Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

শিশুদের আরও একটি আনন্দমুখর দিন

নবম দিনে আসে ১৯৯টি নতুন বই

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শিশুদের আরও একটি আনন্দমুখর দিন

অমর একুশে বইমেলায় শুক্রবার একটি স্টলে বই দেখছে শিশুরা -যুগান্তর

অমর একুশে বইমেলার নবম দিন অর্থাৎ শুক্রবার ছিল শিশুপ্রহর। সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় এদিন বইমেলা প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই শিশু-কিশোর, অভিভাবক ও পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণের শিশুতোষ স্টলগুলোর পাশে কাকতাড়ুয়া থিয়েটার আয়োজিত পাপেট শো ও বায়েস্কোপে মেতে থাকে শিশুরা। এই পরিবেশনা শেষ হওয়ার পর অভিভাবকদের নিয়ে শিশুরা স্টলে স্টলে ভিড় জমায়। কিনে নেয় পছন্দের শিশতোষ বই ও ডিজিটাল ড্রয়িং খাতা-কলম। অন্যদিকে সকাল ১০টায় থেকে বাংলা একাডেমির সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সভাগৃহে অমর একুশে শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার চূড়ান্তপর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক শাখায় ১০ জন, খ শাখায় ১০ জন এবং গ শাখায় ১০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন নাসিম আহমেদ, টিটো মুনশী ও অনন্যা লাবণী পুতুল।

আজ শনিবারও যথারীতি থাকছে শিশুপ্রহর। এদিনটিরও প্রথম ভাগ শিশুদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। তারা ইচ্ছেমতো ঘুরবে, বই কিনবে, পাপেটসহ অন্যান্য পরিবেশনা উপভোগ করবে। আর একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্তপর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে সময় যত যাচ্ছে মেলায় নতুন বই আসছে। মেলার সাজসজ্জায় আসছে পরিবর্তন। তৈরি করা হচ্ছে শিশুদের উপযোগী বসার জায়গা ও ছবি তোলার নানা স্থান। বাড়ছে বিনোদন ও পছন্দের বই। শুক্রবার শিশুতোষ বইসহ ১৯৯টি নতুন বই আসে।

শিশুপ্রহরে একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিভিন্ন স্টলে শিশুদের বই ঘিরে ছিল বিশেষ আগ্রহ। রঙিন ছবি, গল্প, ছড়া ও শিক্ষামূলক বই দেখতে ও কিনতে শিশুদের ভিড় লক্ষ করা যায়। অনেক প্রকাশনা সংস্থা শিশুদের জন্য নতুন বই প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা করে। মিরপুর থেকে আসা কবির হোসেন নামে এক সরকারি চাকরিজীবীকে শিশুদের নিয়ে দিনভর সময় কাটাতে দেখা যায়। তিনি জানান, ছুটির দিন হওয়ায় শিশুদের নিয়ে বইমেলায় ঘুরতে এসেছেন। এতে শিশুরা যেমন আনন্দ পাচ্ছে, তেমনি বইয়ের প্রতি তাদের আগ্রহও বাড়ছে। তিনিও মজা পাচ্ছেন। তার মতে, বাবা হয়ে যাওয়ার পর শিশুদের আনন্দই নিজের আনন্দ।

প্রকাশনা সংস্থা ‘বাবুই’-এর কর্ণধার ও শিশু সাহিত্যিক কাদের বাবু জানান, শিশুপ্রহরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নিজের স্টলে যতসম্ভব শিশুতোষ বই এনেছেন। শিশুরা বইয়ের পাতা উল্টিয়ে দেখছে, কিনছে। এই দৃশ্য অন্যরকম। যদিও বিগত সময়ের চেয়ে এবারের বিক্রি অনেক কম। তবুও ফুলের মতো শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাবার আনন্দ তো আলাদা।

বইমেলার সন্ধ্যার দৃশ্যটা অন্যরকম। এসময় বসন্তের গরম হাওয়া কমে শান্ত-সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়। লেখক-পাঠক-প্রকাশকের আড্ডা জমে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গ্লাস টাওয়ারের ঝলমলে আলো এই আড্ডায় ভিন্নমাত্র যোগ করে। এতে মেলা প্রাঙ্গণটাই আলোকিত হয়ে ওঠে।

সাংবাদিক শারফুল আলমের বই ‘হিমালয় থেকে ইন্টারলেকেন’ : অমর একুশে বইমেলায় এসেছে সাংবাদিক ও ভ্রমণলেখক শারফুল আলমের ভ্রমণবিষয়ক প্রথম বই ‘হিমালয় থেকে ইন্টারলেকেন’। ভ্রমণভিত্তিক এই গ্রন্থে দক্ষিণ এশিয়ার হিমালয় অঞ্চল থেকে শুরু করে ইউরোপের সুইজারল্যান্ডের পর্যটন নগরী ইন্টারলেকেন পর্যন্ত লেখকের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। নেপাল ও ভারতের হিমালয়ঘেঁষা অঞ্চলের পাহাড়ি জীবন, যাত্রাপথের নানা চ্যালেঞ্জ, স্থানীয় মানুষের জীবনধারা এবং ইন্টারলেকেনের নান্দনিক সৌন্দর্য বইটিতে সাবলীল ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। বইটি প্রকাশ করছে আজব প্রকাশনী। শারফুল আলম বলেন, ‘ভ্রমণ শুধু নতুন জায়গা দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষ ও জীবনকে নতুনভাবে জানতে শেখায়। সেই উপলব্ধি থেকেই নিজের অভিজ্ঞতাগুলো বইয়ের পাতায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’ বইমেলার আজব প্রকাশনীর ৬৯৭-৬৯৮ নং স্টলে বইটি পাওয়া যাচ্ছে। এর মূল্য ৩০০ টাকা।

কলিম শরাফী দীর্ঘকাল সংগীত সাধনা করেছেন, সঙ্গীতের জন্য সংগ্রাম করেছেন : বিকেলে বইমেলার মূলমঞ্চে ‘জন্মশতবর্ষ : কলিম শরাফী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে অণিমা রায় বলেন, ‘কলিম শরাফী দীর্ঘকাল সংগীত সাধনা করেছেন, তেমনি সংগীতকে প্রতিষ্ঠিত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন ও সাংস্কৃতিক অবদমনের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল অনমনীয়। অন্যদিকে সংগীতের শুদ্ধতা ও সংযমে অবিচল থেকে এক আদর্শনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে তিনি নিজেকে প্রকাশ করেছেন।

আলোচকের বক্তব্যে সাইম রানা বলেন, ‘শিল্পী হিসেবে কলিম শরাফী সচেতনভাবে রাজনীতির মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছিলেন। বাংলার সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিকতা, প্রজ্ঞা, ব্যক্তিত্ব ও দরাজ কণ্ঠ দিয়ে তিনি মানুষকে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন। রবীন্দ্রসংগীত আন্দোলনের পাশাপাশি সাংগঠনিক এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও এদেশে কিশোর-তরুণদের সংগীতচর্চায় উদ্বুদ্ধ করেছেন।’

সভাপতির বক্তব্যে সাধন ঘোষ বলেন, ‘কলিম শরাফী ছিলেন বাংলাদেশের একজন সর্বজনীন সংগীতগুরু। বহুমাত্রিক প্রতিভা দিয়ে তিনি আমাদের জীবনকে আলোকিত করেছেন। তার সংগীতের মাঝে একজন সত্যিকারের সংগীত সাধকের একাগ্রতা ও নিবিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়।’ অন্যদিকে মেলার নিয়মিত আয়োজন লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন মৃদুল মাহবুব ও এহসান মাহমুদ।

পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন শাহীন রেজা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন শওকত আলী, রবিউল মাশরাফী, রূপশ্রী চক্রবর্তী ও মোহাম্মদ কামাল হোসেন। সংগীত পরিবেশন করেন মহাদেব চন্দ্র ঘোষ, হারুনুর রশিদ, সঞ্চিতা রাখি, রমজান হোসেন, শিরিন জাহান, রতন কুমার সাহা ও নূরতাজ পারভীন। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন এস এম জিয়াউর রহমান (তবলা), আনোয়ার সাহাদাত রবিন (কী-বোর্ড), ফায়জুর রহমান (বাঁশি) ও মেহেদী ইসলাম (অক্টোপ্যাড)।

আজকের বইমেলা : আজ ৭মার্চ শনিবার মেলা শুরু হবে বেলা ১১টায়। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। মেলায় বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকবে শিশুপ্রহর। বিকাল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘জন্মশতবর্ষ : নূরজাহান বেগম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইসরাইল খান। আলোচনায় অংশ নেবেন সোহরাব হাসান। বিকাল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .