বিদেশে পিএইচডি করতে গিয়ে নারীর সঙ্গে প্রতারণা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, গাজীপুর
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সহকারী অধ্যাপক ড. ইব্রাহিম রশিদ। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রেমের নামে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত এক নারীর সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্ক, অর্থ আত্মসাৎসহ কয়েকটি অভিযোগ করেছেন ওই নারী। অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত শিক্ষককে তলব করা হলে তিনি লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক মৎস্য জীববিজ্ঞান ও জলজ পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ইব্রাহিম রশিদ। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব স্টার্লিং থেকে ২০২৫ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১ মার্চ যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ওই নারী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আবদুল্লাহ মৃধার কাছে ই-মেইলে অভিযোগ করেন। অভিযোগের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন নথি, হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশট এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ সংযুক্ত করেন। ওই নারী দাবি করেছেন, এ ঘটনায় স্কটল্যান্ড পুলিশের কাছেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইব্রাহিম রশিদ পিএইচডি করতে যুক্তরাজ্যে যান। ২০২৩ সালের দিকে সেখানে অবস্থানকালে স্কটল্যান্ডে বসবাসরত ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তবে নিজের স্ত্রী-সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন রাখেন। একপর্যায়ে বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে তাদের মধ্যে ঝামেলা তৈরি হয়। এরই মধ্যে পিএইচডি শেষ করে ওই শিক্ষক দেশে চলে আসেন। পরে ইব্রাহিম রশিদের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রোরের কাছে। অভিযোগে জানা যায়, সম্পর্কের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এমনকি ধর্ষণের অভিযোগে তিনি পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও করেন। ওই নারীর দাবি, এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি স্কটল্যান্ড পুলিশের তদন্তাধীন। অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাও নেন এবং সেখানে তার আঘাতের বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগের সঙ্গে হোটেল বুকিংয়ের তথ্য, অর্থ চাওয়ার বিষয়ে কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার স্ক্রিনশট এবং আপত্তিকর ও ভীতিপ্রদর্শনমূলক কথাবার্তার স্ক্রিনশট বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন ওই নারী। এছাড়া আর্থিক চাপের বিষয়ে অডিও রেকর্ডিং এবং অন্তরঙ্গ কথোপকথনের রেকর্ডও তার কাছে রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলোও তিনি প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করতে পারবেন।
তদন্ত কমিটি গঠন : অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদকে আহ্বায়ক এবং অধ্যাপক নাসরিন আক্তার আইরিন, অধ্যাপক আশরাফুল হক ও অধ্যাপক সাইফুল আলমকে সদস্য করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটি গঠনের পর অভিযুক্ত শিক্ষক ড. ইব্রাহিম রশিদের কাছে লিখিত বক্তব্য চাওয়া হয়। তিনি ইতোমধ্যে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। এরপর অভিযোগের পক্ষে প্রমাণাদি চেয়ে অভিযোগকারীকে ই-মেইল করা হয়েছে। প্রমাণাদি জমা দেওয়ার জন্য ওই নারী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইমেইলে অভিযোগ আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আবদুল্লাহ মৃধা। তিনি বলেন, অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি। তাই অভিযুক্ত শিক্ষক নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. ইব্রাহিম রশিদ বলেন, আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। লিখিত বক্তব্য চাওয়া হয়েছিল। আমি তা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছি। ওটাই আমার বক্তব্য।
