বাছাই পদ্ধতির প্রয়োগ
নূর মোহাম্মদের নতুন ধান, আশানুরূপ ফলন
ইমরান হোসাইন, তানোর (রাজশাহী)
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহীর তানোর উপজেলার গোল্লাপাড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদ আউশ, আমন ও বোরো ধানের বিভিন্ন কৌলিক সারি উদ্ভাবন করেছেন। বাছাই পদ্ধতি প্রয়োগ করে উদ্ভাবিত সারিগুলোর জীবনকাল অন্যান্য জাতের তুলনায় কম, উচ্চ ফলনশীল, সরু, সুগন্ধিযুক্ত ও খরা সহিষ্ণু। এছাড়া এই সারিগুলো ঝড়-বাতাসে সহজে হেলে পড়ে না। এগুলোতে রোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের তুলনায় কম। বর্তমানে নূর মোহাম্মদ লাল চাল উৎপাদনে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দেশি জাতের উন্নতি ঘটিয়ে ধানের জীবনকাল কমিয়ে এনেছেন। এতে ফসলে পানির চাহিদা কমে গেছে। খরাপীড়িত বরেন্দ্র অঞ্চলে কীভাবে কম পানিতে, কম সময়ে, কম খরচে, ধান কেটে ঘরে তোলা যায় এ নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম চালাচ্ছেন নূর মোহাম্মদ। কৃষিক্ষেত্রে নিত্যনতুন প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করে থাকেন তিনি। ধানের নতুন নতুন সারি উদ্ভাবন করায় এলাকার কৃষকরা বিভিন্ন মৌসুমে দেশি-বিদেশি উন্নত জাতের ধানের অবস্থা তাদের নিজ এলাকাতে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। তারা পছন্দের জাত চিহ্নিত করে বীজও সংগ্রহ করতে পারছেন। এজন্য এলাকায় উফশী জাতের সম্প্রসারণ ত্বরান্বিত হয়েছে। এলাকার কৃষকরা নূর মোহাম্মদের প্রযুক্তিতে চাষ করে আশানুরূপ ফলনও পাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শে নূর মোহাম্মদ কৃষিখামারে গবেষণা প্লটের দুটি জাত ও দুইশ সারির মধ্যে স্থানীয় জিরা ধানের বিকল্প হিসাবে ‘নূর ধান-১’ উদ্ভাবন করেন। বুধবার মাড়াই-ঝাড়া শেষে প্রতি বিঘায় এই ধান ২৮ দশমিক ২১ টন পাওয়া গেছে। যা শুকনো অবস্থায় ৮ দশমিক ৪৬৫ টন। আর চাল হেক্টরপ্রতি ৫ দশমিক ৬৭ টন পাওয়া গেছে। এই জাতের পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১১৯ দশমিক ১ সেন্টিমিটার। ছড়ার দৈর্ঘ্য ২৮ দশমিক ৪ সেন্টিমিটার। আর এক হাজার পুষ্ট দানার ওজন ১৯ দশমিক ৮০ গ্রাম। জীবনকাল ১৫০ দিন। এর চাল লম্বা ও চিকন হয়ে থাকে, যা জিরা চালের অনুরূপ বলে জানান নূর মোহাম্মদ।
