Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

ইমান ভঙ্গের ১০ কারণ

Advertisement

Icon

লোকমান হেকিম

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ইমান ভঙ্গের ১০ কারণ

ফাইল ছবি

Advertisement

সব আমল কবুলের পূর্ব শর্ত হচ্ছে ইমান। কারণ, ইমান ঠিক না থাকলে দুনিয়া ও আখেরাত সব বরবাদ। ফুক্বাহায়ে কিরাম ইমান ভঙ্গের অনেক কারণ বর্ণনা করেছেন। সেখান থেকে দশটি উল্লেখযোগ্য কারণ নিুরূপ-

১. আল্লাহর ইবাদতের ক্ষেত্রে কাউকে শরিক করা। যেমন-কেউ আল্লাহর সঙ্গে কোনো দেবী-দেবতাকে শরিক স্থির করে তার পূজা করল। (নাউযুবিল্লাহ), এটি সম্পূর্ণ শিরক মহাপাপ। এ সম্বন্ধে কুরআন মাজিদে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমা করেন না এটা যে, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করা হবে। এ ছাড়া যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে, সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়।’ (সূরাহ নিসা, আয়াত নং ১১৬)।

২. আল্লাহ মাঝে ও বান্দার মাঝে মাধ্যম স্থির করা। যেমন-আজকাল অনেকে বলে থাকে-অমুক মাজারে মান্নত করলে মনোবাসনা পূরণ হয়, বালা-মুসিবত দূর হয় ইত্যাদি। অমুক বাবার মাজারে প্রার্থনা করলে সন্তান মিলে। (নাউযুবিল্লাহ), এটিও শিরক। এমন আকিদা যে পোষণ করবে, তার ইমান নষ্ট হয়ে যাবে। মক্কার কাফেরদের যখন বলা হতো, তোমরা এই মূর্তিগুলোর পূজা কেন কর? তারা বলত, ‘আমরা তাদের ইবাদত এজন্য করি, যেন তারা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়।’ (সূরাহ যুমার, আয়াত নং ৩)। এভাবে অনেকে পীর-ফকির ও মাজারকে মানোবাঞ্ছা পূরণের মাধ্যম বানিয়ে নিয়েছে। অথচ আল্লাহ সরাসরিই বান্দার আরজি শুনে থাকেন। এতে মাঝে কোনো শরিক নেই বা আল্লাহ এরূপ কোনো শরিক বানাননি

৩. কাফিরদের কাফের মনে না করা বা তাদের কুফরিকে হালকা করে দেখা। এটিও কুফরি বিষয়। কাফেরদের যদি কাফের মনে না করা হয়, তাহলে ইমান ভেঙে যাবে। আল্লাহতায়ালা রাসূল (সা.)কে কাফেরদের কাফির বলতে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহতায়ালা সূরাহ কাফিরূনে বলেন, ‘(হে নবী!) বলুন, হে কাফিরেরা!...’

৪. রাসূল (সা.)-এর আনীত দ্বীনের চেয়ে অন্য কোনো কিছুকে বেশি উত্তম মনে করা। অথবা অন্য কারও ফয়সালাকে রাসূল (সা.)-এর ফয়সালার চেয়ে ভালো মনে করা। এটি স্পষ্ট কুফর-যার দ্বারা ইমান নষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন-‘তারা কি জাহেলি যুগের ফয়সালা কামনা করে? আল্লাহ অপেক্ষা বিশ্বাসীদের জন্য উত্তম ফয়সালা দানকারী কে?’ (সূরাহ মায়িদাহ, আয়াত নং ৫০)।

৫. রাসূল (সা.)-এর আনীত কোনো বিষয়কে বা সুন্নাত-আদর্শকে অপছন্দ করা বা প্রত্যাখ্যান করা। এটিও কুফর। যেমন-কোনো ব্যক্তি নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, হজও করেছে, কিন্তু জাকাতকে অপছন্দ করে কিংবা পর্দার বিধানকে নারী স্বাধীনতার পথে অন্তরায় মনে করে প্রভৃতি; তাহলে তার ইমান নষ্ট হয়ে যাবে। রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন-‘তোমাদের কেউ ইমানদার হবে না-যতক্ষণ পর্যন্ত আমি যা নিয়ে এসেছি, তার অনুসারী না হবে।’ (কানযুল উম্মাল, হাদিস নং ১০৮৪)।

৬. দ্বীনের কোনো বিষয়কে অবজ্ঞা বা উপহাস করা। এর দ্বারা ইমান নষ্ট হয়ে যায়। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সঙ্গে, তাঁর হুকুম-আহকামের সঙ্গে এবং তাঁর রাসূলের সঙ্গে ঠাট্টা করছিলে? ছলনা করো না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ইমান প্রকাশ করার পর।’ (সূরাহ তাওবা, আয়াত নং ৬৫-৬৬)।

৭. জাদু করা। এটি ইমানধ্বংসী কুফরি কাজ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সুলাইমান (আ.) কুফর করেননি, শয়তানরাই কুফর করেছিল-তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত।’ (সূরাহ বাকারা, আয়াত নং ১০২)।

৮. মুসলিমদের বিপক্ষে বেদ্বীনদের সাহায্য করা বা তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা, এটিও ইমানধ্বংসী কাজ। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করও না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদের পথপ্রদর্শন করেন না।’ (সূরাহ মায়িদাহ, আয়াত নং ৫১)।

৯. কোনো ব্যক্তির জন্য শরিয়তের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করা। যেমন-অনেকে মারেফাতের দাবিদারদের শরিয়তের ঊর্ধ্বে মনে করে। এটি ইমানধ্বংসী বিশ্বাস। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মকে বা জীবনব্যবস্থাকে অবলম্বন করে, কস্মিনকালেও তা তার থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং আখিরাতে সে ক্ষতিগ্রস্ত।’(সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং ৮৫)।

১০. দ্বীন থেকে বিমুখ হওয়া। দ্বীনের ব্যাপারে উদাসীন ও শৈথিল্যকারী হওয়া। এর দ্বারাও ইমান নষ্ট হয়ে যায়। অনেকে নিজেকে মুসলিম দাবি করে অথচ দ্বীন পালন করতে অনীহা দেখায় বা ইসলামের আমলের প্রতি বিমুখতা পোষণ করে, এর দ্বারা তার ইমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব।’ (সূরাহ ত্বহা, আয়াত নং ১২৪)। ইমানের এসব ব্যাপারে মুসলমানের যত্নবান হতে হবে। ইমানের কোনো বিষয়ে ছাড় দেওয়া যায় না। তাই এসব বিষয় মেনে চলা অপরিহার্য।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

মাদ্রাসা হোক শিশুর নিরাপদ আশ্রয়স্থল

মাদ্রাসা হোক শিশুর নিরাপদ আশ্রয়স্থল

আল্লাহ কেন মানুষকে পরীক্ষা করেন?

আল্লাহ কেন মানুষকে পরীক্ষা করেন?

ইলমের বাতিঘর আত্মশুদ্ধির পথপ্রদর্শক আল্লামা মুফতি আবু সাঈদ

আল্লামা মুফতি আবু সাঈদ

পাঁচটি নিয়ামত হারানোর আগে মূল্য দিন

পাঁচটি নিয়ামত হারানোর আগে মূল্য দিন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম