Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

ভারতে ‘দিল্লি চলো’ আন্দোলন আজ

জেন-জি বিক্ষোভ ঘিরে নজিরবিহীন ধরপাকড়

ভারতজুড়ে ‘১০ হাজারের বেশি আটক’, ১০ স্টেডিয়ামে অস্থায়ী কারাগার * দিল্লিগামী ট্রেন ও মেট্রোরেল বন্ধ, ২৬ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন * লোকজনকে গৃহবন্দি করা হচ্ছে; অঘোষিত জরুরি অবস্থা : নেহা বোরা

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জেন-জি বিক্ষোভ ঘিরে নজিরবিহীন ধরপাকড়

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে শুক্রবার দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনমুখী পদযাত্রা কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী -এএফপি

Advertisement

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ শনিবার জিন-জিদের ডাকা আন্দোলন ঠেকাতে নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভারতজুড়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। ‘দিল্লি চলো’ আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর ২৬ হাজার কর্মী। বিভিন্ন রাজ্য থেকে দিল্লিমুখী ট্রেন বন্ধ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি দিল্লির ভেতরে ৫৭টি মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ থাকছে। এ অবস্থায় ভারতের নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন জেন-জি নেতা অভিজিৎ দীপকে ও নেহা বোরা।

সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ মসজিদসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে গিয়ে শনিবারের ‘দিল্লি চলো’ আন্দোলনে অংশ না নিতে লোকজনকে পরামর্শ দিচ্ছে। এক ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রেন থেকে দিল্লিগামী তরুণ-তরুণীদের নামিয়ে পুলিশ তাদের আটক করছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ককরোচ নেতা অভিজিৎ দীপকে। পুরো ভারত থেকে তরুণদের দিল্লি অভিমুখে যাত্রা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আটকে দিলে পুরো ভারত অচল করে দেওয়া হবে। অপর দিকে ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা বলছেন, শত শত মানুষকে গৃহবন্দি ও আটক করা হচ্ছে। এটা অঘোষিত জরুরি অবস্থা।

ব্যঙ্গাত্মক দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন দিল্লির যন্তর মন্তর ময়দানে এ বিক্ষোভের ডাক দেয়। সামাজিকমাধ্যমে সিজেপি নেতা আশোতোষ রাঙ্কার এক পোস্টের বরাত দিয়ে দ্য স্ক্রলের প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ শনিবারের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছাত্র, কৃষক, দলিতদের বিভিন্ন সংগঠনসহ ভারতজুড়ে অন্তত ১০ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে। সামাজিকমাধ্যমে গ্রেফতারের বিভিন্ন ভিডিও দেখা গেছে। যুগান্তর স্বাধীনভাবে এসব ভিডিও যাচাই করতে পারেনি।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, দলের পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে দিল্লিতে আসা বেশ কিছু ট্রেন বাতিলের প্রেক্ষিতে শুক্রবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন দীপকে। তিনি বলেন, সরকার যদি তরুণদের ভয় পায় (দিল্লিতে প্রবেশ করতে না দেয়), তবে তাদের উচিত পুরো দেশটাই বন্ধ করে দেওয়া। শনিবার যন্তর মন্তরে সিজেপির প্রস্তাবিত বিক্ষোভের ঠিক আগের দিন তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়ায় (এসআইআর) অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এ বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়।

অপরদিকে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোশিয়েশনের নেত্রী নেহা বোরা সামাজিকমাধ্যমে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার ভারতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। ইতিহাস যেন আবার ফিরে এলো। ১৯৪২ সালে যখন ‘ভারত বন্ধ’ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়, তখন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার হন স্বাধীনতা আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা। তিনি বলেন, আজ পুরো ভারতে ব্যাপকভাবে লোকজনকে গৃহবন্দি করা হচ্ছে। আমাদের খুঁজতে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ; দিল্লিগামী ট্রেন আটকে দেওয়া হচ্ছে; ৫৭টি মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ; সেনা, আধা-সামরিক সেনাসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সব ধরনের সদস্যদের দিল্লিতে নামানো হচ্ছে। এটা জরুরি অবস্থা ছাড়া আর কিছু নয়। নেহা বলেন, ১৯৪২ সালের মতোই নেতাদের গ্রেফতারে এ আন্দোলন থেমে যাবে না। যদি তারা গ্রেফতারও হন, তবে আন্দোলনকারীদেরই নেতৃত্ব নিতে হবে; তাদেরই আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, ‘আপনাদের যেখানে থামানো হবে, সেখানেই বসে পড়ুন।’

দিল্লিতে ১০ স্টেডিয়াম অস্থায়ী কারাগার

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের আন্দোলনকারীদের আটক করতে প্রস্তুতি হিসাবে ১০টি স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী কারাগার বানানো হয়েছে। পাশাপাশি যন্তর মন্তরে জমায়েতের অনুমতি না দেওয়া, বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও অতিথিশালায় পুলিশের নজরদারি এবং মেট্রোর একাধিক স্টেশন বন্ধ রাখার ঘটনায় রাজধানীজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

শনিবারের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। যন্তর মন্তর এলাকায় জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দিল্লির গণপরিবহণেও এর প্রভাব পড়েছে। সূত্র জানায়, বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আজ বিক্ষোভস্থল ও আশপাশের এলাকায় ব্যারিকেড, তল্লাশি এবং যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অ্যাপভিত্তিক গাড়ি পরিষেবার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

মাছি মারতে হাতুড়ি নয়, ট্রেন-মেট্রো বন্ধে সুপ্রিমকোর্টের ধমক

শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ঠেকাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ করা যায় না। মাছি মারতে কেউ হাতুড়ি চালায় না। যন্তর মন্তরে শনিবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ট্রেন ও মেট্রো চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে এমনই কড়া পর্যবেক্ষণ জানাল ভারতের সুপ্রিমকোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালত জানায়, নিরাপত্তার স্বার্থে বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। তবে তার অর্থ এ নয় যে, জনজীবন অচল করে দিতে হবে। মেট্রোর সংখ্যা কমানো যেতে পারে, কিন্তু পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখা যাবে না।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

দিল্লি­ যেন দুর্গ, নামানো হচ্ছে ২৩ হাজার সেনা

দিল্লি­ যেন দুর্গ, নামানো হচ্ছে ২৩ হাজার সেনা

গ্রেফতার হতে যাচ্ছেন অভিজিৎসহ শীর্ষ ককরোচ নেতারা?

গ্রেফতার হতে যাচ্ছেন অভিজিৎসহ শীর্ষ ককরোচ নেতারা?

নতুন দাবিতে ভারতজুড়ে আন্দোলনে নামছে সিজেপি

নতুন দাবিতে ভারতজুড়ে আন্দোলনে নামছে সিজেপি

হঠাৎ কেন রিলস বানাতে মন দিলেন মোদি?

হঠাৎ কেন রিলস বানাতে মন দিলেন মোদি?

যন্তর মন্তর ‘সিজন-টু’ শুরুর হুঁশিয়ারি দিলেন দিপকে

যন্তর মন্তর ‘সিজন-টু’ শুরুর হুঁশিয়ারি দিলেন দিপকে

নেতাজির আদর্শে নতুন দল, মূল শক্তি হবে জেন জি: চন্দ্র বসু

নেতাজির আদর্শে নতুন দল, মূল শক্তি হবে জেন জি: চন্দ্র বসু

আরও পড়ুন

প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৩ হাজার মানুষ দুর্ভোগ জেনেও গন্তব্য ঢাকা

দুর্ভোগ জেনেও গন্তব্য ঢাকা

নন্দনগাছীতে রেলের ৩০ একর ভূমি মাছ চাষে লিজ নিয়ে ভরাট করে দোকান বাণিজ্য

মাছ চাষে লিজ নিয়ে ভরাট করে দোকান বাণিজ্য

শান্তির নোবেল পেলেন গাজা গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার পিল্লাই

শান্তির নোবেল পেলেন গাজা গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার পিল্লাই

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ চিকিৎসার বাইরে ৯২ শতাংশ

চিকিৎসার বাইরে ৯২ শতাংশ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম