মলাট বৃত্তান্ত
যত ‘অতি’ তত ‘ক্ষতি’
নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল-এতসব অতিরিক্ত বিলের চাপে নিজেকে কী মনে হয়, জানো? * কী? * অতি রিক্ত!
Advertisement
মো: রায়হান কবির
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না। তা সেটা যা-ই হোক না কেন? ভারতে একটা কৌতুক খুব প্রচলিত। আর সেই কৌতুকটাও সৃষ্টি হয়েছিল অতিরিক্ত বোঝার দরুন। মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, ঘুস নেওয়া অন্যায়! আর সমগ্র ভারতীয় সরকারি কর্মচারী এক ডিগ্রি ‘অতিরিক্ত’ বুঝে এর অর্থ বের করলেন, ঘুস নেওয়া ‘অন্য আয়’। ব্যস, আর পায় কে? সবাই গান্ধীবাদী হয়ে গেলেন আর দেদার ঘুস নেওয়া শুরু করলেন!
একইভাবে আমাদের দেশেও অতিরিক্ত অনেক কিছুই ঘটে। সম্প্রতি এক অতিরিক্ত ডিআইজি ‘অতিরিক্ত’ আয় করতে নিজের বাসায় মাদকের আখড়া বসিয়ে অতিরিক্ত সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তার সেই অতিরিক্ত আয়ের অতি চিন্তা তাকে চাকরি থেকেই ‘রিক্ত’ মানে শূন্য করে দিয়েছে। সুতরাং অতি সব সময়ই দুর্গতি নিয়ে আসে। তাই ব্যালেন্স থাকা জরুরি।
অথচ বাঙালিকে দাবিয়ে রাখা যায় না। এদের সব কিছুতেই ‘অতি’ থাকবেই। কদিন আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রোগ্রামে জনৈক সরকারি কর্মকর্তা অতি আবেগে করমর্দন করার সময় জড়িয়ে ধরতে চেয়েছিলেন। ফলাফল? লোক ভিন্ন, কিন্তু অ্যাকশন অভিন্ন! মানে চাকরি নিয়ে টানাটানি! এই যে এত এত কট খাওয়ার উদাহরণ চোখের সামনে তবুও আমরা শোধরাই না। পূজামণ্ডপের দায়িত্ব পালনকালে জনৈক পুলিশের এএসআই দায়িত্ব বাদ দিয়ে অতিরিক্ত আবেগে মঞ্চে উঠে গান গাইছিলেন। কে জানে, তাকে হয়তো ভাইরাল হওয়ার নেশায় পেয়েছিল! যে নেশায়ই পেয়ে থাকুক না কেন, তার পেশা কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে ‘অতি’ বাদ দেওয়া অতি জরুরি।
কেউ কেউ আছেন সব কিছুতেই একটু অতিরিক্ত করতে পছন্দ করেন। যেমন কুড়িগ্রামের ইউএনও ১৮০ সেকেন্ডের বক্তব্যে মন্ত্রীকে ৩৫ বার ‘স্যার’ বলে ডেকেছেন! এখন সংশ্লিষ্ট ইউএনওকে জিজ্ঞেস করা দরকার, উনি ‘স্যার’ দিয়ে আর কী কী অর্থ প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন? ধরুন কেউ রবি নামের কাউকে নিয়ে কিছু বলতে চাইলে যদি এভাবে বলে, রোববার যদি রবি ওঠে, তাহলে রবি যাবে! এখন এই বাক্যে ৭ শব্দের মধ্যে ৩টি শব্দে রবি এসেছে কিন্তু তিন শব্দের রবির অর্থ তিনটি। এখন বেচারা ৩৫ বার যে ‘স্যার’ বলেছেন এর মধ্যে কয়টি স্যারের অর্থ ‘জনাব’ আর অতিরিক্ত স্যারগুলোর অর্থ কী সেটাও জানা দরকার!
সুতরাং অতি ভক্তি যেমন চোরের লক্ষণ, তেমনি অতি সবকিছুই ধ্বংসের লক্ষণ। যেমন শরীরে অতিরিক্ত সুগার, প্রেসার থাকা খুবই ক্ষতিকর-এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। তেমনি অতিরিক্ত উত্তেজনা ডেকে আনতে পারে পদত্যাগ। টগবগিয়ে অতি উৎসাহিত হয়ে কোনো কিছু করলে তার ফল সব সময়ই খারাপ হয়। মোদ্দাকথা, বাঁচতে হলে অতিরিক্ত থেকে মুক্ত থাকতে হবে। যেমন, সম্পর্কের বাইরে যদি একটা ‘অতিরিক্ত’ সম্পর্ক মানে পরকীয়া থাকে এটা যেমন বিপজ্জনক তেমনি গার্লফ্রেন্ড একটা থাকাকালীন অন্য একটা অতিরিক্ত থাকলেও একইরকম বিপজ্জনক। তা ছাড়া অতিরিক্ত ‘ভালোবাসা’ও কিন্তু (মাদ্রাসার শিক্ষক নাকি ভালো রেজাল্টের ফল হিসাবে চুম্বন উপহার দিচ্ছিলেন বা দিতে চাচ্ছিলেন!) বয়ে আনতে পারে অতিমাত্রার থাপ্পড়! আর বেতনের বাইরে অতিরিক্ত আয়ের বিষয়টা তো বলাই বাহুল্য।
