চ্যাটজিপিটির লেখায় ওয়াটার মার্ক, কেন এই সিদ্ধান্ত ওপেন এআইয়ের
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই অ্যাক্টের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে চ্যাটজিপিটি এবং কোডেক্স দিয়ে তৈরি লেখায় অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক যুক্ত করবে ওপেন এআই। কোম্পানিটি নিজেই সোমবার এ কথা জানিয়েছে। খবর সামা টিভির।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা যোগ্য চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্স ব্যবহারকারীদের জন্য সব ধরনের প্ল্যানে এই ওয়াটারমার্কিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।
ওপেন এআই জানিয়েছে, বিশ্বের যেকোনো স্থানে তাদের এপিআই ব্যবহারকারী ডেভেলপাররাও সোমবার থেকে নির্দিষ্ট কিছু মডেলের জন্য এই ফিচার চালু করতে পারবেন। তবে ডিফল্টভাবে এটি বন্ধ থাকবে।
কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, শুরুতেই বিশ্বব্যাপী সব ব্যবহারকারীর জন্য টেক্সট ওয়াটারমার্কিং ডিফল্ট হিসেবে চালু করা হবে না।
ওয়াটারমার্ক কীভাবে কাজ করবে?
এআই দিয়ে তৈরি লেখায় ওয়াটারমার্ক কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন হিসেবে দেখা যাবে না। এর পরিবর্তে ওপেন এআইয়ের সিস্টেম মডেলের শব্দ নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় সূক্ষ্মভাবে প্রভাব ফেলবে, যাতে লেখার মধ্যে একটি গোপন প্যাটার্ন তৈরি হয়। বিশেষায়িত সিস্টেমের মাধ্যমে পরে এই প্যাটার্ন শনাক্ত করা যাবে।
এই প্যাটার্নটি লেখার ভেতরেই সংযুক্ত থাকবে। তাই লেখা কপি করে অন্য জায়গায় পেস্ট করলেও এটি শনাক্ত করা সম্ভব হওয়ার কথা বলে জানিয়েছে ওপেন এআই।
কোম্পানিটি বলেছে, এই ওয়াটারমার্ক থেকে লেখাটি কে তৈরি করেছেন তা শনাক্ত করা যাবে না। তারা আরও জানিয়েছে, পরীক্ষায় দেখা গেছে ফিচারটি চালু থাকলেও মডেলের কার্যক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়ে না।
ওপেন এআই এই প্রযুক্তির নাম দিয়েছে টেক্সক গ্রেইন। এটি কীভাবে কাজ করে তা ব্যাখ্যা করে একটি কারিগরি প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে।
এই সিস্টেম একটি গোপন কী ব্যবহার করে মডেল পরবর্তী সম্ভাব্য শব্দগুলোর মধ্যে কোনটি বেছে নেবে, তাতে সূক্ষ্ম প্রভাব ফেলে।
একটি পুরো লেখাজুড়ে এ ধরনের ছোট ছোট পরিবর্তন বারবার করা হলে, একটি শনাক্তকারী সিস্টেম সেই পরিবর্তনের ফলে তৈরি হওয়া পরিসংখ্যানগত প্যাটার্ন চিহ্নিত করে লেখাটিকে এআই উৎপাদিত হিসেবে শনাক্ত করতে পারে।
সম্পাদনা করলে ওয়াটারমার্ক দুর্বল হতে পারে
ওপেন এআই স্বীকার করেছে যে এই ওয়াটারমার্ক পুরোপুরি অপসারণ করা বা দুর্বল করা অসম্ভব নয়। কোম্পানির একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, একটি লেখার প্রায় ১০ শতাংশ শব্দ সমার্থক শব্দ দিয়ে বদলে দিলে শনাক্ত করার নির্ভুলতা প্রায় ৯২ শতাংশ থেকে কমে ৬৬ শতাংশে নেমে আসে।
ওপেন এআই আরও জানিয়েছে, ছোট লেখা, গাণিতিক উত্তর এবং অনুবাদ করা লেখা শনাক্ত করা তাদের সিস্টেমের জন্য তুলনামূলকভাবে কঠিন হতে পারে।
কোম্পানিটি বলেছে, এই সীমাবদ্ধতাগুলোই তাদের এমন কিছু কারণের মধ্যে পড়ে, যার কারণে শুরুতে তাদের শনাক্তকারী ব্যবহারের সুযোগ কেবল অনুমোদিত গবেষক ও বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া হবে। ওপেন এআইয়ের মতে, এর লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিটির নির্ভরযোগ্যতা এবং দায়িত্বশীল ব্যবহার মূল্যায়নে সহায়তা করা।
ওয়াটারমার্ক থাকলেই এআই দিয়ে লেখা প্রমাণ হয় না
ওপেন এআই সতর্ক করে বলেছে, কোনো লেখায় ওয়াটারমার্ক না থাকাকে এই প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয় যে লেখাটি একজন মানুষ লিখেছেন। কোম্পানিটির মতে, কোনো লেখা হয়তো খুব ছোট, ব্যাপকভাবে সম্পাদিত, অথবা অন্য কোনো এআই সিস্টেম দিয়ে তৈরি হতে পারে।
ওয়াটারমার্ক থেকে বোঝা যেতে পারে যে ওপেন এআইয়ের কোনো সিস্টেম লেখাটির কোনো অংশ তৈরি করেছে বা প্রক্রিয়াজাত করেছে। কিন্তু লেখাটিতে মানুষের বিচারবোধ, সম্পাদনা বা সৃজনশীলতার পরিমাণ কতটা ছিল, তা এটি নির্ধারণ করতে পারে না।
ইরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মই এই উদ্যোগের মূল চালিকা শক্তি
এই পদক্ষেপটি ইউরোপীয় এআই অ্যাক্টের স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত বিধির অনুসরণে নেওয়া হয়েছে। এসব বিধিতে নির্দিষ্ট কিছু এআই সিস্টেমের সরবরাহকারীদের এমনভাবে এআই নির্মিত বা এআই দিয়ে পরিবর্তিত কনটেন্ট শনাক্তযোগ্য করার কথা বলা হয়েছে, যাতে তা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়।
ওপেন এআই ছাড়াও অ্যান্থ্রোপিক,গুগল, মেটা এবং মাইক্রোসফটের মতো আরও কয়েকটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানি এআই নির্মিত কনটেন্টের স্বচ্ছতা বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আচরণবিধি অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এদিকে আগস্ট মাসে অ্যান্থ্রোপিক জানিয়েছিল, তারা তাদের ‘সি লড’ মডেল দিয়ে তৈরি লেখার জন্য বিশ্বব্যাপী ওয়াটারমার্কিং ব্যবস্থা চালু করবে।
