Logo
Logo
×

নগর-মহানগর

রাজশাহী-১ আসন

মান-অভিমান ভুলে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি

তানজিমুল হক

তানজিমুল হক

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মান-অভিমান ভুলে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি

ফাইল ছবি

রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচন। দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এই আসনে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল চরম দ্বন্দ্ব-বিভেদ। স্থানীয়ভাবে বিএনপি নেতাকর্মীরা কয়েকটি দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েন। রক্তক্ষয়ী সংঘাতে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটে। তবে নির্বাচনের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে সব দ্বন্দ্বের নিরসন ঘটেছে। দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের দৃশ্যমান প্রকাশ ঘটেছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনের সঙ্গে মনোনয়নবঞ্চিত নেতা ও তাদের অনুসারীরা এক কাতারে এসেছেন। মান-অভিমান ভুলে হয়েছেন ঐক্যবদ্ধ। এই ঐক্যে বিএনপির তৃণমূলে পেয়েছে নতুন গতি। এদিকে বিএনপির এই ঐক্যে পালটে গেছে আসনটিতে ভোটের সমীকরণ।

মঙ্গলবার বিকালে গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে পৌর বিএনপি কার্যালয় চত্বরে মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনের সমর্থনে নির্বাচনি পথসভার আয়োজন করা হয়। পথসভায় মূল আকর্ষণ ছিল মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি নেতা সুলতানুল ইসলাম তারেক। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দূরত্ব থাকলেও একই মঞ্চে উপস্থিত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আসনের প্রার্থী এবং বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনও সবাইকে মান-অভিমান ভুলে ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে এক কাতারে আসার আহবান জানান। তিনি বলেন, বিএনপি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে দলের স্বার্থে আমরা যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত রয়েছি।

এ সময় আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম শাওয়াল, পৌর বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমানসহ উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও অনুসারীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে পথসভাটি পরিণত হয় এক বিশাল মিলনমেলায়।

এ সময় নেতারা তাদের বক্তব্যে বলেন, গোদাগাড়ী ও তানোরের প্রতিটি বাড়ি ও পাড়া-মহল্লায় আমরা সবাই মিলে ভোটারদের কাছে যাব। দেশ ও জনগণের জন্য বিএনপির পরিকল্পনা সম্পর্কে জনগণকে জানাব। সম্মিলিত নির্বাচনি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই প্রতিটি এলাকায় পৌঁছে যাবে আমাদের ঐক্যের বার্তা। এর মাধ্যমেই বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হবেন ধানের শীষের প্রার্থী। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এ আসনটিতে বিএনপির মনোনয়নের প্রত্যাশায় মাঠে সক্রিয় ছিলেন অ্যাডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেক। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরবর্তীতে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তা প্রত্যাহার করেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ আসনটিতে পরপর তিনবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক। তার ভাই মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন এবার মনোনয়ন পেয়েছেন। এ আসনে ব্যারিস্টার মিলন ও শিল্পপতি তারেক ছাড়াও আরও মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তারা হলেন-সাজেদুর রহমান মার্কনি, অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বিপ্লব, ইঞ্জিনিয়ার কেএম জুয়েল ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অধ্যাপক শাহাদৎ হোসেন শাহীন।

এদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের পর এ আসনে পালটে গেছে ভোটের সমীকরণ। আসনটিতে দশ মাস আগেই জামায়াতে ইসলামী দলটির কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে। সময় পাওয়ার কারণে জামায়াত নির্বাচনি কর্মকাণ্ড অনেক আগেই শুরু করে। ফলে এটি জামায়াতের জন্য ছিল প্লাস পয়েন্ট। তবে অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন হওয়ার কারণে আসনটিতে জয়ের ব্যাপারে প্রচণ্ড আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম