Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর

অপেক্ষা শেষে উদ্বোধন আজ

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অপেক্ষা শেষে উদ্বোধন আজ

ফাইল ছবি

Advertisement

ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে তৈরি ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাদুঘর’ উদ্বোধন আজ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকাল ৯টায় সরাসরি উপস্থিত হয়ে এই জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন। ৬ আগস্ট থেকে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

গণতন্ত্রের মোড়কে ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন ছিল গণভবন। এজন্য ওই ভবনকে জুলাই শহীদ, আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী ও জুলাই যোদ্ধাদের ঘটনাপ্রবাহ প্রদর্শন করা হয়েছে। বিশেষ করে রক্তভেজা পোশাক, আলোকচিত্র-ভিডিও, ব্যানার-প্ল্যাকার্ড ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য স্থান পেয়েছে। উদ্বোধন উপলক্ষ্যে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে। প্রদর্শনীর বিন্যাস, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এবং দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

জুলাই জাদুঘরের কিউরেটর জোহান সাংবাদিকদের বলেছেন, উদ্বোধনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। জাদুঘরের অভ্যন্তরীণ কনটেন্ট ও প্রদর্শনীগুলোর বিন্যাস পরীক্ষামূলক বা ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন উপকরণ সংগ্রহ করে সংযোজন করা হচ্ছে। তিনি জানান, জাদুঘরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন, রক্তভেজা পোশাক, আন্দোলনে ব্যবহৃত ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, পোস্টার, আলোকচিত্র ও ভিডিওচিত্র স্থান পাচ্ছে। পাশাপাশি আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের দলিল, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং ঘটনাপ্রবাহ উপস্থাপন করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জাদুঘরে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিক ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের বিভিন্ন দমন-পীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আলোচিত ঘটনাবলির দলিলও স্থান পাচ্ছে। এসব তথ্য, নথি ও আলোকচিত্রের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি প্রামাণ্য চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে এটাকে আরও সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দর্শনার্থীদের জন্য গাইডেড ট্যুর এবং অনলাইন টিকিটিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাধারণ দর্শনার্থীরা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। ভবিষ্যতে গবেষণা ও তথ্যসংরক্ষণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। জাদুঘরের স্থায়ী জনবল নিয়োগ এখনো সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে কিউরেটর বলেন, উদ্বোধন ও প্রাথমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আপাতত জাতীয় জাদুঘর এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই জাদুঘরের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো অনুমোদনের পর স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর গণভবনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরের মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে আন্দোলনের ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং সে সময়ের বিভিন্ন ঘটনার তথ্য তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম