শাহরাস্তিতে মোবাইলে ব্যস্ত চিকিৎসক, রোগীর প্রাণহানি
লালপুরে চিকিৎসক ছাড়া সি-সেকশন নবজাতকের মৃত্যু
Advertisement
শাহরাস্তি (চাঁদপুর) ও লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী ওয়ার্ডে ওই রোগীর মৃত্যু হয়। এছাড়া নাটোরের লালপুরে চিকিৎসক ছাড়া সিজারিয়ান সেকশন (সি-সেকশন) করায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। শুক্রবার বিকালে উপজেলার গোপালপুর পৌর এলাকায় মুক্তার জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা বাজার ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের শেখের বাড়ির আক্তার হোসেনের স্ত্রী হাজেরা বেগম (৪২) বৃহস্পতিবার রাতে লিভারের সমস্যা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ওই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে চিকিৎসক প্রিয়াংকাকে দেখার অনুরোধ করেন রোগীর স্বামী। ওইসময় চিকিৎসক রোগীকে না দেখে তার কক্ষে মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। স্বজনদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে রোগীকে বেড থেকে কাঁধে করে তার কক্ষে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন চিকিৎসক। রোগীর স্বামীর একার পক্ষে তাকে চিকিৎসকের কক্ষে আনা সম্ভব নয় জানালে চিকিৎসক রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর রাত ১২টায় যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসককে দায়ী করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন রোগীর স্বজনরা। খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানা পুলিশ হাসপাতালে ছুটে আসে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আবু নাছের শাকিল জানান, কর্তব্যে অবহেলার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে লালপুরে চিকিৎসক ছাড়া সিজারিয়ান সেকশনের বিষয়ে প্রসূতি মিম আক্তারের ননদ সীমা খাতুন জানান, সকাল ৯টার দিকে মিমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান। পরে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত হয়। তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চিকিৎসক শিশির অস্ত্রোপচার করবেন। কিন্তু জুমার নামাজের সময় এ চিকিৎসক বাইরে থাকাকালে নার্সরা তড়িঘড়ি করে প্রসূতিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। কিছু সময় পর জানানো হয়, সিজারিয়ানের মাধ্যমে একটি মৃত শিশুর জন্ম হয়েছে।
সীমার দাবি, চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে অপারেশন করায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক মুক্তার হোসেনকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক মুক্তার অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘ওই সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। পরে এসে জানতে পারি, সিজারিয়ানের মাধ্যমে একটি মৃত শিশুর জন্ম হয়েছে।’
