Logo
Logo
×

Advertisement

বিচ্ছু

মলাট বৃত্তান্ত

হুমকিচক্র

থাকব না তোমার সংসারে চললাম বাপের বাড়ি। * জীবনে কুনোদিন ইলিশ মাছ খাইছেন! যান দুইশ টাকা কেজিতে চুনোপুঁটি কিন্যা খান। * বাতেন সাহেব, এইভাবে দেরি হলে কাল থেকে আর আপনার অফিসে আসার দরকার নেই! * ভাড়া বাড়ছে জানেন না! ২০ ট্যাকা ভাড়া দ্যান, নইলে গাড়ি থেইকা নাইমা যান! * খালুজান, বেতন না বাড়াইলে আপনার বাসায় আর কাম করতে পারুম না। * সামনের মাস থেকে ২ হাজার টাকা ভাড়া বাড়িয়ে দেবেন। নয়তো বাসা ছেড়ে দিতে হবে!

Advertisement

Icon

মো: রায়হান কবির

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

সকাল সকাল বন্ধু শাল্টুর ফোন, ‘কী রে, কোথায় তুই?’

হারুন একটু ভাব নিয়ে বলল, ‘কেন? বাসায় ছাড়া আবার কোথায়?’

শাল্টু একটু রহস্য করে বলল, ‘আমি তো ভেবেছিলাম, এতক্ষণে তুই বাড়িছাড়া! তা এখনো বাসায় আছিস যখন, তখন আমার অ্যাকাউন্টে ৫০০ টাকা পাঠা।’

‘টাকা তো গাছে ঝাড়া দিলেই পড়ে যে তোকে পাঠাব!’ হারুন এবার ব্যাপারটা খোলাসা করেই বলল, ‘ভাবির মোবাইলে যখন কালকের ফাস্টফুডের ছবিটা যাবে, তখন হাজার টাকা কেন পাঠাইলাম না, সে আফসোস করবি কিন্তু!’

এবার শাল্টু নড়েচড়ে বসে। আমতা আমতা করে বলে, ‘দেখ ভাই, সারা জীবন হুমকির মুখেই ছিলাম। ছোটবেলায় বড় ভাইয়ের হুমকি, মাঠে খেলতে যাওয়া মানা। খেলতে গেলেই ঝুলিয়ে পিটাবে। স্কুলে টিচারের হুমকি, পড়া না পারলে বেতের বাড়ি। বড় হয়ে বসের হুমকি, কাজ ঠিকমতো না করলে, চাকরি নট!’

হারুন থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘ভাবির হুমকি তো বললি না?’

শাল্টু বলে, ‘সেটাও বলিনি হুমকির ভয়েই। সে আবার হুমকি দিয়েছে, আমাকে যত হুমকি সে দিয়ে রেখেছে, সেটা যদি কাউকে বলি তাহলে বাচ্চা-কাচ্চা রেখে বাপের বাড়ি চলে যাবে। এই অবস্থায় যদি তুই হুমকি দিস তাহলে আর বাকি থাকল কে?’

এবার কাঁচুমাচু হওয়ার পালা হারুনের, ‘বন্ধু, আসলেই সেই ‘বাকি’র হুমকির জন্যই তোকে ব্ল্যাকমেইলের হুমকি দিলাম। এলাকার চায়ের দোকানে অনেক বাকি জমে গেছে। কয়েকদিন ধরে বাকি দেওয়া তো বন্ধই, উলটো এখন আগের পয়সা শোধ না দিলে পেছনে কিশোর গ্যাং লেলিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। তা না হলে তুই তোর কলিগ নিয়ে ফাস্টফুড খাবি, তাতে আবার ব্ল্যাকমেইলের হুমকি দেওয়ার কী আছে? বন্ধু আমাকে বাঁচা!’ শাল্টু এবার বুঝল আসলে সবাই হুমকির মুখে আছে। কেউ প্রকাশ করে আবার কেউ করে না। আসলে মানুষের জীবনচক্রে বিশেষ করে বাঙালির জন্য হুমকি একটা ধারাবাহিক ব্যাপার। জীবনের প্রতিটা স্তরে আমরা বিভিন্ন হুমকির মুখোমুখি হই। বাসাবাড়ি তো দূরের কথা, এলাকার দোকানদার এমনকি মাছের দোকানদারও হুমকি দেয়। একটু দামাদামি করলেই বলে, আপনার কাছে মাছই বেচুম না! নিজের টাকায় জিনিস কিনমু, তাতেও হুমকি! আর নেতা ফেতাদের কথা না হয় না-ই বললাম। শাল্টুর মন চায় হারুনকে ডেকে ৫০০ টাকা দিয়ে ওর দুঃখে নিজেও কাঁদতে। কিন্তু এদিকে নিজের সন্তানের হুমকির কথা মনে পড়ে যায়। আজ তাকে খেলনা কিনে না দিলে সে লেখাপড়া না করার হুমকি দিয়ে রেখেছে। সুতরাং আগে ঘর সামলানো জরুরি, বন্ধু কিছুটা হলেও ক্ষমা করবে।

হারুনকে নিজের দুর্বলতার কথা বলে কোনোমতে পার পেল শাল্টু। কিন্তু হুমকি থেকে আসলেই মুক্তি নাই। কেননা রাতেই এক বিরাট দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙেছিল। স্বপ্নে পুরোনো প্রেমিকা এসে বলল, ‘শোন, তুমি আমাকে ঠকিয়ে অন্যজনকে বিয়ে করেছ না-একদিন দেখবা আমি ঠিকই তোমার বাসায় হাজির হব!’ স্বপ্নটা এতটাই রিয়েল ছিল যে, ঘুম ভাঙার ৬ ঘণ্টা পরও কলিং বেল শুনলে মনে হচ্ছে, এই বুঝি নিতু এসে হাজির হলো! এই মুহূর্তে আবারও কলিং বেল বেজে উঠল। দরজায় আসলে কে এসেছে? শাল্টু ভয়ে ভয়ে দরজার দিকে এগোতে থাকে। কে এসেছে নতুন হুমকি নিয়ে? বাড়িওয়ালা নয় তো? হয়তো হুমকি দিয়ে বলবে, সামনের মাস থেকে ২ হাজার টাকা ভাড়া বাড়বে। দিতে পারলে ভালো, না পারলে বাসা ছেড়ে দেবেন! নাকি অন্য কেউ অন্য কোনো হুমকি নিয়ে হাজির হয়েছে? দরজার সামনে দাঁড়িয়েও দরজা খোলার সাহস পায় না সে। হুমকি খেতে খেতে হুমকিতেই যে অরুচি ধরে গেছে! কাঁহাতক আর সহ্য হয়!

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

মলাট বৃত্তান্ত হুমকিচক্র

হুমকিচক্র

রম্যগল্প স্মার্ট ফ্রিজ ও ফ্রোজেন শাশুড়ি

স্মার্ট ফ্রিজ ও ফ্রোজেন শাশুড়ি

অবান্তর প্রশ্ন যুগান্তর উত্তর

অবান্তর প্রশ্ন যুগান্তর উত্তর

একগুচ্ছ কৌতুক

একগুচ্ছ কৌতুক

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম