জেলা যুবদলে রদবদল
খুলনায় কপাল খুলল ছাত্রদল নেতাদের
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক স্থবিরতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ঝিমিয়ে পড়া খুলনা জেলা যুবদলে অবশেষে বড় ধরনের রদবদল এসেছে। কেন্দ্র থেকে ৫ সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদনের মাধ্যমে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন এই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন জেলা ছাত্রদলের একাধিক সাবেক নেতা, যা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
রোববার যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে সভাপতি পদে শেখ নাদিমুজ্জামান জনি, সাধারণ সম্পাদক পদে গোলাম মোস্তফা তুহিন, সিনিয়র সহসভাপতি পদে জাবির আলী, ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মাসুম বিল্লাহ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে গাজী শহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মাত্র ১৯ মাসের মাথায় জেলা যুবদলের এই পরিবর্তন তৃণমূলে গভীর প্রভাব ফেলেছে। ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইবাদুল হক রুবায়েদকে আহ্বায়ক ও নাদিমুজ্জামান জনিকে সদস্য সচিব করে জেলা যুবদলের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির নির্দেশনা থাকলেও তারা তা করতে ব্যর্থ হন।
পরবর্তীতে ৬ মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গতা পায়। তবে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ এ সময়ে জেলা যুবদল কোনো কর্মিসভা বা প্রস্তুতি সভা করতে পারেনি। ফলে ৯টি উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে যুবদলের নতুন কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। সাবেক আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের মধ্যকার দূরত্বের কারণে দলের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের গতি স্তব্ধ হয়ে পড়ে বলে নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন। এমনকি ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি হলেও তাদের পরিচিতি সভা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি; যার ফলে যুবদল অনেকটাই গতি হারিয়ে ফেলে।
এ অবস্থায় খুলনা যুবদলকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে ৫ সদস্যের এই নতুন কমিটি গঠন করা হলো। নতুন কমিটিতে ছাত্রদলের সাবেক তিন শীর্ষ নেতা গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। সাংগঠনিক ব্যর্থতা ও নতুন কমিটি নিয়ে জেলা যুবদলের সাবেক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা আইয়ুব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘বিগত কমিটির ১৯ মাসেও কোনো কর্মিসভা ও প্রস্তুতি সভা করতে পারেনি। এর দায় সাবেক কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের। এত অল্প সময়ে এর আগে কোনো আহ্বায়ক কমিটি খুলনায় ভেঙে ফেলা হয়নি।
নতুন কমিটিতে আগের কমিটির আহ্বায়ক, প্রথম যুগ্ম সম্পাদকসহ অনেকেই বাদ পড়েছে। তবে সাবেক কমিটির সদস্য সচিব কীভাবে বর্তমান কমিটির সভাপতি হয়েছে এটা কেন্দ্র বলতে পারবে।’ সংগঠন সাজানো প্রসঙ্গে জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি জাবির আলী জানান, ‘সংগঠন চালাতে গেলে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে। আশা করি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে ভালো কাজ করব।’
নতুন ধারা সূচনার আশাবাদ ব্যক্ত করে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী শহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘বর্তমান কমিটিতে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। আগামীতে খুলনা জেলা যুবদল অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত হবে।’

