পাঁচটি নিয়ামত হারানোর আগে মূল্য দিন
Advertisement
মো. ইমরান
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানবজীবন মহান আল্লাহতায়ালার অসংখ্য নিয়ামতে পরিপূর্ণ। অথচ আমরা অনেক সময় এসব নিয়ামতের যথাযথ মূল্য বুঝতে পারি না, যতক্ষণ না সেগুলো হারিয়ে যায়। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই হতে পারে কল্যাণ অর্জনের সুযোগ, যদি আমরা সময় ও প্রাপ্ত নিয়ামতগুলোকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারি। জীবনের এ গভীর বাস্তবতাই সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) এক ব্যক্তিকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘পাঁচটি বিষয়কে পাঁচটি বিষয় আসার আগে গনিমত মনে করো।’ এরপর তিনি মানবজীবনের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করেন।
বার্ধক্যের আগে যৌবন : রাসূল (সা.)-এর প্রথম উপদেশ ছিল, বার্ধক্য আসার আগে যৌবনকে গনিমত মনে করা। যৌবন মানুষের জীবনের কর্মমুখর ও সম্ভাবনাময় সময়। এ সময় মানুষের শারীরিক শক্তি, উদ্যম ও কর্মক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। তাই যৌবনকে অবহেলা কিংবা অনর্থক কাজে ব্যয় না করে জ্ঞান অর্জন, সৎকর্ম, ইবাদত ও মানবকল্যাণে কাজে লাগানো উচিত। কারণ একসময় যৌবনের প্রাণশক্তি কমে আসবে, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া সময় আর ফিরে আসবে না।
অসুস্থতার আগে সুস্থতা : রাসূল (সা.)-এর দ্বিতীয় উপদেশ ছিল, অসুস্থতা আসার আগে সুস্থতাকে গনিমত মনে করা। সুস্থতা মহান আল্লাহতায়ালার অন্যতম বড় নিয়ামত। সুস্থ থাকলে মানুষ ইবাদত করতে পারে, পরিশ্রম করতে পারে এবং অন্যের উপকারে এগিয়ে আসতে পারে; কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়লে অনেক কাজই কঠিন হয়ে যায়। তাই সুস্থতার সময়টুকু অবহেলায় না কাটিয়ে নেক আমল, ইবাদত ও কল্যাণকর কাজে ব্যয় করা উচিত।
দারিদ্র্যের আগে সচ্ছলতা : রাসূল (সা.)-এর তৃতীয় উপদেশ ছিল, দারিদ্র্য আসার আগে সচ্ছলতাকে গনিমত মনে করা। অর্থ-সম্পদ মানুষের জীবনে দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সচ্ছলতা থাকলে মানুষ নিজের প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে। তাই হালাল উপার্জন করা, সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সদকা করা উচিত। কারণ আর্থিক সচ্ছলতা সবসময় স্থায়ী থাকে না। তাই সচ্ছলতা থাকতেই সম্পদকে কল্যাণকর কাজে ব্যয় করার সুযোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ব্যস্ততার আগে অবসর : রাসূল (সা.)-এর চতুর্থ উপদেশ ছিল, ব্যস্ততা আসার আগে অবসরকে গনিমত মনে করা। অবসর মানুষের জীবনে আত্মসমালোচনা, জ্ঞানচর্চা, ইবাদত ও ভালো কাজের এক মূল্যবান সুযোগ। কিন্তু অনেকেই অবসর সময় অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করে পরে সময়ের অভাবে অনুশোচনা করেন। অথচ সময় একবার চলে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। তাই অবসরকে অলসতায় নয়, বরং নিজের জীবনকে সুন্দর অর্থবহ করে তোলার কাজে ব্যবহার করা উচিত।
মৃত্যুর আগে জীবন : রাসূল (সা.)-এর পঞ্চম উপদেশ ছিল, মৃত্যু আসার আগে জীবনকে গনিমত মনে করা। জীবন মানুষের জন্য আমল করার এক অনন্য সুযোগ। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের সামনে তওবা, ইবাদত, সৎকর্ম ও মানুষের উপকার করার পথ খোলা থাকে। কিন্তু মৃত্যু এসে গেলে দুনিয়ার জীবনের অবসান ঘটে এবং আমল করার সুযোগ শেষ হয়ে যায়। তাই জীবনের প্রতিটি দিনকে মূল্যবান মনে করে অন্যায় থেকে বিরত থাকা, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করা প্রত্যেকের কর্তব্য।
রাসূল (সা.)-এর এ সংক্ষিপ্ত উপদেশে মানবজীবনের গভীর বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। যৌবন, সুস্থতা, সচ্ছলতা, অবসর ও জীবন-প্রতিটিই এমন এক নিয়ামত, যার মূল্য অনেক সময় হারানোর পর উপলব্ধি হয়। তাই ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার অপেক্ষায় না থেকে বর্তমানের সুযোগগুলোকে কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ। জীবনের প্রকৃত সার্থকতা শুধু দীর্ঘায়ুতে নয়; বরং প্রাপ্ত সময় ও নিয়ামতকে সৎকর্মে ব্যয় করার মধ্যেই নিহিত।
