স্টলে স্টলে রাজনীতির বই
পাঠকদের বেশি আগ্রহ কথাসাহিত্য ও গবেষণাধর্মীতে
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
অমর একুশের বইমেলায় মঙ্গলবার একটি স্টলে বই দেখছেন পাঠকরা -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফিকশন, উপন্যাস, গল্প, মুক্তিযুদ্ধ, কবিতার পাশাপাশি দেশের সমসাময়িক রাজনীতি, রাজনৈতিক ইতিহাস এবং রাজনৈতিক নেতা-ব্যক্তিত্বসহ ২৩ ক্যাটাগরির নতুন বই অমর একুশে বইমেলায় আসছে। বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী রাজনীতির বইয়ের সংখ্যা ১৬টি হলেও বাস্তবে সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে। প্রকাশকরা জানিয়েছেন, বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রে সব বইয়ের তথ্য দেওয়া হয়নি তাই বাংলা একাডেমির তালিকায় রাজনীতির বইয়ের সংখ্যা কম। কিন্তু স্টলে স্টলে এ ধরনের বইয়ের অভাব নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বইমেলায় রাজনীতির বইয়ের তুলনায় পাঠকদের বেশি আগ্রহ কথাসাহিত্য ও গবেষণার বইয়ে। তবে রাজনৈতিক গবেষণাধর্মী বইয়েরও কদর আছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর বেশকিছু গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে; যা পাঠকের দৃষ্টি কেড়েছে।
মঙ্গলবার মেলায় কথা প্রসঙ্গে কবি সমুন মাহমুদ বলেন, ‘গত ১৭ বছর বিএনপি স্টল পায়নি। এই দলের নেতাদের বই মেলায় আসতে দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় এবার বিএনপি ও বিএনপি নেতাদের নিয়ে বই প্রকাশে আগ্রহী প্রকাশক এবং লেখকরা ইচ্ছামতো বই আনতে পেরেছেন। বইমেলার মতো একটি বৃহত্তর উৎসবে বৈষম্য থাকা উচিত নয়। জাতির মননের প্রতীক বাংলা একাডেমি ‘বহুমাতৃক বাংলাদেশ’ শীর্ষক যে বইমেলার উদ্যোগ নিয়েছে এটা সার্থক করতে অন্য দলের বা নেতার বই প্রকাশে যেন বাধার সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’
বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বইমেলার শুরু থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে ১১৪২টি। রাজনীতির বইয়ের মধ্যে বাবুই প্রকাশনী এনেছে মোরশেদ আলম হৃদয়ের সম্পাদনায় ‘আদর্শের বাতিঘর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’। অয়ন প্রকাশন এনেছে মনিরুজ্জামান বাদলের ‘রাজনীতির জাদুর বাক্স বনাম রাষ্ট্র সংস্কার’। ঐতিহ্য এনেছে শফিকুর রেহমানের ‘সংগ্রামী নেত্রী খালেদা জিয়া’ এবং পাকিস্তানের লেখক ব্রিগেডিয়ার আবদুল রহমান সিদ্দিকীর লেখা ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর অনূদিত ‘পূর্ব পাকিস্তান রক্ষার শেষ যুদ্ধ’। শোভা প্রকাশ থেকে এসেছে কবি, গবেষক ও অগ্রজ সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদারের ‘মওলানা ভাসানী : মাও সে তুং-এর দেশে’, ‘কিশোর মওলানা ভাসানী’ ও ‘জানা অজানা মওলানা ভাসানী’। এছাড়া টাঙ্গন প্রকাশনী থেকে বাবুল বিশ্বাসের নাট্যগ্রন্থ ‘দেখা হবে কমরেড’, শোভা প্রকাশ থেকে ‘লিভিং লিজেন্ড তারেক রহমান : নেতা ও নেতৃত্ব লুক থ্রু’ এবং ‘তারেক রহমানের রাজনীতি : গণ-অভ্যুত্থানের সাবলিমিটি’, এশিয়া পাবলিকেশন থেকে ‘আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জিয়া’ ও ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ জিয়া’, কারুবাক প্রকাশনী থেকে ‘জিয়াউর রহমান ও স্বাধীনতার ঘোষণা : একটি ত্রিমাত্রিক বিশ্লেষণ’ প্রকাশিত হয়েছে। শিকড় প্রকাশনী এনেছে ড. আবদুল লতিফ মাসুমের ‘মহীয়সী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’, ‘জিয়াউর রহমান : দর্শন ও বিপ্লব’, ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি : বেগম খালেদা জিয়া’ এবং এবিএম সোহেল রশিদের ‘কিশোরদের জিয়াউর রহমান’ ও ‘কিশোরদের বেগম খালেদা জিয়া’। এছাড়া অনন্যা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে রাজনৈতিক গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের উপন্যাস ‘শেখ মুজিবের লাল ঘোড়া’।
রাজনীতিবিষয়ক উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে প্রকাশনা সংস্থা সূচিপত্র থেকে প্রকাশিত হয়েছে লেখক ও সাংবাদিক মারুফ কামাল খানের ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’, অনুপ্রাণন প্রকাশনী থেকে মঞ্জু সরকারের ‘শখের বাগানে সাপ’, আদর্শ প্রকাশনী থেকে মারুফ মল্লিকের ‘খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব, উন্নয়ন ও কৌশল’ এবং মারুফ মল্লিক ও এহসান মাহমুদের লেখা ‘আমি কোন আগন্তুক নই’।
‘সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের পঠন-পাঠন ও জ্ঞানের পরিধি ছিল অত্যন্ত ব্যাপক’ : বিকালে বইমেলার মূলমঞ্চে ‘স্মরণ : সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম’ শীর্ষক আলোচনায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহমাদ মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের পঠন-পাঠন ও জ্ঞানের পরিধি ছিল অত্যন্ত ব্যাপক। তার লেখার ভঙ্গিটিও ছিল খুব অন্তরঙ্গ, যে কারণে প্রাবন্ধিক হিসাবে তিনি পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। প্রবন্ধের প্রচলিত কাঠামো ভেঙে তিনি তৈরি করেছিলেন নতুন এক গদ্যভঙ্গি। সমালোচনা-সাহিত্য ও প্রবন্ধ-সাহিত্যকে তিনি সবসময় উঁচু মর্যাদার আসনে রেখেছেন। জীবনভর তিনি নানা বিষয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন। প্রবন্ধ ছাড়াও ছোট গল্প লিখতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তার সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ বিকশিত রূপটি ধরা পড়েছিল গল্প রচনার সময়। তার গল্প ছিল বৈচিত্র্যময়, অভিনব এবং কখনো কখনো অকল্পনীয়। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন একই সঙ্গে শিল্পী এবং ব্যক্তিমানুষ হিসাবে দরদি। তার একটি বড় গুণ হলো তিনি মানুষের ভালো কাজের অকুণ্ঠ প্রশংসা করতে পারতেন। শিক্ষক হিসাবেও তিনি সব সময় সবার প্রতি সমান মনোযোগ ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন। লেখক হিসাবে যেমন, তেমনি শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী হিসাবে এবং সর্বোপরি ব্যক্তিমানুষ হিসাবে তিনি ছিলেন অনেক উচ্চস্থানীয়।’
আলোচকের বক্তব্যে হরিশংকর জলদাস বলেন, ‘সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন ধী-শক্তিসম্পন্ন অমায়িক একজন মানুষ। উপন্যাস, ছোট গল্প, প্রবন্ধ ও নানা তাত্ত্বিক বিষয়ে ছিল তার লেখালেখি। তার উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মানুষ এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক। তার সমগ্র কথা-সাহিত্যে সমাজের ও মানুষের দ্বান্দ্বিকতার নানা বিষয় উঠে এসেছে।’
সভাপতির বক্তব্যে খালিকুজ্জামান ইলিয়াস বলেন, ‘সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন একজন শিক্ষক, সাহিত্যিক ও তাত্ত্বিক। তিনি অসাধারণ চিত্র-সমালোচকও ছিলেন। বহুমাত্রিক চিন্তা ও কর্মের মধ্য দিয়ে তিনি শ্রেণিকক্ষে এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষার্থীদের আলোকিত করেছেন, তাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।’
অন্যদিকে লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন গবেষক ইসরাইল খান ও কবি মুহাম্মদ আবদুল বাতেন। বিকাল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি মজিদ মাহমুদ, মঈনুল হাসান, স্নিগ্ধা বাউল ও ড. নাঈমা খানম। আবৃত্তি পরিবেশন করেন সুস্মিতা জাফর, তাসনোভা তুশিন। ছিল আলী আশরাফ আখন্দের পরিচালনায় জিয়া সাংস্কৃতিক জোটের পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি, দেলোয়ার হোসেন বয়াতি, শার্লি মার্থা রোজারিও, আশীষ শীল, মানসিফ তাজরিয়ান, নোশিন তাবাসসুম ও আসাদুজ্জামান।
আজকের বইমেলা : আজ বুধবার মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায়। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বেলা ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ : এম শমসের আলী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।
