খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
পদোন্নতির তালিকায় অধিকাংশই আ.লীগপন্থি
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুকৃবি) আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে পদোন্নতির বোর্ড। প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে প্রায় ৩৩জন শিক্ষক পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। যার মধ্যে অধিকাংশই আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের সদস্য। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিচারের দাবিতে নীল দলের ব্যানারে খুকৃবিতে মানববন্ধন করা নেতারাও রয়েছেন পদোন্নতির অপেক্ষায়। এমন অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
এদিকে এগ্রিকালচারাল ইকনোমিক্স অ্যান্ড এগ্রিবিজিনেস স্টাডিজ অনুষদের চারজন শিক্ষককে ভাইভা কার্ড দেওয়ার পর সেটা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া মামলা সংক্রান্ত জটিলতা এবং বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের কারণেও একাধিক শিক্ষককে ভাইভা কার্ডই দেওয়া হয়নি। বিদেশে থাকা শিক্ষকদের অনলাইনের মাধ্যমে ভাইভা নেওয়া হবে কি-না সেটা নিয়েও এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
জানা যায়, আগামী ২৭, ২৮ এবং ২৯ অক্টোবর খুকৃবির অস্থায়ী প্রশাসনিক কার্যালয়ে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদের পদোন্নতি বোর্ড অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে পদোন্নতির জন্য পৃথক বোর্ড করা হয়েছে। এতে ভেটেরিনারি, এনিম্যাল অ্যান্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্সেস অনুষদের ৮ জন, ফিশারিজ অ্যান্ড ওসান সায়েন্স অনুষদের ৯ জন, এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ৬ জন, এগ্রিকালচারাল ইকনোমিক্স অ্যান্ড এগ্রিবিজিনেস স্টাডিজ অনুষদের ৬ জন প্রভাষক রয়েছেন। এছাড়া মাহফুজা ফেরদৌস, প্রসেনজিৎ সরকার, রাবেয়া আক্তার এবং জাবির রানা শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে অবস্থান করছেন। যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালে খুকৃবির অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নীল দলের ব্যানারে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের শাস্তি দ্রুত কার্যকরের দাবিতে মানববন্ধনে থাকা আসাদুজ্জামান লাভলুসহ একাধিক প্রভাষক পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়া তালিকা অনুযায়ী ১৮জন নীল দলের বিভিন্ন সময়ে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা রয়েছেন প্রভাষক পদে। নীল দলের সাবেক আইন ও দপ্তরবিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অঙ্কুর চৌধুরী, সাবেক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসাদুর রহমান এবং রাসমিয়া সুলতানা, সাবেক কোষাধ্যক্ষ জেসমিন আরা, সাবেক শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ভাঙ্কও চন্দ্র মজুমদার, সাবেক সমাজ কল্যাণ সম্পাদক জয়শংকর বৈদ্য, সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক কাজী মৌসুমি আক্তার এবং সাবেক প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হুমায়রা ইয়াসমিনসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রয়েছেন অনেক প্রভাষক। যারা ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষক হিসাবে ব্যাপক পরিচিত ছিলেন।
এদিকে এগ্রিকালচারাল ইকনোমিক্স অ্যান্ড এগ্রিবিজিনেস স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষক প্রিয়াংকা গোস্বামী, রাসমিয়া সুলতানা, মৌসুমী আক্তার এবং তন্বী সরকারকে ভাইভা কার্ড দেওয়ার পর ২১ আগস্ট সেটা বাতিল করা হয়। সাবেক উপাচার্যের মেয়ে ইশরাত খানের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় কার্ড দেওয়া হয়নি। সাবেক প্রভাষক বাছির আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলার কারণে কার্ড পাননি বলে জানা গেছে।
খুকৃবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রেজাউল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিদেশে যারা আছেন তাদের অনলাইনে ইন্টারভিউ নেওয়া হবে কি-না এটা বোর্ড বলতে পারবে। চার শিক্ষককে কার্ড দেওয়ার পর বাতিলের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের নিয়োগের বিষয়ে নতুন করে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। যার কারণে সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। নীল দলের একাধিক শিক্ষক তালিকায় থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা তাদের রাজনৈতিক ব্যাপার। এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।

