Logo
Logo
×

Advertisement

খেলা

আধুনিক ক্রিকেটে কেন কমছে পেসারদের গতি, কারণ জানালেন ওয়াকার ইউনিস

Advertisement

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

আধুনিক ক্রিকেটে কেন কমছে পেসারদের গতি, কারণ জানালেন ওয়াকার ইউনিস

Advertisement

একসময় ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে বল করে ব্যাটসম্যানদের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠতেন বিশ্বের নামকরা পেসাররা। তবে সময়ের সঙ্গে অনেক বোলারের গতিতে দেখা গেছে ভাটা। বয়স কিংবা চোটের পাশাপাশি আধুনিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি ও পরিবর্তিত কৌশলও কি এর জন্য দায়ী?

পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনিসের মতে, পেসারদের গতি কমে যাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে ক্রিকেটের বদলে যাওয়া ধরন এবং মানসিক চাপ।

সম্প্রতি এক পডকাস্টে বিষয়টি নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন পাকিস্তানের সাবেক এই গতিতারকা। নিজের খেলার সময়ের সঙ্গে বর্তমান ক্রিকেটের তুলনা করে তিনি জানান, দুই যুগের মধ্যে পার্থক্য অনেক। ওয়াকারের সময়ে টেস্ট ক্রিকেট ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এরপর ওয়ানডে। তখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্যস্ততা না থাকায় বোলাররা অনুশীলন ও প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পেতেন।

ওয়াকারের ভাষায়, ক্রিকেটের ধরন বদলে যাওয়ার বিষয়টি ভুলে গেলে চলবে না। তার সময়ে টি-টোয়েন্টি ছিল না, যা বর্তমান ক্রিকেটের সঙ্গে বড় পার্থক্য তৈরি করেছে। নিজেদের প্রস্তুত করার জন্যও তখন বেশি সময় পাওয়া যেত।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও নিয়মিত খেলতে হচ্ছে পেসারদের। ফলে ম্যাচের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রাম, অনুশীলন ও শরীর পুনরুদ্ধারের সময় কমে যাচ্ছে। তবে ওয়াকারের মতে, কেবল ম্যাচের সংখ্যা দিয়ে পেসারদের গতি কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মানসিক চাপ।

তার মতে, বাইরে থেকে টি-টোয়েন্টিতে চার ওভার বোলিংকে সহজ মনে হলেও বাস্তবে এই সংস্করণে প্রতিটি বলই বোলারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যাটসম্যানদের আক্রমণ সামলাতে গিয়ে সব সময় সতর্ক থাকতে হয়। এক-দুটি বাউন্ডারি হজম করলেই বোলারের পরিকল্পনা ও আত্মবিশ্বাসে প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে চার ওভারের টি-টোয়েন্টি স্পেল অনেক সময় ওয়ানডেতে টানা ১০ ওভার বোলিংয়ের চেয়েও বেশি মানসিক চাপ তৈরি করে বলে মনে করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি শুরুর আগেই অবসর নেওয়া ওয়াকার মনে করেন, এই চাপ পেসারদের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনে। একজন বোলার শুরুতে হয়ত ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামেন। কিন্তু ব্যাটসম্যানের আক্রমণ সামলাতে গিয়ে তাকে ক্রমেই স্লোয়ার, ওয়াইড ইয়র্কার কিংবা রান আটকে রাখার কৌশল নিয়ে বেশি ভাবতে হয়।

এভাবেই ধীরে ধীরে নিজের স্বাভাবিক গতির সঙ্গে আপস করতে বাধ্য হন পেসাররা। উইকেট নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ গতি কাজে লাগানোর বদলে রান নিয়ন্ত্রণের চিন্তা প্রাধান্য পেলে বোলিংয়ের আগের সেই আগ্রাসী মানসিকতা আর ধরে রাখা যায় না। ওয়াকারের মতে, বোলারের মনে যখন শুধু টিকে থাকার ভাবনা চলে আসে, তখন ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করার তাগিদও কমে যায়।

ওয়াকার মনে করেন, একজন ফাস্ট বোলারের অন্যতম বড় শক্তি হলো নিজের বোলিংয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা। কিন্তু আধুনিক ক্রিকেটে ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটের কারণে সেই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই শুধু গতি নয়, টিকে থাকতে পেসারদের নানা ধরনের ডেলিভারি ও কৌশলের ওপরও নির্ভর করতে হচ্ছে।

এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ক্রিকেট বোর্ডগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন ওয়াকার। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আলাদা বোলিং ইউনিট তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, দীর্ঘ সংস্করণে যারা খেলবেন, তাদের প্রস্তুতিও হতে হবে সেই চাহিদা অনুযায়ী।

এ প্রসঙ্গে ইংল্যান্ডের উদাহরণ টেনেছেন ওয়াকার। অস্ট্রেলিয়াও একই ধরনের পরিকল্পনার পথে কিছুটা এগোচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। টেস্ট বোলারদের নিয়মিত চার দিনের বা দীর্ঘ সংস্করণের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ তার। সেখানে দিনে ২০ থেকে ২৫ ওভার বোলিংয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করার সক্ষমতাও ধরে রাখার দিকে নজর দিতে হবে।

ওয়াকারের মতে, আধুনিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি ও কৌশলগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে পেসাররা তাদের স্বাভাবিক গতি হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন। এই গতি ধরে রাখতে বা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রতিভার পাশাপাশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পরিকল্পিত অনুশীলন এবং দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটের উপযোগী প্রস্তুতি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

আধুনিক ক্রিকেটে কেন কমছে পেসারদের গতি, কারণ জানালেন ওয়াকার ইউনিস

আধুনিক ক্রিকেটে কেন কমছে পেসারদের গতি, কারণ জানালেন ওয়াকার ইউনিস

আর্জেন্টিনা-জার্মানির ম্যাচ দিয়ে তিন বছর পর খুলছে ম্যারাডোনা স্টেডিয়াম

আর্জেন্টিনা-জার্মানির ম্যাচ দিয়ে তিন বছর পর খুলছে ম্যারাডোনা স্টেডিয়াম

পাঁচটি হলুদ কার্ডের পরও কেন নিষেধাজ্ঞা নেই মেসির

পাঁচটি হলুদ কার্ডের পরও কেন নিষেধাজ্ঞা নেই মেসির

ঐতিহ্যবাহী সান সিরো ছাড়ছে ইন্টার ও এসি মিলান

ঐতিহ্যবাহী সান সিরো ছাড়ছে ইন্টার ও এসি মিলান

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম