ইনস্টাগ্রামের ১৬ বছর
জনপ্রিয়তার আড়ালে মানসিক স্বাস্থ্য ও তথ্য সুরক্ষার চ্যালেঞ্জ
Advertisement
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পূর্ণ করেছে। ২০১০ সালের ৬ অক্টোবর যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্ম বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ডিজিটাল মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩০০ কোটিরও বেশি হলেও তথ্যের গোপনীয়তা ও তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ প্ল্যাটফর্মটির সাফল্যের ওপর প্রশ্ন তুলছে।
কেভিন সিস্ট্রম ও মাইক ক্রিগার ২০১০ সালের ৬ অক্টোবর ছবি শেয়ারিং অ্যাপ হিসেবে ইনস্টাগ্রাম চালু করেন। প্রতিষ্ঠার দুই বছরের মাথায় প্রায় ১০০ কোটি ডলারে এটি অধিগ্রহণ করে মেটা। এরপর ২০১৩ সালে ভিডিও শেয়ারিং ও ডাইরেক্ট মেসেজিং সুবিধা এবং ২০২০ সালে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও ফিচার ‘রিলস’ চালুর মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটির জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পায়।
স্ট্যাটিসটার অক্টোবর ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারীভিত্তি রয়েছে ভারতে, যেখানে সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৪৮ কোটি। এর পরেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, তুরস্ক, মেক্সিকো, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও আর্জেন্টিনা।
ব্যবহারকারীদের বড় অংশই তরুণ। বিশ্বব্যাপী মোট ব্যবহারকারীর প্রায় ৩৪ শতাংশের বয়স ২৫ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। অন্যদিকে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সিরা প্ল্যাটফর্মটির মোট ব্যবহারকারীর ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
ইনস্টাগ্রাম আধুনিক ‘ইনফ্লুয়েন্সার অর্থনীতি’র বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিপুল অনুসারীসংখ্যা থাকা ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে আয় ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে পারছেন। ২০২০ সালে চালু হওয়া ইন-অ্যাপ শপিং সুবিধা বড় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।
তবে বাণিজ্যিক ও সামাজিক বিস্তারের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে আইনি ও নিয়ন্ত্রক চাপের মুখেও পড়েছে ইনস্টাগ্রাম। ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শিশু-কিশোরদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আয়ারল্যান্ডের ডেটা প্রোটেকশন কমিশন (ডিপিসি) ইনস্টাগ্রামকে ৪০ কোটি ৫০ লাখ ইউরো জরিমানা করে।
এর এক বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের ৪১টি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে মামলা করে। অভিযোগ ছিল, অ্যাপটির কিছু আসক্তিকর ফিচার শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। চলতি বছরের আগস্টে ওই বিরোধের নিষ্পত্তি হয়।
লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির বিজনেস স্কুলের উপ-ডিন এবং ডিজিটাল অর্থনীতি বিষয়ক অধ্যাপক ইয়াসমিন ইব্রাহিম আনাদোলুকে বলেন, ইনস্টাগ্রাম দৃশ্যমানতা, সামাজিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যের সম্পর্ককে আমূল বদলে দিয়েছে। কম খরচে মানুষ নিজেদের দৈনন্দিন জীবনকেও বাজারজাতযোগ্য সম্পদে পরিণত করার সুযোগ পাচ্ছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, স্পন্সর করা পণ্য ও বিজ্ঞাপন এতটাই স্বাভাবিকভাবে কনটেন্টের সঙ্গে মিশে যায় যে ব্যবহারকারীরা অনেক সময় বাণিজ্যিক প্রচারণা ও প্রকৃত সামাজিক যোগাযোগের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না। এতে ইনফ্লুয়েন্সারদের অবস্থান বন্ধু, তারকা ও বিক্রয় প্রতিনিধির মধ্যবর্তী এক অস্পষ্ট জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়।
ইয়াসমিন ইব্রাহিমের মতে, ইনস্টাগ্রাম তরুণদের মধ্যে তুলনামূলক সংস্কৃতিও জোরদার করেছে। প্ল্যাটফর্মটির চিত্রনির্ভর কাঠামো ব্যবহারকারীদের নিজেদের শরীর, সাফল্য ও বাস্তব জীবনকে অন্যদের সম্পাদিত ও সাজানো জীবনের সঙ্গে তুলনা করতে উৎসাহিত করে।
তিনি বলেন, এই প্রবণতা অনেকের মধ্যে ‘যথেষ্ট ভালো নই’, ‘যথেষ্ট ভোগ করছি না’ কিংবা ‘জীবনকে পুরোপুরি উপভোগ করতে পারছি না’—এ ধরনের সামাজিক উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
তার ভাষ্য, অতিরিক্ত কনটেন্টের কারণে অনেক ব্যবহারকারী মনোযোগের ক্লান্তিতে ভোগেন। তবুও কিছু মিস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বা ‘ফিয়ার অব মিসিং আউট’ (ফোমো) তাদের বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনে। একই সঙ্গে ফিল্টার ও সম্পাদনার মাধ্যমে সাজানো অন্যদের জীবন দেখে তারা নানা সম্ভাবনা কল্পনা করেন।
তিনি আরও বলেন, ইনস্টাগ্রাম সামাজিক পরিসরের মধ্যেই বিজ্ঞাপনকে একীভূত করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রকে বাণিজ্যিক মূল্য সৃষ্টির উৎসে পরিণত করেছে।
সূত্র- দ্যা এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

-6ac4cd9bab91f.jpg)