কে এই বীরবল?
jugantor
কে এই বীরবল?

  সত্যজিৎ বিশ্বাস  

০১ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বীরবলের মজার এবং বুদ্ধিদীপ্ত গল্পগুলো যুগের পর যুগ আমাদের হাসিয়েছে এবং ভাবিয়েছে। কিন্তু কে এই বীরবল? ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায়, বীরবলের আসল নাম মহেশ দাস ভট্ট। কিন্তু সে নামে তাকে আর কজনই বা চেনে! বীরবল নামেই সবার কাছে পরিচিত তিনি। ১৫২৮ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের কল্পি গ্রামের নিকটবর্তী এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে তার জন্ম। লোককথা অনুযায়ী, তার জন্ম যমুনা নদীর তীরবর্তী তিকাওয়ানপুর গ্রামে। বীরবলের বাবার নাম গঙ্গা দাস আর মায়ের নাম অনভা দেবী।

কারও কারও মতে অনেক আগে থেকেই তার পরিবারের কবিতা ও সাহিত্যের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। হিন্দি, সংস্কৃত আর ফার্সি ভাষায় দক্ষ বীরবল কাব্য ও সঙ্গীত রচনায়ও ছিলেন পারদর্শী। এছাড়া তিনি গদ্যও লিখতেন এবং ‘ব্রজবুলি’ নামক ভাষায় বিশেষ দক্ষ ছিলেন। একসময় বীরবল মধ্যপ্রদেশের রেওয়াতে রাজপুত রাজা রামচন্দ্রের রাজসভায় রাজ সেবাকার্যে নিয়োজিত ছিলেন; কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে বীরবল ছিলেন দরিদ্র। অবশ্য বীরবলের শ্বশুর ভাগ্য ভালোই বলতে হবে। কারণ এক ধনীর কন্যাকে বিয়ে করার পর তার আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার বেশ খানিকটা উন্নতি হয়।

তবে সম্রাট আকবরের দরবারে সুনাম অর্জনে বীরবলের নিজস্ব মেধাই যথেষ্ট ছিল। মুঘল সম্রাট আকবরের অন্যতম সভাসদ ছিলেন বীরবল। সম্রাট আকবরের সঙ্গে নাটকীয় পরিচয়ের পর ১৫৫৬ সালে তার রাজসভায় অন্তর্ভুক্ত হন বীরবল। প্রায় ৩০ বছর ধরে বীরবল একনিষ্ঠভাবে তার দায়িত্ব পালন করে যান আকবরের রাজসভায়। অসাধারণ রসবোধ ও প্রখর বুদ্ধির জোরে খুব অল্প সময়ে তিনি রাজসভায় অনেক উচ্চপদ লাভ করেন, যে কারণে রাজসভার অনেকেরই ঈর্ষার পাত্র ছিলেন তিনি। আকবরের দরবারে গুণী ব্যক্তিদের যে বিশাল সমারোহ- এর মধ্যে নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বলা হতো ‘নবরত্ন’। এই নবরত্নের সবচেয়ে ‘উজ্জ্বল রত্নটি’ ছিলেন মহেশ দাস ভট্ট তথা বীরবল।

মূলত বীরবল বাদশাহ আকবরের দরবারে একজন কবি ও গায়ক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। কিন্তু সেসব পরিচয় পেছনে ফেলে উপস্থিত বুদ্ধি ও অসাধারণ মেধার জন্য তিনি সবার কাছে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেন। হাস্যরসের মাধ্যমে অনেক অসঙ্গতিকে তুলে ধরতে দারুণ পটু ছিলেন বীরবল। পাশাপাশি সমর বিদ্যায়ও বীরবলের দখল ছিল উল্লেখ করার মতো। সম্রাট আকবরও প্রায় সব বিষয়ে বীরবলের বুদ্ধি-পরামর্শ নিতেন। ১৫৮৬ সালে আকবর তাকে এক অভিযানে ভারতের উত্তর-দক্ষিণ দিকে অর্থাৎ বর্তমান আফগানিস্তানে পাঠান। কিন্তু এই অভিযান অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয় এবং বিদ্রোহী উপজাতিদের আক্রমণে বহু সৈন্যসহ বীরবল মৃত্যুবরণ করেন।

আকবরের শাসনামলের শেষদিকে তার এবং বীরবলের মধ্যকার মজার ঘটনাগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশিত হতে থাকে। এ কাহিনীগুলোতে বীরবলকে ক্ষুরধার বুদ্ধিমান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ধীরে ধীরে এ কাহিনী পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আর একইসঙ্গে মানুষের মনে চিরদিনের মতো গেঁথে যায় একটি নাম- বীরবল!

কে এই বীরবল?

 সত্যজিৎ বিশ্বাস 
০১ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বীরবলের মজার এবং বুদ্ধিদীপ্ত গল্পগুলো যুগের পর যুগ আমাদের হাসিয়েছে এবং ভাবিয়েছে। কিন্তু কে এই বীরবল? ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায়, বীরবলের আসল নাম মহেশ দাস ভট্ট। কিন্তু সে নামে তাকে আর কজনই বা চেনে! বীরবল নামেই সবার কাছে পরিচিত তিনি। ১৫২৮ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের কল্পি গ্রামের নিকটবর্তী এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে তার জন্ম। লোককথা অনুযায়ী, তার জন্ম যমুনা নদীর তীরবর্তী তিকাওয়ানপুর গ্রামে। বীরবলের বাবার নাম গঙ্গা দাস আর মায়ের নাম অনভা দেবী।

কারও কারও মতে অনেক আগে থেকেই তার পরিবারের কবিতা ও সাহিত্যের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। হিন্দি, সংস্কৃত আর ফার্সি ভাষায় দক্ষ বীরবল কাব্য ও সঙ্গীত রচনায়ও ছিলেন পারদর্শী। এছাড়া তিনি গদ্যও লিখতেন এবং ‘ব্রজবুলি’ নামক ভাষায় বিশেষ দক্ষ ছিলেন। একসময় বীরবল মধ্যপ্রদেশের রেওয়াতে রাজপুত রাজা রামচন্দ্রের রাজসভায় রাজ সেবাকার্যে নিয়োজিত ছিলেন; কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে বীরবল ছিলেন দরিদ্র। অবশ্য বীরবলের শ্বশুর ভাগ্য ভালোই বলতে হবে। কারণ এক ধনীর কন্যাকে বিয়ে করার পর তার আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার বেশ খানিকটা উন্নতি হয়।

তবে সম্রাট আকবরের দরবারে সুনাম অর্জনে বীরবলের নিজস্ব মেধাই যথেষ্ট ছিল। মুঘল সম্রাট আকবরের অন্যতম সভাসদ ছিলেন বীরবল। সম্রাট আকবরের সঙ্গে নাটকীয় পরিচয়ের পর ১৫৫৬ সালে তার রাজসভায় অন্তর্ভুক্ত হন বীরবল। প্রায় ৩০ বছর ধরে বীরবল একনিষ্ঠভাবে তার দায়িত্ব পালন করে যান আকবরের রাজসভায়। অসাধারণ রসবোধ ও প্রখর বুদ্ধির জোরে খুব অল্প সময়ে তিনি রাজসভায় অনেক উচ্চপদ লাভ করেন, যে কারণে রাজসভার অনেকেরই ঈর্ষার পাত্র ছিলেন তিনি। আকবরের দরবারে গুণী ব্যক্তিদের যে বিশাল সমারোহ- এর মধ্যে নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বলা হতো ‘নবরত্ন’। এই নবরত্নের সবচেয়ে ‘উজ্জ্বল রত্নটি’ ছিলেন মহেশ দাস ভট্ট তথা বীরবল।

মূলত বীরবল বাদশাহ আকবরের দরবারে একজন কবি ও গায়ক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। কিন্তু সেসব পরিচয় পেছনে ফেলে উপস্থিত বুদ্ধি ও অসাধারণ মেধার জন্য তিনি সবার কাছে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেন। হাস্যরসের মাধ্যমে অনেক অসঙ্গতিকে তুলে ধরতে দারুণ পটু ছিলেন বীরবল। পাশাপাশি সমর বিদ্যায়ও বীরবলের দখল ছিল উল্লেখ করার মতো। সম্রাট আকবরও প্রায় সব বিষয়ে বীরবলের বুদ্ধি-পরামর্শ নিতেন। ১৫৮৬ সালে আকবর তাকে এক অভিযানে ভারতের উত্তর-দক্ষিণ দিকে অর্থাৎ বর্তমান আফগানিস্তানে পাঠান। কিন্তু এই অভিযান অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয় এবং বিদ্রোহী উপজাতিদের আক্রমণে বহু সৈন্যসহ বীরবল মৃত্যুবরণ করেন।

আকবরের শাসনামলের শেষদিকে তার এবং বীরবলের মধ্যকার মজার ঘটনাগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশিত হতে থাকে। এ কাহিনীগুলোতে বীরবলকে ক্ষুরধার বুদ্ধিমান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ধীরে ধীরে এ কাহিনী পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আর একইসঙ্গে মানুষের মনে চিরদিনের মতো গেঁথে যায় একটি নাম- বীরবল!

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন