জ্ঞানের বাতিঘর ও দ্বীনের প্রহরী আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.)
Advertisement
মুহাম্মদ রবিউল ইসলাম
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রতিটি দেশে প্রতিটি যুগে আল্লাহতায়ালা তার অপার করুণা ও মেহেরবানীস্বরূপ মানুষের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য কোনো মহান ব্যক্তিত্বকে প্রেরণ করে থাকেন। হোক তা জ্ঞানগত উন্নতি বা বস্তুগত। এর ধারাবাহিকতায় ১৩ শতাব্দীতে আল্লাহতায়ালা উপমহাদেশে ইলমি ময়দানের অনুসৃত ব্যক্তি হিসাবে আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.)-কে প্রেরণ করেন।
হজরত আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.)-এর পূণ্যময় ব্যক্তিত্ব, না কোনো পরিচিতির মুখাপেক্ষী আর না কারও বর্ণনার মুখাপেক্ষী। তার জীবন-ই যেন এক উজ্জ্বল ইতিহাস, যা তার শাগরেদরা এবং তার রেখে যাওয়া ইলমী কারনামায় প্রোথিত হয়ে আলো বিলাচ্ছে। তার ইলম, আমল ও তাকওয়া-তাহারাত আজও ইলমপিপাসুদের তৃষ্ণা নিবারণ করে যাচ্ছে।
হজরত কাশ্মীরী (রহ.)-এর ইলম গত শতাব্দীকে এমন সমৃদ্ধ করেছে, শতাব্দীর ফখর করার জন্য তার ইলম-ই যথেষ্ট।
এ মহান মনীষীর জন্ম ১২৯২ হিজরিতে। তিনি কাশ্মীরের দুদওয়ান নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সাইয়্যিদ মুয়াজ্জম শাহ। তিনি কাশ্মীরের একজন মুহাক্কিক আলেম এবং বুজুর্গ ব্যক্তি হিলেন।
কাশ্মীরী (রহ.) শৈশবেই প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক দারুল উলুম দেওবন্দের উদ্দেশে বের হয়ে পড়েন। তার এ যাত্রা ছিল একজন ইলমপিপাসু ছাত্রের যাত্রা।
হজরত কাশ্মীরী (রহ.) দিন-রাত নিরবচ্ছিন্ন সাধনা করে, তৎকালীন সময়ের পাঠ্য নেসাবে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন, তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিদ্যা, ইতিহাস, ভূগোল, অর্থনীতি শরয়ি সব শাস্ত্রে উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করেন।
চিকিৎসাশাস্ত্রের ব্যাপারে তার মতামত ছিল, যতক্ষণ না চিকিৎসাশাস্ত্রের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জিত হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিব্বে-নববী সম্পূর্ণরূপে হৃদয়াঙ্গম করা সম্ভব নয়; যা হাদিসশাস্ত্রের বিশেষ ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়।
হজরত কাশ্মীরী (রহ.) ছিলেন ইলম ও আমলের বিশাল সমুদ্রে অবগাহণকারী এমন অনন্য ব্যক্তি, যার দৃষ্টি ছিল সবর্ত্র, তিনি প্রতিটি বিষয়ের অন্তর্নিহিত মর্ম উদ্ঘাটন করতেন। জ্ঞান অন্বেষণের এ অক্লান্ত সাধনায় শতশত কিতাব মুতালাআ করতেন। তিনি বলতেন, ‘যদি এই অক্লান্ত মেহতের মাধ্যমে একটিও নতুন বিষয় জানতে পারি তাহলেও আমার এ সাধনা সার্থক।’
তিনি বিশ্বাস করতেন, ইলম শুধু মুখস্থ করাই যথেষ্ট নয় বরং হৃদয়ে ধারণ করাও অপরিহার্য। আর একজন প্রকৃত শিক্ষক শুধু শিক্ষাদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না। শিক্ষক যখন তার ছাত্রকে নিজের সন্তানতুল্য মনে করেন তখন সেই সম্পর্ক হয়ে ওঠে জ্ঞানের পাশাপাশি হৃদয়েরও সম্পর্ক। তিনি ইসলামের স্বপক্ষে চিন্তা ও প্রতিক্ষার জন্য তৈরি করেছিলেন একদল লেখক, চিন্তক, গবেষক ও বক্তা। যদ্দরুন তৎকালীন সময়ে গড়ে উঠেছিল অনেক ব্যতিক্রমধর্মী সাহিত্যিক ও চিন্তাশীল আলেম ।
তিনি যেভাবে শিক্ষকদের প্রতি অভাবনীয় শ্রদ্ধা ও বিনয় প্রদর্শন করতেন, ঠিক তেমনি কিতাবাদির ইহতেরামের যথাযথ পাবন্দ করতেন। তার কাছে কিতাব শুধু একগুচ্ছ ধূসর পাতার সমষ্টিই ছিল না, বরং তা ছিল জ্ঞানের পবিত্র আবে জামজাম। যার প্রতিটি হরফে থেকে উৎসারিত হয় ইলম ও হিকমতের প্রবাহ।
ইলমপিপাসু ও দ্বীনের প্রহরী এ মহামনীষী ১৩৫২ হিজরিতে এ নশ্বরজগৎ থেকে আখেরাতের পথে যাত্রা করেন। হজরত কাশ্মীরী (রহ.) জীবনে একবার যা পড়তেন বা দেখতেন তা ৪০ বছর পর্যন্ত মনে থাকত।
