রাজশাহী-৫ আসন
দলীয় কোন্দলে বেকায়দায় বিএনপি প্রার্থী নজরুল
তানজিমুল হক, রাজশাহী
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার। নির্বাচনের অংশ হিসাবে রাজশাহীর ছয়টি আসনে অংশ নিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থী। তবে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দল আর উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এ আসনটিতে দলটির অন্তর্কোন্দল দৃশ্যমান। অভ্যন্তরীণ কলহে দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে বিএনপির সিংহভাগ নেতাকর্মী রয়েছেন নিষ্ক্রিয়। আসনটিতে বিএনপির সাত মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং তাদের অনুসারীরা এখনো নির্বাচনের মাঠে নেই। ফলে দলীয় কোন্দলে বেকায়দায় পড়েছেন এ আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম। নজরুল ছাড়াও আসনটিতে দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা হাবিবা, জেলা বিএনপির সদস্য রুকনুজ্জামান আলম, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা, বিএনপি নেতা প্রয়াত নাদিম মোস্তফার ছেলে জুলফার নাঈম মোস্তফা বিস্ময়, পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল, লন্ডন প্রবাসী রেজাউল করিম এবং আব্দুস সাত্তার। দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, ৩ নভেম্বর বিএনপির প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী ঘোষণার পরই নজরুল চরম বিরোধিতার মুখে পড়েন। ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, জনসভা ও মিছিলসহ নানা কর্মসূচি শুরু হয়। এরপরও নজরুলের মনোনয়ন বাতিল না হলে দলের তিনজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী বিস্ময়, শিমুল ও রেজাউলের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরপর তারা মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আগামী ১৩ ও ১৭ জানুয়ারি এ বিষয়ে শুনানি হবে। তবে একমাত্র মাহমুদা হাবিবা ছাড়া মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অনুসারীরা এখনো কেউ নজরুলের পক্ষে মাঠে নামেননি। তারা তাদের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের নির্দেশনার অপেক্ষা করছেন। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, নজরুলের বাইরে এখন বিএনপির যে তিনজন নেতা মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদের সঙ্গেই রয়েছেন দলটির সিংহভাগ নেতাকর্মী। বিশেষ করে পুঠিয়া ও দুর্গাপুরের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পদে যারা সাবেক নেতা ছিলেন, তারা বিদ্রোহীদের অনুসারী। এ কারণে দলের প্রার্থী নজরুলের গণসংযোগসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীর সংকট দেখা দিয়েছে। নজরুলের সার্বিক নির্বাচনি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দুর্গাপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমন আহমেদ সুমন বলেন, নির্বাচনি কর্মকাণ্ড পরিচালনায় যে জনবল প্রয়োজন, সেটি দলীয় প্রার্থীর নেই। তিনি এখন পর্যন্ত পুঠিয়া ও দুর্গাপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করতে পারেননি। দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এসএম আকবর আলী বাবলু বলেন, ২০১৮ সালেও নজরুল ইসলাম দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এবারও তিনি প্রার্থী। তিনি গত নির্বাচনের পর থেকে দুর্গাপুরে আসেননি। এখন নির্বাচনের সময় শুরু হওয়ায় আবার আসছেন। সাধারণ ভোটাররা বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। তার আহ্বানে সাড়া পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, এ আসনে সাবেক সংসদ-সদস্য বিএনপির প্রয়াত নেতা নাদিম মোস্তফার অনেক জনপ্রিয়তা ছিল। এলাকার মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। এ কারণে সবাই প্রয়াত নাদিমকে ভালোবাসতেন। এবার তার ছেলে বিস্ময় নির্বাচন করার সুযোগ পেলে ভোটের ফলাফলে এর প্রভাব পড়বে। তিনি এখন বিএনপি প্রার্থী নজরুলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুঠিয়ার এক মনোনয়নপ্রত্যাশী ও বিএনপি নেতা বলেন, এ আসনের তরুণদের প্রত্যাশা ছিল, একজন তরুণ বহুমাত্রিক নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। নজরুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ। তরুণদের সঙ্গে তিনি মেশেননি। এ কারণে নজরুল তাদের কাছে যেতে পারছেন না। তরুণদের সাড়াও পাচ্ছেন না। এটি ভোটের ফলাফলের সমীকরণ পালটে দিতে পারে। মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং তাদের অনুসারীদের ভোটের মাঠে না থাকা এবং সার্বিক বিষয়ে বক্তব্যের জন্য বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলামকে ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন না ধরার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
