ট্রাম্পের ঘোষণা
ইরানে আবারও ‘কঠোর’ আঘাত হানবে যুক্তরাষ্ট্র
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানে আবারও ‘কঠোর’ আঘাত হানার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার রাতে দুপক্ষ পালটাপালটি হামলা চালানোর পর বুধবার তিনি এ ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক পোস্টে বলেছেন, যে কোনো চাপ বা হুমকির বিরুদ্ধে ইরান কঠোরভাবে রুখে দাঁড়াবে। খবর রয়টার্স, এএফপি ও বিবিসির।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন নিশানায় বিমান হামলা চালায়। জবাবে জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে পালটা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। পালটাপালটি হামলার পর ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা গতকাল তাদের ওপর কঠোর আঘাত হেনেছি এবং আজকেও তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, চুক্তির দরকষাকষিতে ইরান সময়ক্ষেপণ করছে। এ জন্য তাদের মূল্য দিতে হবে।
একই হুমকির পুনরাবৃত্তি করে বুধবার তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই (যুক্তরাষ্ট্রের সময়) মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলা চালাবে। একই সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে ইরানের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসাবে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ ও তেল অবকাঠামোগুলোও ভেনিজুয়েলার মতো দখলে নেবে বলেও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এদিন প্রায় আধা ঘণ্টার ব্যবধানে ট্রুথ সোশ্যালে ইরান নিয়ে দুটি পোস্ট দেন ট্রাম্প। প্রথমটিতে ট্রাম্প দরকষাকষিতে দেরি করায় ইরানকে মূল্য চুকাতে হবে উল্লেখ করে লেখেন, ‘ইরানের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে। তাদের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর বড় অংশের কার্যত আর কোনো অস্তিত্বই নেই।’ পরের পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘ইরান কোনো ব্যবসাই করতে পারছে না, তারা সামরিক বাহিনীর বেতন বা অন্য কোনো বিল পরিশোধ করতে পারছে না। তারা দ্রুত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে অভিযোগ করে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘কূটনৈতিক যোগাযোগ’ পুনর্মূল্যায়ন করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ ও ক্রিমিনাল হামলা যুদ্ধবিরতির শুধু লঙ্ঘনই নয়, এটি যুদ্ধবিরতিকে অর্থহীনে পরিণত করেছে। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায়ভার শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বকেই বহন করতে হবে।’
২০ নিশানায় মার্কিন হামলা : সেন্টকম জানায়, মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূলে ইরানের ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। পরে প্রায় ২ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে দুই ক্রুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। হেলিকপ্টার হারানোর প্রতিশোধ নিতে হরমুজ উপকূলে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় প্রায় ৪ ঘণ্টা হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, ইরানের প্রায় ২০টি নিশানায় হামলা চালানো হয়েছে।
২১ নিশানায় ইরানের পালটা জবাব : আইআরজিসি দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। মোট ২১টি নিশানায় এসব হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি আরও জানায়, জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের আল-আজরাক ঘাঁটির চারটি স্থাপনায় তারা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ও একটি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রও ছিল।
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি (পিজিএসএ)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে নতুন সংস্থাটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পিজিএসএ এক পোস্টে বলেছে, ‘এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসনের কারণে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং গত রাতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে হরমুজ প্রণালি।’
