‘আন্টি’ ডাক, তিন বছরের সন্তানকে হত্যা করল মা
Advertisement
সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাঙ্গাইলের সখীপুরে শিশু আশরাফুলকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মা আকলিমা বেগমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সিদরাতুল নামে আরেক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার খালিয়ার বাইদ (মুজিবনগর মোড়) এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আশরাফুলের বয়স হয়েছিল সাড়ে ৩ বছর। আহত সিদরাতুল আকলিমার আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে সখীপুর থানা পুলিশ আকলিমাকে হেফাজতে নিয়েছে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্র জানায়, শাহীন মিয়া ৩০ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেন। ওই সংসারে কোনো সন্তান না থাকায় পরবর্তীতে প্রথম স্ত্রীর পরামর্শে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমার ঘরে আশরাফুলের জন্ম হয়। তবে আকলিমা বেশির ভাগ সময় ঢাকার একটি গার্মেন্টে চাকরি করায় বাড়িতে থাকতেন না। এ কারণে আশরাফুলকে শাহীন মিয়ার প্রথম স্ত্রী (নাসিমা) লালন-পালন করতেন। তাকে শিশুটি ‘বড়মা’ বলে ডাকত। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আশরাফুল নিজের মাকে ‘আন্টি’ বলে ডাকত। স্থানীয় কয়েকজন জানান, শিশুটি নিজের মাকে ‘আন্টি’ বলে ডাকায় আকলিমার মনে ক্ষোভ বা অভিমান তৈরি হয়ে থাকতে পারে। সেই ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনা ঘটাতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
তবে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো পারিবারিক কলহ ছিল না। তাই ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করলে স্পষ্ট হবে।
ঘটনার বিষয়ে শাহীন মিয়া বলেন, ৩০ বছর পর আল্লাহ আমাকে একটি পুত্রসন্তান দান করেছিলেন। সেই সন্তানকে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে যে, এটা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। শুধু আমার সন্তানই নয়, আকলিমার আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে সিদরাতুলকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।
এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মাত্র সাড়ে ৩ বছরের শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল সখীপুর ও ভালুকা থানার মধ্যবর্তী এলাকায়। ঘটনার পর শিশুটিকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। তার লাশ ওখানেই রয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে শিশুটির মাকে সখীপুর থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ওসি বলেন, আমাদের অন্যান্য আইনি কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
