সুনামগঞ্জে এমপির আকস্মিক পরিদর্শন
তিন স্কুলের একটি তালাবদ্ধ, দুটিতে শিক্ষক নেই
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি কামরুজ্জামান কামরুল বৃহস্পতিবার তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন। এ সময় একটি স্কুল তালাবদ্ধ ও অপর দুটিতে শিক্ষার্থী থাকলেও কোনো শিক্ষক পাননি। স্কুলগুলো হচ্ছে যথাক্রমে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার কায়েতকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুগনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আবিদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এমপি মধ্যনগর উপজেলার দুটি এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে বের হয়ে এই চিত্র দেখতে পান। সকাল ৮টায় তিনি তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে স্পিডবোটে রওয়ানা হন। সকাল সাড়ে নয়টায় আবিদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সকাল নয়টা ৪০ মিনিটে দুগনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান।
প্রথম দুটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী থাকলেও কোনো শিক্ষক পাননি। এছাড়া কায়েতকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সবকটি কক্ষ তালাবদ্ধ দেখতে পান।
কায়েতকান্দার প্রধান শিক্ষক রমা সান্যাল জানান, আমরা সব শিক্ষক একসঙ্গে যথাসময়ে প্রতিদিন স্কুলে আসি। বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে আসার সময় ট্রলারের ইঞ্জিনের সমস্যা থাকায় বিদ্যালয়ে আসতে সকাল সোয়া ১০টা বেজে যায়।
আবিদনগরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীপা রানী তালুকদার জানান, আমরা ট্রলারে স্কুলে যাই। আমার স্বামী অসুস্থ থাকায় তাকে ময়মনসিংহ পাঠাতে গিয়ে স্কুলে আসতে কিছুটা দেরি হয়েছে।
দুগনই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনি রানী রায় জানান, উপজেলার মধ্যনগর সদর বাজার থেকে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ট্রলারে নিয়মিত স্কুলে যাই। আমাদের এক শিক্ষকের শ্বশুরের ট্রলারটি আমরা ব্যবহার করি। ট্রলারটি নিজেদেরই চালাতে হয়। স্কুলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে ট্রলারে যান্ত্রিক ক্রটি দেখা দেওয়ায় সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছতে পারিনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে থাকতে হয়। নির্ধারিত সময়ে এই তিনটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা না যাওয়ায় তিন বিদ্যালয়ের ১২ শিক্ষককে ‘শোকজ’ করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব না পেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমপি কামরুল শিক্ষকদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আমাদের হাওরাঞ্চল অন্যান্য এলাকার তুলনায় ৫০ বছর পিছিয়ে আছে। এই এলাকা এগিয়ে নিতে হলে সবাই মিলে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। সব শিক্ষককে নিয়ে এ বিষয়ে একসময় আলোচনা করব।
