অমর একুশে বইমেলা ২০২৬
শিশুপ্রহরে বায়োস্কোপ ও পাপেটে মাতে শিশুরা
শনিবার নতুন বই এসেছে ৩৮টি
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলা একাডেমিতে শনিবার অমর একুশে বইমেলায় পছন্দের বই দেখছেন তরুণীরা -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অমর একুশে বইমেলার তৃতীয় দিন ছিল শনিবার। ওইদিন সাপ্তাহিক ছুটি ও দ্বিতীয় শিশুপ্রহর থাকায় লেখক-পাঠকের আনাগোনা ছিল বেশ। ফাল্গুনের রোদে সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে কিংবা সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করাতে অভিভাবকরা আসেন বইমেলায়। শিশুরা উপভোগ করে পাপেট থিয়েটার ও বায়োস্কোপ। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলায় ছিল শিশুপ্রহর। পুরো সময়টাজুড়ে পাপেটের (পুতুল নাচ) পরিবেশনা উপভোগ করতে দেখা যায় শিশুদের। এরপর নিজেদের পছন্দের বই কিনতে স্টলে স্টলে যায় তারা। সকাল থেকে দুপুর অব্দি পাঠকের আনাগোনা ছিল কেবল শিশুতোষ স্টলগুলোতে। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলতেই লেখক-পাঠক-প্রকাশকের আনাগোনা বাড়তে থাকে। এই আনাগোনা মেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত ছিল। তবে এই দৃশ্য রোববার থেকে অর্থাৎ কর্মদিবসে থাকবে না- এমনটা মনে করছেন প্রকাশকরা। চারুলিপি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী হুমায়ুন কবীর বলেন, গত বইমেলা অনেক চ্যালেঞ্জ ও সেন্সরের মধ্যে কাটাতে হয়েছে। এবার মেলায় নান্দনিকতার অভাব থাকলেও ভয়ভীতিটা কম। সুতরাং লেখক-পাঠকরা সামনের ছুটির দিনগুলোতে আসবেন, বই দেখবেন, জম্পেস আড্ডা দিবেন-এই অপেক্ষায় আছি। মিরপুর থেকে মেলায় আসা আনোয়ার হোসেন দুই সন্তান লোপা আর নিহালকে পাপেট শো আর বায়োস্কোপ দেখিয়ে স্টলে স্টলে বই দেখাচ্ছিলেন। সন্তানরা বায়না ধরেছে ভূতের বই কিনবে। কিন্তু আনোয়ারের আপত্তি ভূত বলে কিছু নেই। অন্য বই নাও। অবশেষে সন্তানদের আবদারে ‘ভূত অদ্ভুত’ নামের একটি বই কিনে দিতে হলো তাকে। বাসাবো থেকে রেজাউর রহমান তার ছেলেকে নিয়ে এসে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখান। জানতে চাইলে তিনি বলেন, বই পছন্দ করছি, পরবর্তী ছুটির দিনে এসে কিনবো। প্রকাশকদের মতে, বইমেলায় শিশুদের উপস্থিতি শুধু বিক্রি বাড়ায় না, ভবিষ্যৎ পাঠক তৈরিতেও ভূমিকা রাখে। তারা সময় পেলে পরিবারসহ বইমেলায় ঘুরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
মেলায় আসছে নতুন বই : শনিবার নতুন বই এসেছে ৩৮টি। এর মধ্যে নাজিয়া ফেরদৌসের লেখা ‘মারুফুল ইসলামের কবিতা : বিষয় ও শিল্পরূপ’ প্রবন্ধের বইটি প্রকাশ করেছে অন্য প্রকাশ। সাখাওয়াত টিপুর লেখা ‘বোমার দেশে ঘাসের দেশে’ গল্পের বইটি প্রকাশ করেছে ময়ুরপঙ্খি। গবেষক সাইফুল ইসলামের লেখা ‘অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় : বাংলা ইতিহাসচর্চার পথিকৃৎ’ বইটি প্রকাশ করেছে কথা প্রকাশ। সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের লেখা ছোটগল্পের বই ‘ভুলে থাকা গল্প’ প্রকাশ করেছে পাঠক সমাবেশ। সরকার আমিনের লেখা কবিতার বই ‘ঘোড়া হাসে’ প্রকাশ করেছে অন্য প্রকাশ। মোহাম্মদ মিজানের উপন্যাস ‘দুর্গম সীমানা’ প্রকাশ করেছে অনন্য প্রকাশন। খান মাহবুবের সম্পাদনায় এসেছে ‘বৌদ্ধ ভারত’। এটি প্রকাশ করেছে ঐতিহ্য। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বইমেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রাথমিক বাছাই পর্ব। এটি উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। মেলামঞ্চে বিকাল ৩টায় ভাষাসংগ্রামী ও রবীন্দ্রগবেষক আহমদ রফিক স্মরণে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ : আহমদ রফিক’ শীর্ষক আলোচনা সভা। মেলার আরেক আয়োজন, ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন আহমাদ মাযহার। বিকাল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কাজী বুশরা আহমেদ তিথি, ইশরাত শিউলি, জান্নাতুল ফেরদৌস মুক্তা ও নাসিম আহমেদ। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সালাউদ্দিন আহমেদ, শহীদ কবীর পলাশ, ইয়াকুব আলী খান, নন্দিতা মন্ডল, অপর্ণা মজুমদার, নুসরাত জাহান জেরিন ও মো. জাকির হোসেন।
আজকের বইমেলা : আজ ১ মার্চ রোববার মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং শেষ হবে রাত ৯টায়। বিকাল ৩টায় মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ : হামিদুজ্জামান খান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন নাসিমুল খবির। আলোচনায় অংশ নেবেন আইভি জামান। বিকাল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
