মানব পাচার নির্মূল
ন্যূনতম মানদণ্ড অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের মানব পাচারবিষয়ক প্রতিবেদন-২০২৬ এ বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। সার্বিক বিবেচনায় তারা আগের মতো দ্বিতীয় স্তরে (টায়ার-২) অবস্থান করছে। মানব পাচার নির্মূল করতে ন্যূনতম মানদণ্ড অর্জনের জন্য উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চলমান রাখলেও বাংলাদেশ সরকার এখনো তা পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘২০২৬ ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্ট : বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, মানব পাচার প্রতিরোধে বিগত বছরের তুলনায় বাংলাদেশ সরকারের সামগ্রিক উদ্যোগ বেড়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান আগের মতো রয়ে গেছে। একই ধাপে রয়েছে তাদের প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, ভুটান ও শ্রীলংকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মানব পাচারবিরোধী আইন শক্তিশালী করতে ২০২৬ সালে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে অভিবাসী চোরাচালান এবং জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করাকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধীদের চিহ্নিতকরণ, তদন্ত ও বিচার বেড়েছে।
মানব পাচারসংক্রান্ত অপরাধ শনাক্তসহ ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত করার নির্দেশিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে সরকার একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। মানব পাচারের ঝুঁকি কমাতে সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষাও জোরদার করেছে।
মানব পাচার নির্মূলে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের কথা স্বীকার করলেও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা, অপরাধীদের দণ্ড এবং অভিবাসী শ্রমিকদের শোষণ বন্ধে বাংলাদেশের ঘাটতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে।
এতে বলা হয়, আগের তুলনায় কমসংখ্যক মানব পাচারকারীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে মানব পাচার দমনে সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। এ ধরনের অপরাধের বিস্তারও ব্যাপক রয়ে গেছে। ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগও যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং দেশে ফিরে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এ ঘাটতি বেশি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের নিজেদের পকেট থেকে নিয়োগ ফি দেওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করেনি। ফলে অনেক শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। এতে তাদের মানব পাচারের শিকার হওয়ার ঝুঁকিও বেড়েছে।
মানব পাচার প্রতিরোধে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট আইনে নির্ধারিত ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করেছে, এমন দেশগুলোকে প্রথম ধাপে (টায়ার-১) রাখা হয়। যেসব দেশ নির্ধারিত ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি, কিন্তু উল্লেখযোগ্যভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সেগুলো দ্বিতীয় ধাপে (টায়ার-২)। দ্বিতীয় ধাপে আবার নজরদারির একটি তালিকা (টায়ার-২ ওয়াচ লিস্ট) রাখা হয়েছে। আর যেসব দেশ ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি অর্জন করেনি, আবার উল্লেখযোগ্য চেষ্টাও চালাচ্ছে না, সেগুলোকে তৃতীয় ধাপে (টায়ার-৩) রাখা হয়।
