গিটার হাতে ইমরানের গানের লড়াই
Advertisement
আনন্দনগর প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইমরান মাহমুদুল, দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের মধ্যে অন্যতম একজন। শুরুটা ছিল ২০০৮ সালে, চ্যানেল আইয়ের গানের প্রতিযোগিতা ‘সেরা কণ্ঠ’ দিয়ে। হাঁটি হাঁটি পা পা করে গানের জগতে কাটিয়ে দিয়েছেন দেড় যুগ। পেয়েছেন সাফল্য। তবে এই জায়গায় পৌঁছানোর পথটা সহজ ছিল না। কাঁধে গিটার নিয়ে মৌলিক গানের খোঁজে ছুটে বেড়ানো সেই দিনগুলোর গল্প সম্প্রতি তিনি তুলে ধরেছেন এক অনুষ্ঠানে। ইমরান জানান, তখন ইউটিউব বা ফেসবুক ছিল না, সহজে ভক্ত তৈরির সুযোগও ছিল না। সারা দেশের মানুষের কাছে পরিচিত হওয়ার বড় মাধ্যম ছিল রিয়্যালিটি শো। সেই পরিচিতিকে পুঁজি করেই নিজের কাজ আর দক্ষতার জোরে তিনি এগিয়েছেন। রিয়েলিটি শো-র প্ল্যাটফর্ম থেকে উঠে আসার সেইদিনগুলোকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ রিয়েলিটি শো আমাকে মূলধারার সংগীতে আসার এবং পরিচিতি পাওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগটি করে দিয়েছিল। বিশেষ করে আয়োজক চ্যানেল আইয়ের প্রতি আমি সবসময়ই কৃতজ্ঞ।’
এ শিল্পীর শুরুর দিনগুলোর সঙ্গী ছিল একটি গিটার আর একটি অ্যালবামের স্বপ্ন। আজকের অবস্থানের পেছনে কঠোর পরিশ্রম, দীর্ঘ সংগ্রাম আর পরিবারের পূর্ণ সমর্থনের কথা বলেন ইমরান। রিয়্যালিটি শোর পর পরিচিতি পেলেও তার মনে ছিল মৌলিক গান করার তীব্র ইচ্ছা। সে সময় অনেকে স্টেজ শো করে আয়ের পেছনে ছুটলেও তিনি হেঁটেছেন উলটো পথে। তাৎক্ষণিক আয়ের দিকে না তাকিয়ে কীভাবে মৌলিক গান তৈরি করা যায়, কীভাবে সুরকারদের সান্নিধ্য পাওয়া যায়, সেই চিন্তায় দিনরাত ছুটেছেন। কাঁধে গিটার নিয়ে বেইলি রোড ও মগবাজারের মিউজিক এলাকাগুলোতে ঘুরেছেন দিনের পর দিন। শুরুর দিকের কথা স্মরণ করে ইমরান বলেন, ‘গীতিকার আর মিউজিক ডিরেক্টরদের সঙ্গে বসে রাত জেগে গান বানানো ও কথা নিয়ে আলোচনা চলত। এমনও হয়েছে কাজ শেষে রাতে বাসায় ফেরার উপায় নেই। তখন সিনিয়র কারও বাসায় থেকে যেতাম।’ তবে স্বপ্ন পূরণে অটল ছিলেন এ গায়ক। মৌচাকের বিভিন্ন স্টুডিওতে কাজ করার পর যাত্রাবাড়ীর নিজের বাসায় গড়ে তোলেন ছোট একটি স্টুডিও। সেখানেই ধাপে ধাপে, শিশুর মতো একটু একটু করে কাজ শিখেছেন, রপ্ত করেছেন সুর করার কৌশল। সেই শেখার পথ ধরেই আজকের জনপ্রিয় জায়গায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ইমরান। ১৮ বছর আগের দিনগুলোকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সে দিনের সেই ছোট্ট স্বপ্নটা আজ ১৮ বছরের এক বিশাল যাত্রা। এই ১৮ বছরে পেয়েছি অসংখ্য গান, মঞ্চ, সাফল্য, ব্যর্থতা, ভালোবাসা, অভিমান আর হাজারো স্মৃতি। কিন্তু সবচেয়ে বড় পাওয়া, দর্শকদের ভালোবাসা।’
প্রসঙ্গত, এ সংগীতশিল্পী টানা দুমাস যুক্তরাষ্ট্রে কনসার্ট, স্টেজ শো ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। কিছুদিনের মধ্যেই নতুন গানের কাজ শুরু করবেন বলেও জানান তিনি।
