Logo
Logo
×

Advertisement

বিচ্ছু

মলাট বৃত্তান্ত

জ্বালানি তেলের জ্বালা

মমিন, বাইরের ভাড়াডি আগে ল। যাত্রী কইলাম ফাল দিব! * দিতাছেন আগের ভাড়া, উঠতাছেন ছাদে! ঘটনা কী? * বাস ভাড়া বাড়ছে, ছাদ ভাড়া তো বাড়ে নাই!

Advertisement

Icon

মো: রায়হান কবির

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

পৃথিবীর কোনো সংকট শফিক সাহেবকে টাচ করতে পারে না। তিনি পেশায় একজন ম্যানেজার। তাই সবকিছু ম্যানেজ করতে জানেন। বেসরকারি চাকরি করেন, ফলে বাড়তি ইনকামের সুযোগ নেই। আবার বছর বছর বেতনও বাড়ে না। তারপরও তিনি বিন্দাস চলেন! এর রহস্য কেউ খুঁজে পায় না। অফিসের একমাত্র ব্যক্তি যিনি বেতন বাড়াতে কোনো চাপ দেন না। এমনকি অফিসের বিজনেস খারাপ হলে মাঝে মাঝে আফসোস করেন, বেতনটা বেশি নিচ্ছেন না তো! অফিসকে পরম মমতায় আগলে রাখেন, যেন নিজের সন্তান!

শফিক সাহেবের একটা গাড়ি আছে। গত কয়েক মাসে জ্বালানি তেলের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকে অফিসের বাইক ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন। তার বদলে বাস ব্যবহার করছেন, বাজেট ঠিক রাখতে। কিন্তু শফিক সাহেব দিব্বি গাড়ি হাঁকাচ্ছেন হাসিমুখেই! কিন্তু কীভাবে?

একটা ব্যাপার, সত্যি শফিক সাহেব সৎ মানুষ। ঘুস-টুষ খাওয়ার অভ্যাস বা সুযোগ নেই। কিন্তু তারপরও তার ম্যানেজিং পাওয়ার দেখে সবার ভিমরি খাওয়ার উপক্রম। তবে সব রহস্যের জাল একদিন উন্মোচন হয়ে যায়। অফিসের এক পিওন সেদিন শফিক সাহেবকে দেখে ফেলে! ব্যস, আর পায় কে? পুরো অফিস গরম! এই তাহলে রহস্য! এভাবেই দিনের পর দিন সবার চোখে ধুলা দিয়ে চলছেন শফিক সাহেব! রহস্য হলো, শফিক সাহেব তার গাড়ি অফিস থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরের একটা গ্যারেজে রাখেন। আর বাসা থেকে প্রতিদিন বাসে করে ওই গ্যারেজে এসে তারপর গাড়িতে অফিসে আসেন! ফলে তেল কম লাগে। এভাবেই তিনি ম্যানেজ করে চলেছেন জ্বালানি তেলের মূল্য। অর্থাৎ তেলের দাম যত বেড়েছে, শফিক সাহেবের গ্যারেজের দূরত্ব অফিস থেকে তত কমেছে। এক সময় বাসার নিচের বেজমেন্টেই গাড়ি রাখতেন, সেটা অফিস থেকে ১০-১২ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় তা তিনি অফিসের কাছাকাছি রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তেলের দাম বাড়লেও শফিক সাহেবের খরচ বাড়েনি, বরং কমেছে!

এবার সবাই দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে নিয়েছে। গত কয়েক মাস আগে তিনি হঠাৎ বুদ্ধি বের করলেন দুপুরের খাবার একটু আগে খাবেন। তাই অন্য সবাই লাঞ্চ দুপুর দুইটার মধ্যে সারলেও শফিক সাহেব সারতেন বারোটা সাড়ে বারোটার মধ্যে। তিনি বলতেন, ‘আরে তোমরা সব কিছু বিদেশি ফলো কর, তাহলে লাইফস্টাইল কেন দেশি থাকবে? বিদেশিরা ব্রেকফাস্ট এবং লাঞ্চ একসঙ্গে করে, তার নাম ব্রাঞ্চ। যেটা খুবই স্বাস্থ্যকর। আসলে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নাশতা এবং দুপুরের খাবারের জায়গায় একটা মিল খেতেন। ফলে এখানেও তিনি আগের চেয়ে সাশ্রয় করতেন। যেমন গ্যাস বেঁচে যেত, তেমনি খাবারের উপকরণ। আর এভাবেই তিনি সব কিছু ম্যানেজ করতেন।

তাই জ্বালানি তেলের জ্বালায় সবাই জ্বললেও শফিক সাহেবকে তা ছুঁতে পারেনি। ফলে তেলের দাম বাড়ায় যারা মোটরসাইকেল পর্যন্ত বসিয়ে রাখছেন, সেখানে শফিক সাহেব দারুণভাবে গাড়ি হাঁকাচ্ছেন।

আজকালকার যুগে প্ল্যান না থাকলে চলে না। বিশেষ করে শফিক সাহেবের মতো প্ল্যান করে চলা শিখতে হবে। তাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ুক কিংবা ভোজ্যতেল, কোনো কিছুই জ্বালাতে পারবে না। বরং তেল বাড়ার এসময়ও আপনি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাতে পারবেন, শুধু একটু প্ল্যান করে চললেই হলো!

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

মলাট বৃত্তান্ত জ্বালানি তেলের জ্বালা

জ্বালানি তেলের জ্বালা

একগুচ্ছ কৌতুক

একগুচ্ছ কৌতুক

ভিনদেশি মজার গল্প লিফট রঙ্গ

লিফট রঙ্গ

পাঠকছড়া তেলকাহন

তেলকাহন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম