Logo
Logo
×

Advertisement

বাংলার মুখ

অঘোষিত রাজা বিট কর্মকর্তা

দুর্নীতির সাম্রাজ্যে পরিণত করা হয়েছে দশমিনার নদীবেষ্টিত সবুজ বন

Advertisement

Icon

মো. মামুন তানভীর, দশমিনা (পটুয়াখালী)

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অঘোষিত রাজা বিট কর্মকর্তা

বিট কর্মকর্তা রওসান হাছান।

Advertisement

দশমিনা উপজেলার নদীবেষ্টিত সবুজ বন এখন দুর্নীতির সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় জেলে ও নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে দুর্নীতির এ সাম্রাজ্যে চলে লাখ লাখ টাকার কারবার। আর ওই সাম্রাজ্যের অঘোষিত রাজা যেন বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা রওসান হাছান। বনের সিংহভাগ দুর্নীতির নিয়ন্ত্রকও তিনি।

অভিযোগ আছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই চলে তার রাজত্ব। একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর চাকরি করলেও রহস্যজনক কারণে বদলি করা হচ্ছে না তাকে। অথচ, সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী তার বদলির সময় পেরিয়ে গেছে বহু আগেই।

বনের দুর্নীতির সাম্রাজ্যের সঙ্গে রওসান হাছান ছাড়াও বন বিভাগসংশ্লিষ্ট অনেকেই জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হওয়া উপজেলা বন বিভাগের বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির দাপটের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই। বন ও অর্থখেকো কর্তাদের জুলুম-নির্যাতনে অসহায় সাধারণ মানুষ। ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলার চরহাদীতে এক বিট কর্মকর্তার চাহিদামতো ১২ হাজার টাকা ঘুস দিয়ে ছয়টি মহিষ আটকাবস্থা থেকে মুক্ত করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন সুমন হাওলাদার নামে এক রাখাল। আলোচিত সে ঘটনার পরও কর্মকর্তাদের মনের বনে রয়ে গেছে দুর্নীতির শেকড়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ চরহায়দার, লালচর, চরআলগা, চরহাদি ও চরশাহজালালে বন বিভাগের সামাজিক বনাঞ্চল রয়েছে। বন বিভাগ সূত্র বলছে, চরগুলোতে ২০ হাজার একর বন বিভাগের জমি রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৮২১ একর বনাঞ্চল রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিশাল বনাঞ্চল ও জমি থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিট কর্মকর্তা রওসান হাছানসহ বন বিভাগের অসাধু ব্যক্তিরা প্রভাবশালীদের বনের গাছ ও মাটি কেটে খালে বাঁধের পর বাঁধ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। প্রতি বছর ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পরবর্তী বছরের জন্য ভিন্ন ভিন্নভাবে লাখ লাখ টাকায় লিখিত-অলিখিত বিট দেওয়া হয় চরাঞ্চল। সেইসঙ্গে বনের খালে ঝাড়া দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে লাখ লাখ টাকার ঘুসের কারবার করা হচ্ছে।

এছাড়া গোপনে বনের গাছ বিক্রি ও বন বিভাগের জমিতে মহিষ চড়ানোর অনুমোতি দিয়ে মাসিক ও বার্ষিক কিস্তিতে হাজার হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে রাখালদের থেকে। নারকেল গাছের ডাব বিক্রি করেও হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে টাকা। তবে, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে অত্যাচার, হামলা-মামলা ও হয়রানি করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

মো. অহিদুজ্জামান নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর চরের খালে বাঁধ দিতে নিষেধ করেছেন। তারপরও টাকা নিয়ে বন বিভাগ খালে বাঁধ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় প্রভাবশালীদের। গণঅধিকার পরিষদের নেতা হওয়ায় আমি প্রতিবাদ করি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকেসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দুটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বন বিভাগ।’

তিনি বন বিভাগের অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি। সহিদুল ইসলাম নামে একজন বলেন, ‘তাদের শতাধিক মহিষ রয়েছে। বছরে প্রত্যেকটি মহিষের জন্য বিট কর্মকর্তা রওসান হাছানসহ বন বিভাগের লোকজনকে দুই হাজার করে টাকা দিতে হয়। টাকা নিয়ে খালে বাঁধ দেওয়া হয়।’

হাসান সরদার নামে অন্য একজন বলেন, বন বিভাগের লোকজন চরে লাখ লাখ টাকার কারবার করেন। অভিযোগের বিষয়ে বিট কর্মকর্তা রওসান হাছান যুগান্তরকে বলেন, তিনি চরফাতেমা, চরআলগা ও চরহায়দারের দায়িত্বে আছেন। একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তার কোনো দুর্নীতির সাম্রাজ্য নেই এবং তিনি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে তিনি দাবি করেন।

উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রওসান হাছান দুর্নীতির গডফাদার বিষয়টি সত্য নয়। তিনি সঠিক দায়িত্ব পালন করেন। বিগত সময়ে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় খালে বাঁধ দেওয়া হলেও এখন সে সুযোগ নেই। বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে। যারা অন্যায় করেছেন কেবল তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে। অন্যায়ভাবে কাউকে হয়রানি করা হয়নি।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

মাথায় গাছের ডাল পড়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

মাথায় গাছের ডাল পড়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

তরমুজের জমি মাপতে গিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২

তরমুজের জমি মাপতে গিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২

মালচিং পদ্ধতিতে ১০ একর জমিতে অসময়ে তরমুজ চাষে সাফল্য

মালচিং পদ্ধতিতে ১০ একর জমিতে অসময়ে তরমুজ চাষে সাফল্য

বাবার পাশ থেকে ১০ মাসের শিশু গায়েব, খালু গ্রেফতার

বাবার পাশ থেকে ১০ মাসের শিশু গায়েব, খালু গ্রেফতার

অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিদর্শন বন্ধ কুয়াকাটার সীমা বৌদ্ধবিহার

অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিদর্শন বন্ধ কুয়াকাটার সীমা বৌদ্ধবিহার

মামার জন্য কিডনি দিতে চান ভাগনে, চাচার জন্য প্রস্তুত ভাতিজি

মামার জন্য কিডনি দিতে চান ভাগনে, চাচার জন্য প্রস্তুত ভাতিজি

আরও পড়ুন

চায়না দুয়ারি জালে হুমকিতে হাওড়ের মাছ ও জীববৈচিত্র্য

চায়না দুয়ারি জালে হুমকিতে হাওড়ের মাছ ও জীববৈচিত্র্য

মা-বাবাকে হারিয়েও থামেনি তাহমিনা

মা-বাবাকে হারিয়েও থামেনি তাহমিনা

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এক্স-রে মেশিন অচল রোগীদের দুর্ভোগ

এক্স-রে মেশিন অচল রোগীদের দুর্ভোগ

বোরহানউদ্দিনে বাবাকে বাঁচিয়ে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের

বোরহানউদ্দিনে বাবাকে বাঁচিয়ে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম