ফ্রান্সে ফের উত্তাল রাজপথ
ব্যাপক বিক্ষোভ, সংঘর্ষ আটক কয়েকশ
Advertisement
হাসান ইলিয়াছ তানিম, প্যারিস (ফ্রান্স) থেকে
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফ্রান্সজুড়ে আবারও উত্তপ্ত রাজপথ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও জনসেবার অবনতি নিয়ে ক্ষোভের মধ্যে শনিবার রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ৭০ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে সরকার। চলছে ব্যাপক ধরপাকড়ও। এরইমধ্যে কয়েকশ জনকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, কারফিউ ও কঠোর নিরাপত্তা উপেক্ষা করে শনিবার বিক্ষোভ হয়েছে প্যারিসসহ প্রায় সবগুলো বড় শহরে। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ করেন। ছবি ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হাজারো মানুষ নানা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। তবে গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সহিংসতা-অগ্নিসংযোগের কোনো ঘটনা দেখা যায়নি।
এর আগে শুক্রবার প্যারিসের পশ্চিমে ট্রাপ ও লা ভেরিয়ের এলাকায় প্রাণঘাতী গুলির ঘটনা ফ্রান্সে নতুন করে বর্ণবাদ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ওই হামলায় ২৬ বছর বয়সি এক ব্যক্তি নিহত ও পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সি এক কিশোরীও রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘটনাটিকে ‘বর্ণবাদী সন্ত্রাসী হামলা’ হিসাবে নিন্দা জানিয়েছেন। ন্যাশনাল র্যালি দলের নেত্রী মেরিন ল্য পেনও এ হামলার নিন্দা জানান। তদন্তকারীরা হামলার উদ্দেশ্য ও সন্দেহভাজনের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছেন।
লিয়ঁতে কাঁদানে গ্যাস, ক্লেরমঁ ফেরাঁয় উত্তেজনা
শনিবার লিয়ঁ শহরে নিষিদ্ধ এলাকায় সড়ক অবরোধের চেষ্টা করা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় ঘটনাস্থলে প্রায় ১৫০ জন বিক্ষোভকারী ছিলেন। ক্লেরমঁ ফেরাঁয়ও শহরের কেন্দ্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা বিক্ষোভকারীদের পিছু হটাতে কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। গ্রেনোবলের কাছে মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টার সময় দুটি গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এতে দুজন আহত হন। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে কয়েকশ জনকে গ্রেফতার করা হয়। দুপুর পর্যন্ত ১৩৬টি বিক্ষোভ বা জনসমাগমের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
প্যারিসে কড়া নিরাপত্তা, পরিবর্তন মিছিলের পথ
রাজধানী প্যারিসে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিক্ষোভের নির্ধারিত পথ পরিবর্তন করে কর্তৃপক্ষ। পোর্ত দিতালি থেকে পোর্ত দ্য ভাঁসেন পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়। আয়োজকদের আপিল প্রশাসনিক আদালত খারিজ করে দেয়। মিছিল ঘিরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। লুভর ও মিউজে দ’ওরসে জাদুঘরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক স্থাপনা বন্ধ রাখা হয়। ২০টিরও বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকার খবরও প্রকাশিত হয়।
শনিবার বিকালের শুরুতে পুলিশ জানায়, প্যারিসের রাস্তায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বাস্তিল এলাকায় দোকানপাটের সুরক্ষায় আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
মার্সেইয়ে ব্যাপক নিরাপত্তা
দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মার্সেইয়ে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনার কাছে পুলিশ ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর গাড়ি মোতায়েন করা হয়। বাণিজ্যিক এলাকায়ও নজরদারি বাড়ানো হয়। প্রশাসনিক আদালতের সিদ্ধান্তে কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলেও কিছু স্থানে বিধিনিষেধ বহাল থাকে। তবে মার্সেইয়ে শনিবার নতুন করে বড় ধরনের সংঘর্ষ বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
অরলেয়াঁয় হাজারো মানুষের সমাবেশ
অরলেয়াঁ শহরে ডানপন্থি ন্যাশনাল র্যালি দলের সম্মেলনের বিরোধিতা করে হাজারো মানুষ সমাবেশ করেন। বর্ণবাদ ও উগ্র ডানপন্থি রাজনীতির বিরোধিতা করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন ও নাগরিক সংগঠন সমাবেশে অংশ নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বর্ণবাদী হামলায় নিহত ১, আহত ৫
শুক্রবার ট্রাপ ও পার্শ্ববর্তী লা ভেরিয়ের এলাকায় একাধিক স্থানে গুলি চালানোর ঘটনায় ২৬ বছর বয়সি এক ব্যক্তি নিহত হন। আহত হন পাঁচজন। তাদের মধ্যে ১২ বছর বয়সি এক কিশোরীও রয়েছে। লে মোঁদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি গ্রেফতারের পর তদন্তকারীদের বলেছেন, গত সপ্তাহের বিক্ষোভে দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে তিনি কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব বংশোদ্ভূত মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন। তার বাড়িতে নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের ‘মাইন কাম্ফ’ বই পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।
