পাকিস্তানে স্কুল যেন মৃত্যুফাঁদ, ছাদ ধসে ৩৩ শিক্ষার্থী নিহত
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৩ জন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫০ জন।
পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিম হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার শহরটির আল-খায়ের এডুকেশন সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মোহাম্মদ আসিম বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, হতাহত সব শিশুর বয়স ১৪ বছর বা তার কম। দুর্ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উদ্ধার পরিষেবা রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমদ ফাইজি জানান, জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায়- একটি ছাদ আরেকটির ওপর ধসে পড়েছে। এতে নিচের শ্রেণিকক্ষটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা শিশুরা আটকা পড়ে।
দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য ১৬টি অ্যাম্বুলেন্স, দুটি দুর্যোগ মোকাবিলা যান এবং ৬০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক কামাল হায়দার জানান, স্কুলটিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫০। ঠিক কী কারণে স্কুলটির ছাদ ধসে পড়েছে তা জানতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার জন্য নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীকে দায়ী করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা শের আহমেদ। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মূল্যবান প্রাণহানির ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও এ দুর্ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি’ বলে বর্ণনা করেন। শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারও।
সামাজিকমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমাদের শিশুরা সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এমন প্রাণহানি পুরো দেশের জন্যই ট্র্যাজেডি। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা ও দোয়া রইল।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখবে। শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
পাকিস্তানে স্কুল যেন মৃত্যুফাঁদ
দক্ষিণ এশিয়ার ২৪ কোটির বেশি মানুষের দেশ পাকিস্তানে ভবন ও ছাদ ধসের ঘটনা নতুন নয়। মূলত দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নিুমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। চলতি বছরের জুনে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাহোরে একটি শিক্ষাকেন্দ্রের ছাদ ধসে এক ডজনের বেশি শিশু নিহত হয়। এর আগে ২০২৫ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর করাচির দরিদ্র এলাকা লিয়ারিতে পাঁচতলা একটি ভবন ধসে ২৭ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় আহত হয়েছিলেন আরও ১০ জন।
