনেক যত্ন করতাম। আমি তাকে ভালোবাসতাম। তিনি ছিলেন আমার আদর্শ ও বন্ধু।’
মামলার মূল প্রশ্ন একটাই। ম্যারাডোনাকে হাসপাতালের বদলে একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে সুস্থ হতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কি অবহেলা ছিল? সরকারি কৌঁসুলিরা বলেছেন, বাড়িতে চিকিৎসার প্রায় কোনো সরঞ্জাম ছিল না। ছিল না হাসপাতালের বিছানা, ডিফিব্রিলেটর বা দ্রুত পাওয়া যায় এমন অ্যাম্বুলেন্স। তাদের মতে, এটাই আসামিদের দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ।
কয়েকজন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞও সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের কথা, মৃত্যুর আগে কিছু বিপদের লক্ষণ ছিল। ম্যারাডোনার শরীরে পানি জমছিল। হৃদ্স্পন্দন দ্রুত হচ্ছিল। শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। এসব লক্ষণ দেখেও যত্নকারীরা কোনো ব্যবস্থা নেননি।
