ডার্ক ম্যাটারের উৎস কি ব্ল্যাক হোল? গবেষণায় মিলল নতুন ইঙ্গিত
Advertisement
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মহাবিশ্বের রহস্যময় অন্ধকার পদার্থের (ডার্ক ম্যাটার) বড় অংশজুড়ে রয়েছে সূর্যের চেয়ে কোটি কোটি গুণ ভারী কৃষ্ণগহ্বর, এমন ধারণা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, পুরো ছায়াপথের চেয়েও বেশি ভরসম্পন্ন বিশাল কৃষ্ণগহ্বর অন্ধকার পদার্থের উল্লেখযোগ্য অংশ নয়।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাবিশ্বের মোট পদার্থের প্রায় ছয় ভাগের পাঁচ ভাগই অন্ধকার পদার্থ। এটি সরাসরি দেখা যায় না। তবে এর মহাকর্ষীয় আকর্ষণ ছায়াপথগুলোকে একসঙ্গে ধরে রাখতে সাহায্য করে। তা না হলে ছায়াপথগুলো যে গতিতে ঘুরছে, তাতে সেগুলোর গঠন ধরে রাখা কঠিন হতো।
তবে অন্ধকার পদার্থ আসলে কী, এমনকি এর অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা নিয়েও বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়েছে। কৃষ্ণগহ্বরের ভর অনেক বেশি এবং এগুলো শনাক্ত করাও কঠিন। এ কারণে একসময় ধারণা করা হয়েছিল, কৃষ্ণগহ্বরই হয়তো অন্ধকার পদার্থের অন্যতম উৎস।
নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করেছেন, সূর্যের ভরের ১০০ বিলিয়ন গুণেরও বেশি ভরসম্পন্ন অতি বিশাল কৃষ্ণগহ্বর অন্ধকার পদার্থের বড় অংশ হতে পারে কি না। এমন কিছু কৃষ্ণগহ্বরের ভর পুরো ছায়াপথের ভরের চেয়েও বেশি হতে পারে।
এখন পর্যন্ত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এ ধরনের অতি বিশাল কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব শনাক্ত করতে পারেননি। বর্তমানে পরিচিত সবচেয়ে ভারী কৃষ্ণগহ্বরটির ভর সূর্যের প্রায় ৩৬ বিলিয়ন গুণ বলে ধারণা করা হয়। বহু ছায়াপথ পর্যবেক্ষণ করেও আরও বড় কৃষ্ণগহ্বরের সন্ধান না পাওয়ায় গবেষকেরা মনে করছেন, এগুলো অন্ধকার পদার্থের সম্পূর্ণ বা বড় অংশ গঠন করতে পারে না।
গবেষকেরা বিষয়টি যাচাই করতে মহাবিশ্বের শৈশবের আলোর বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করেন। মহাবিস্ফোরণের (বিগ ব্যাং) পর প্রথম প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার বছর মহাবিশ্ব ছিল উত্তপ্ত প্লাজমায় পূর্ণ। তখন আলো স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারত না। মহাবিশ্ব প্রসারিত হয়ে ঠান্ডা হওয়ার পর পরমাণু তৈরি হয় এবং আলো ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। সেই প্রাচীন আলোর অবশিষ্টাংশ এখনো মহাবিশ্বজুড়ে রয়েছে। একে বলা হয় ‘কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড’।
এই আলোর তাপমাত্রার সূক্ষ্ম পার্থক্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা অতীতের মহাবিশ্বে পদার্থ কীভাবে ছড়িয়ে ছিল, সে সম্পর্কে ধারণা পান। গবেষণায় দেখা গেছে, আলোতে এমন অসম বণ্টনের চিহ্ন নেই, যা অতি বিশাল কৃষ্ণগহ্বরের আধিক্য থাকলে দেখা যাওয়ার কথা।
তবে গবেষকেরা বলছেন, এর অর্থ এই নয় যে অতি বিশাল কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব নেই। বরং এগুলো অন্ধকার পদার্থের বড় অংশ নয়। গ্রহাণুর মতো আকারের তুলনামূলক ছোট কৃষ্ণগহ্বর অন্ধকার পদার্থের অংশ হতে পারে কি না, তা নিয়েও এখন গবেষণা চলছে।
গবেষণাটি ২৬ অক্টোবর ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স সাময়িকীতে প্রকাশের কথা রয়েছে।
সূত্র: স্পেস ডট কম

-6adf05ebeb7d2.jpg)