Logo
Logo
×

Advertisement

বিচ্ছু

রম্যগল্প

ভাবি গ্যাং

Advertisement

Icon

সাদিকুল নিয়োগী পন্নী

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

এক.

কিশোর গ্যাংয়ের মতো দেশের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় রয়েছে ভাবিদের হরেক রকমের গ্যাং। কিশোর গ্যাং যখন প্রকাশ্যে মারামারি, চুরি-ছিনতাই নিয়ে ব্যস্ত-তখন ভাবিদের সময় কাটে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, ঘোরাফেরা ও গল্প-আড্ডায়। অধিকাংশ ভাবিদের অর্থের জোগানদাতা তাদের স্বামী। মিষ্টি কথায় স্বামীর পকেট কাটতে না পারলে তারা ক্ষমতা প্রদর্শন করতে দ্বিধাবোধ করেন না।

এমনি একটি ভাবি গ্যাংয়ের নেত্রী ফারজানা টুলী। সুন্দরী স্বল্প বয়সি এ নারীর হাসির সময় গালে টোল পড়ায় ভাবিরা কণ্ঠভোটের মাধ্যমে তার নামের সঙ্গে এই বিশেষণ জুড়ে দিয়েছেন। রামপুরা এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করে ফারজানা এখন অন্য এলাকার ভাবিদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। মাঝেমধ্যে তিনি অন্য এলাকার ভাবিদের ঝামেলা সমাধানে নায়িকার ভূমিকায় হাজির হন।

দুই.

‘ভাবি, বাসায় তিন-চার দিন যাবত কাজের বুয়া নেই। আগামীকাল থেকে আপনাদের সঙ্গে সকালে নাশতা করা সম্ভব হবে না। আড্ডাতে থাকাটাও কষ্ট হয়ে যাবে। ভাবতেই আমার খুব খারাপ লাগছে।’ সানজিদার এ কথা শুনে ফারজানা বললেন, ‘হোয়াই ইউ ফিল ব্যাড? ইটস কমন প্রবলেম। আমার বাসার মেয়েটাও প্রায়ই এমন করে। আমি তো ব্যাড ফিল করি না।’

‘কাজের লোক ছাড়া আপনি ঘর সংসার সামাল দেন কীভাবে ভাবি?’

ফারজানা মুচকি হেসে বললেন, ‘হাসব্যান্ড অর হিজ ফ্যামেলি। বাচ্চা-সংসার সামলাতে না পারলে কিসের পুরুষ। লাইফে চিল করতে হলে হাসব্যান্ড কন্ট্রোলে রাখতে হবে। হাসব্যান্ড ইজ ইওর রিমুটকন্ট্রোল। বাটন চাপবেন। অল ডান।’

‘ভাই অফিস থেকে ফিরে আপনাকে হেল্প করেন?’

‘অফ কোর্স। আপনি এখনো আদিম যুগে পড়ে আছেন। ছেলেদের এখন এভ্রিথিংক করতে হয়।’ বললেন ফারজানা।

সাদিয়া বললেন, ‘ভাবি আপনার কথা শতভাগ সঠিক। পুরুষ মানুষকে হাতের নাগালে রাখতে হলে সবসময় কাজের মধ্যে রাখতে হবে। এরা এমন বদ টাইপের প্রাণী যে, ঘরে সুন্দরী বউ রেখেও বাচ্চা বয়সি মেয়েদের সঙ্গে ঘুরতে চলে যায়। আমি আমার হাসব্যান্ডকে অল টাইম বিজি রাখি উইথ ওয়ার্ক।’

সনাজিদা বললেন, ‘আমার জামাই বাসায় ফেরার পর কিছু করতে চায় না। শাশুড়ি নাতনিকে সময় না দিয়ে আমার জামাইকে নিয়ে পড়ে থাকেন। আমার জামাইয়ের নাকি বয়স হয়নি!’

লুপা বললেন, ‘আমার বাসাতে সেইম প্রবলেম। দুই বাচ্চার বাপকে আমার শাশুড়ির কাছে বাচ্চা মনে হয়। আমি তো একদিন রাগে বলেই ফেললাম শাশুড়িকে, আপনার ছেলেকে যদি বাচ্চা মনে করেন তাহলে বিয়ে করালেন কেন?’

‘শাশুড়ির প্রতিক্রিয়া কী?’ আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলেন সনাজিদা।

লুপা বললেন, ‘শাশুড়ি সবসময় শোনান নীতিকথা। মায়ের কাছে সন্তান কখনো বড় হয় না।’

সানজিদা চিৎকার দিয়ে বললেন, ‘সেইম ভাবি। আমার শাশুড়িও এমন করেন। পারলে উনার ছেলেকে কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়ান আর কি!’

‘আহারে, একটা বেবিকে আপনি বিয়ে করলেন ভাবি?’ হাসতে হাসতে বললেন রিতা। তার সঙ্গে অন্যরাও হো হো করে হাসি দিলেন।

সানজিদা কিছুটা রেগে বললেন, ‘ইটস নট জোক। সিরিয়াস মেটার। যার জ্বালা সে বুঝবে। আপনি নতুন বিয়ে করেছেন। হানিমুন প্রিয়ড শেষ হলে টের পাবেন হোয়াট ইজ সংসার।’

লুপা বললেন, ‘বাসার টুকটাক কাজ করিয়ে ওকে অভ্যস্ত করব সে সুযোগ করতে পারি না। ধরেন আমার হাসব্যান্ডকে বললাম, তুমি আমাকে সবজি কাটতে একটু সাহায্য কর। হাসব্যান্ড খুব আগ্রহে বঁটি নিয়ে বসল। সঙ্গে সঙ্গে আমার শাশুড়ি হাজির। ছেলেকে তিনি ধমকের সুরে বলেন, কোনোদিন কিছু কাটাকাটি করেছিস? এখন আসছিস সবজি কাটতে। হাতটা কাটার জন্য। উঠে যা এখান থেকে। আমার হাজব্যান্ড বাচ্চা ছেলের মতো সরে যায়। আচ্ছা বলেন, একজন মুরুব্বি মানুষকে আমি কাজ করতে দিতে পারি। বাধ্য হয়ে আমাকেই সে কাজ করতে হয়।’

ফারজানা বললেন, ‘আই থিংক আপনারা রাইট টাইমে রাইট কাজটা করতে পারছেন না। শ্বশুর-শাশুড়ি খবুই সেনসেটিভ বিষয়। উনাদের নিয়ে টানাটানি না করে কন্ট্রোল ইওর হাসব্যান্ড।’ এমন সময় স্কুলের বিদায় ঘণ্টা বাজল। সবাই নিজেরদের সন্তান নিয়ে বাসার দিকে রওয়ানা দিলেন।

তিন.

সময়ের ব্যবধানে অফ লাইনের পাশাপাশি ভাবিরা অনলাইনেও বেশ সক্রিয় হয়ে গেলেন। প্রায়ই রাতে তারা ‘মিট উইথ ভাবি’ শিরোনামের জুমে আড্ডা দেন। কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারের মতো ভাবিদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক স্বামী বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখানো শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ফারজানার স্বামী রিয়াদ। তিনি ‘ঠেকাও ভাবি, বাঁচাও সংসার’ শিরোনামে ফেসবুক পেজ খুলে ভুক্তভোগী স্বামীদের একত্র করার চেষ্টা করছেন। তার সঙ্গে অনেকেই একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। বাসায় স্বামীরা সরাসরি স্ত্রীদের কিছু না বললেও ভার্চুয়ালি তারা বেশ সরব। স্বামীদের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াদ তাদের প্রথম প্রতিবাদী কর্মসূচি ঘোষণা করলেন। ঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে পরদিন বিকালে ভাবিদের স্বামীরা বাচ্চাদের স্কুলের বিপরীত দিকের মাঠে বসলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন ফারজানার স্বামী রিয়াদ। তিনি বললেন, ‘ভাবি গ্যাংদের জন্য আজ আমাদের স্ত্রীরা দূরে সরে গেছে। সংসারে তাদের মন নেই। এভাবে সংসার করা যায় না ভাইসব। আপনাদের জেগে উঠতে হবে।’

সবাই একসঙ্গে বললেন, ‘ঠিক ঠিক।’

আগত স্বামীদের মধ্যে রিয়াজ বললেন, ‘চাকরি করি আমি, বেতনের টাকা নিয়ে নেয় বউ। আজকে তার এই পার্টি। আগামীকাল ঘুরতে যাওয়া। ভাবিদের গ্রুপ ভেঙে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।’

আসাদ বললেন, ‘স্বামী হয়ে আসামির মতো জীবনযাপন করছি। মুক্ত জীবনে বউকে যুক্ত করে বন্দি হয়ে গেলাম।’

এভাবে অনেকে তাদের নিজেদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরলেন। সবার শেষে আবার হ্যান্ডমাইক হাতে নিলেন রিয়াদ। তিনি সবার উদ্যেশে বললেন, ‘আমরা আজকের পর থেকে বউদের আধিপত্য মানব না। আমরা যদি নিজেদের বউকে সামলে নিতে পারি তাহলে এ গ্যাং বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’

এমন সময় পেছন থেকে হ্যান্ডমাইকে নারী কণ্ঠ ভেসে এলো, ‘কী বললে? আবার বলো।’

রিয়াদসহ সবাই পেছনের দিকে তাকালেন। কয়েকজন একসঙ্গে চিৎকার দিয়ে

বললেন, ‘বাপরে! ফারজানা গ্যাং। আপনারা নিজ দায়িত্বে মানসম্মান নিয়ে পালিয়ে যান।’ এই বলে হ্যান্ডমাইক রেখে দৌড় দিলেন রিয়াদ। পেছন থেকে তাড়া করলেন ফারজানা ও তার ভাবি গ্যাং।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

মলাট বৃত্তান্ত যত ‘অতি’ তত ‘ক্ষতি’

যত ‘অতি’ তত ‘ক্ষতি’

একগুচ্ছ কৌতুক

একগুচ্ছ কৌতুক

রম্যগল্প ভাবি গ্যাং

ভাবি গ্যাং

অবান্তর প্রশ্ন যুগান্তর উত্তর

অবান্তর প্রশ্ন যুগান্তর উত্তর

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম