Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

আল্লাহ কেন মানুষকে পরীক্ষা করেন?

Advertisement

Icon

মমতাজ উদ্দিন আহমদ

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আল্লাহ কেন মানুষকে পরীক্ষা করেন?

Advertisement

মানুষের জীবনে সুখ আছে, দুঃখও আছে। কখনো ঘরে আসে প্রাচুর্য, কখনো অভাব। কখনো সুস্থতা ও সাফল্য, কখনো অসুস্থতা, ভয় কিংবা প্রিয়জন হারানোর বেদনা। এমন বাস্তবতার মুখে মনে প্রশ্ন জাগে : আল্লাহ যদি মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সবই জানেন, তবে মানুষকে পরীক্ষা করেন কেন? আর সবকিছু যদি তাকদিরের অধীন হয়, তবে মানুষ তার কাজের জন্য দায়ী হবে কেন? আল-কুরআনে আল্লাহ বলেন, তিনি মানুষকে কিছু ভয়, ক্ষুধা, ধনসম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দিয়ে পরীক্ষা করবেন; আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিতে বলেন (সূরা আল-বাকারা, ১৫৫)। মানুষ পরীক্ষা নেয় নিজের অজানা বিষয় জানতে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়ে বুঝতে চান, সে কতটা শিখেছে। কিন্তু ইসলামি আকিদায় আল্লাহর জ্ঞান পূর্ণাঙ্গ। মানুষের অন্তরের কথা ও ভবিষ্যৎ কর্ম তাঁর অজানা নয়; তাই পরীক্ষা আল্লাহর জ্ঞান বাড়ায় না। বরং মানুষের বিশ্বাস, সিদ্ধান্ত ও আচরণ তার জীবনে বাস্তব কর্ম হিসাবে প্রকাশিত হয়। আল্লাহর জানা আর মানুষের কাজের বাস্তব সংঘটন এক বিষয় নয়। কোনো কাজ আগে থেকেই জানা এ কথা নিজে থেকে প্রমাণ করে না, কাজটি জোর করে করানো হয়েছে।

পরীক্ষার আরেকটি তাৎপর্য হলো, মানুষের বিচার হয় তার বাস্তব কর্ম ও দায়ের ভিত্তিতে। তাকদিরে বিশ্বাসও ইসলামের মৌলিক ধারণা। সহিহ মুসলিমের ২৬৫৩ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আসমান-জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে আল্লাহ সৃষ্টির তাকদির নির্ধারণ করেছেন। এর অর্থ, সৃষ্টি জগৎ আল্লাহর জ্ঞান ও নির্ধারণের বাইরে নয়। কিন্তু তাকদিরে বিশ্বাস মানে মানুষের ইচ্ছা ও নৈতিক দায়িত্ব একেবারে নেই এ কথা নয়। মানুষ প্রতিদিন সিদ্ধান্ত নেয় : সত্য বলবে, না মিথ্যা; অন্যের অধিকার রক্ষা করবে, না লঙ্ঘন করবে; বিপদে কাউকে সাহায্য করবে, না মুখ ফিরিয়ে নেবে। কুরআন মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং তার কাজের জবাবদিহির কথা জানায়। সূরা আল-বাকারার ২৮৬ আয়াতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক ব্যক্তি তার অর্জিত ভালো কাজের সুফল পাবে এবং মন্দ কাজের দায় বহন করবে।

ধরা যাক, রাস্তায় একজন অসহায় মানুষ বিপদে পড়েছেন। পথচারী সাহায্য করতে পারেন, আবার ইচ্ছা করে পাশ কাটিয়েও যেতে পারেন। তার সামর্থ্য, পরিস্থিতি ও সিদ্ধান্ত নৈতিক বিচারে গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ আগে থেকেই তার সিদ্ধান্ত জানেন এই বিশ্বাস সিদ্ধান্তটিকে অর্থহীন করে না। কারণ জানা আর বাধ্য করা এক নয়। তবে তাকদির ও মানুষের ইচ্ছার পূর্ণ সম্পর্ক গভীর বিষয়। বলা যায়, মানুষ তার সীমিত জ্ঞান ও সামর্থ্যরে ভেতরে বেছে নেয়, আর আল্লাহর জ্ঞান ও ইচ্ছা সর্বব্যাপী। তাই মানুষ নিজের দায়িত্ব এড়াতে তাকদিরকে অজুহাত করতে পারে না।

তাহলে বিপদ কি সবসময় শাস্তি? কুরআনের ১৫৫ আয়াত বিপদকে পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন সৎ মানুষ কষ্টে আছেন বলে তিনি আল্লাহর কাছে অপ্রিয় এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তেমনি সম্পদ, আরাম বা সাফল্যও আল্লাহর সন্তুষ্টির নিশ্চিত প্রমাণ নয়। এসবের পেছনে আল্লাহর বিশেষ উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া নিশ্চিত দাবি করা উচিত নয়।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

মাদ্রাসা হোক শিশুর নিরাপদ আশ্রয়স্থল

মাদ্রাসা হোক শিশুর নিরাপদ আশ্রয়স্থল

আল্লাহ কেন মানুষকে পরীক্ষা করেন?

আল্লাহ কেন মানুষকে পরীক্ষা করেন?

ইলমের বাতিঘর আত্মশুদ্ধির পথপ্রদর্শক আল্লামা মুফতি আবু সাঈদ

আল্লামা মুফতি আবু সাঈদ

পাঁচটি নিয়ামত হারানোর আগে মূল্য দিন

পাঁচটি নিয়ামত হারানোর আগে মূল্য দিন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম